বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল হাইস্কুলের শীক্ষার্থীদের খেলার মাঠকে ঈদগাহ করার চক্রান্ত রুখে দিবে জনতা

দেশের সর্বববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল  ঐতিহ্যবাহী  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র উন্মুক্ত বলফিল্ড মাঠটি শত বছর এলাকার শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর ও যুবসমাজের খেলাধুলা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রধান কেন্দ্র।  বিদ্যালয় কেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়, বরং এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মাঠ টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পারন করে থাকে।

অভিযোগ উঠেছে, বেনাপোলেেএকটি কুচক্রীমহল এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই বলফিল্ড মাঠটি কুক্ষিগত করতে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, পৌর প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে মাঠটিকে ঈদগাহ মাঠে করতে চাচ্ছেন। ফলে ফুসে উঠেছে এলাকার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন গুলো।

বেনাপোলবাসীর জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সহ ইউএনও ও এসিল্যান্ড বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, যোগাযোগ রক্ষা ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল সহ শীক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে বলফিল্ড মাঠকে ঈদগাহ করার উদ্যোগ বন্ধ করে  মাঠটি খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেনাপোলের বিএনপি পার্টি অফিসে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ্এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত  হয়।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও যুবদলের শারশা উপজেলা আহবায়ক  মোস্তাফিজ-জোহা সংবাাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সেলিম বলেন-সম্প্রতি নির্ভরযোগ্য সূত্রে তারা জেনেছেন যে  বেনাপোল পৌরসভা  প্রশাসক খেলার মাঠটিকে ঈদগাহে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এলাকার হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ  ব্যহত হবে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ক্রীড়া কার্যক্রম ও সামাজিক পরিবেশও নেতিবাচকভাবে প্রভাব পড়বে।

আবেদনের বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনা করে বলফিল্ড মাঠকে পূর্বের ন্যায় খেলার মাঠ হিসেবে বহাল রাখা এবং ঈদগাহে রূপান্তরের উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনায় স্মারকলিপি প্রদাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে যখন ফেসবুকে আলোচনা তীব্র আকার ধারণ করে, ঠিক সেই সময় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ এক ফেসবুক পোস্টে জানান-

“প্রিয় বেনাপোলবাসী, কিছুদিন ধরে ফেসবুকে বেনাপোল বলফিল্ড মাঠকে ঘিরে বেশ কিছু পোস্ট চোখে পড়েছে। এছাড়া বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি পত্র দাখিল করেছেন। সবাই আশঙ্কা করছেন যে, তাদের প্রিয় খেলার মাঠকে পরিবর্তন করে ঈদগাহ মাঠে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে খেলার মাঠটি হারিয়ে যাবে এবং বেনাপোল বলফিল্ড মাঠ তার ঐতিহ্য হারাবে। এ ব্যাপারে আপনাদের কিছু শঙ্কা দূর করার জন্য পোস্টটি দিচ্ছি।

প্রথমত, বিষয়টি নিয়ে কেবল পৌরসভার প্রশাসকের বরাবর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য সরেজমিনে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সকলের মতামত নেওয়া হবে।

আগামী সোমবার (২ মার্চ) এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, বেনাপোলবাসী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করা যেতে পারে। সর্বোপরি এ বিষয়ে কাউকে দ্বিধায় না থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। বিষয়টি কেবল প্রস্তাব পর্যায়েই রয়েছে। এই মাঠ আপনাদের সবার। আপনাদের মতামত নিয়েই এবং সকল বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”

জনপ্রিয়

বেনাপোল হাইস্কুলের শীক্ষার্থীদের খেলার মাঠকে ঈদগাহ করার চক্রান্ত রুখে দিবে জনতা

বেনাপোল হাইস্কুলের শীক্ষার্থীদের খেলার মাঠকে ঈদগাহ করার চক্রান্ত রুখে দিবে জনতা

প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের সর্বববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল  ঐতিহ্যবাহী  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র উন্মুক্ত বলফিল্ড মাঠটি শত বছর এলাকার শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর ও যুবসমাজের খেলাধুলা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রধান কেন্দ্র।  বিদ্যালয় কেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়, বরং এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মাঠ টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পারন করে থাকে।

অভিযোগ উঠেছে, বেনাপোলেেএকটি কুচক্রীমহল এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই বলফিল্ড মাঠটি কুক্ষিগত করতে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, পৌর প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে মাঠটিকে ঈদগাহ মাঠে করতে চাচ্ছেন। ফলে ফুসে উঠেছে এলাকার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন গুলো।

বেনাপোলবাসীর জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সহ ইউএনও ও এসিল্যান্ড বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, যোগাযোগ রক্ষা ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল সহ শীক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে বলফিল্ড মাঠকে ঈদগাহ করার উদ্যোগ বন্ধ করে  মাঠটি খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বেনাপোলের বিএনপি পার্টি অফিসে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ্এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত  হয়।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও যুবদলের শারশা উপজেলা আহবায়ক  মোস্তাফিজ-জোহা সংবাাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সেলিম বলেন-সম্প্রতি নির্ভরযোগ্য সূত্রে তারা জেনেছেন যে  বেনাপোল পৌরসভা  প্রশাসক খেলার মাঠটিকে ঈদগাহে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এলাকার হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ  ব্যহত হবে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যহত হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ক্রীড়া কার্যক্রম ও সামাজিক পরিবেশও নেতিবাচকভাবে প্রভাব পড়বে।

আবেদনের বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনা করে বলফিল্ড মাঠকে পূর্বের ন্যায় খেলার মাঠ হিসেবে বহাল রাখা এবং ঈদগাহে রূপান্তরের উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনায় স্মারকলিপি প্রদাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে যখন ফেসবুকে আলোচনা তীব্র আকার ধারণ করে, ঠিক সেই সময় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ এক ফেসবুক পোস্টে জানান-

“প্রিয় বেনাপোলবাসী, কিছুদিন ধরে ফেসবুকে বেনাপোল বলফিল্ড মাঠকে ঘিরে বেশ কিছু পোস্ট চোখে পড়েছে। এছাড়া বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি পত্র দাখিল করেছেন। সবাই আশঙ্কা করছেন যে, তাদের প্রিয় খেলার মাঠকে পরিবর্তন করে ঈদগাহ মাঠে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে খেলার মাঠটি হারিয়ে যাবে এবং বেনাপোল বলফিল্ড মাঠ তার ঐতিহ্য হারাবে। এ ব্যাপারে আপনাদের কিছু শঙ্কা দূর করার জন্য পোস্টটি দিচ্ছি।

প্রথমত, বিষয়টি নিয়ে কেবল পৌরসভার প্রশাসকের বরাবর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য সরেজমিনে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সকলের মতামত নেওয়া হবে।

আগামী সোমবার (২ মার্চ) এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, বেনাপোলবাসী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করা যেতে পারে। সর্বোপরি এ বিষয়ে কাউকে দ্বিধায় না থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। বিষয়টি কেবল প্রস্তাব পর্যায়েই রয়েছে। এই মাঠ আপনাদের সবার। আপনাদের মতামত নিয়েই এবং সকল বিষয়ে স্পষ্টীকরণ করে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।”