বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উদ্বোধনের আগেই সিরাজগঞ্জে ২০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ৪০ লাখ টাকার মালপত্র চুরি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামে নির্মিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল উদ্বোধনের আগেই প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসপাতালটি এখনো সরকারিভাবে চালু হয়নি এবং সেখানে কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। হস্তান্তরের পর থেকে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ওয়াশরুমের স্যানিটারি ফিটিংস, বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের সার্কিট ব্রেকার, ৫৫টি বৈদ্যুতিক পাখা, ৯০টি বৈদ্যুতিক বাল্ব, একটি এসির আউটডোর ইউনিট, পাওয়ার স্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার, রান্নাঘরের ফিটিংস, জেনারেটরের তামার কয়েল, ব্যাটারি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তামার তারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। এসব মালপত্রের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী চৌবাড়ী গ্রামে ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিন একর জমির ওপর হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবনটি সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা।
স্থানীয়দের মতে, নির্মাণকাজ শেষ হলেও হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি। ফলে ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং ব্যবহার না হওয়ায় স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া ভবনটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের যাতায়াতের অভিযোগ রয়েছে। তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টারের প্রবেশমুখের দুই প্রান্তে ফাটল দেখা গেছে এবং কয়েকটি কক্ষের জানালার কাচ অনুপস্থিত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন জানান, হাসপাতাল চালু না থাকায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইউএনও ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন আকন্দ জানান, এজাহার গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন জানান, জেলা প্রশাসনের সভায় হাসপাতালটির অর্গানোগ্রাম সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আবেদন পাঠানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে এবং হাসপাতাল এলাকায় দ্রুত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন জানান, চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান জানান, ১০ ও ২০ শয্যার বেশিরভাগ হাসপাতাল এখনো চালু হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় এসব হাসপাতালে জনবল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জনপ্রিয়

চরভদ্রাসন উপজেলা সদর বাজার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত

উদ্বোধনের আগেই সিরাজগঞ্জে ২০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ৪০ লাখ টাকার মালপত্র চুরি

প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামে নির্মিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল উদ্বোধনের আগেই প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসপাতালটি এখনো সরকারিভাবে চালু হয়নি এবং সেখানে কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। হস্তান্তরের পর থেকে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ওয়াশরুমের স্যানিটারি ফিটিংস, বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের সার্কিট ব্রেকার, ৫৫টি বৈদ্যুতিক পাখা, ৯০টি বৈদ্যুতিক বাল্ব, একটি এসির আউটডোর ইউনিট, পাওয়ার স্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার, রান্নাঘরের ফিটিংস, জেনারেটরের তামার কয়েল, ব্যাটারি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের তামার তারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। এসব মালপত্রের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
জানা গেছে, তিন উপজেলার সীমান্তবর্তী চৌবাড়ী গ্রামে ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তিন একর জমির ওপর হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবনটি সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ২১ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা।
স্থানীয়দের মতে, নির্মাণকাজ শেষ হলেও হাসপাতালটি এখনো চালু হয়নি। ফলে ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে এবং ব্যবহার না হওয়ায় স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া ভবনটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের যাতায়াতের অভিযোগ রয়েছে। তিনতলা স্টাফ কোয়ার্টারের প্রবেশমুখের দুই প্রান্তে ফাটল দেখা গেছে এবং কয়েকটি কক্ষের জানালার কাচ অনুপস্থিত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমিন উদ্দিন জানান, হাসপাতাল চালু না থাকায় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইউএনও ও সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন আকন্দ জানান, এজাহার গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপাশা হোসাইন জানান, জেলা প্রশাসনের সভায় হাসপাতালটির অর্গানোগ্রাম সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আবেদন পাঠানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে এবং হাসপাতাল এলাকায় দ্রুত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন জানান, চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান জানান, ১০ ও ২০ শয্যার বেশিরভাগ হাসপাতাল এখনো চালু হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় এসব হাসপাতালে জনবল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।