
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা রাজধানীতে করতে দেবে না ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আগামীকাল বুধবার সাঈদীর গায়েবানা জানাজা করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার মাধ্যমে জামায়াতের চরিত্র যে পাল্টায়নি তারা তা আবারও প্রমাণ করল। ২০১২-১৩ সালে তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছিল, মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল, যানবাহনে আগুন দিয়েছিল সেটা আবার পুনরাবৃত্তি করল।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলে বাবার মরদেহ নিতে এসেছিল। তারা পোস্টমর্টেম ছাড়াই মরদেহ নেওয়ার আবেদন করে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিই। এর মধ্যে জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মী দাবি তোলে- তারা ঢাকায় জানাজা করবে। জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি থাকায় আমরা রাতেই জানাজার পড়ার কথা বলি। তখন তারা জানাজার পরিবর্তে মোনাজাত করে।’
‘পরে মরদেহ বের করার সময় তারা অ্যাম্বুলেন্সের সামনে শুয়ে পড়ে। তারা মরদেহ পিরোজপুর নিয়ে যেতে দেবে না বলে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা আমাদের ৪-৫ গাড়ি ভাঙচুর করে, দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। আমাদের কয়েকজন অফিসার আহত হন। তারপরও আমরা অনেক ধর্যের পরিচয় দিই। পরে আমরা টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে মরদেহ পিরোজপুর নেওয়ার ব্যবস্থা করি,’ যোগ করেন খন্দকার গোলাম ফারুক।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী গতকাল সোমবার রাতে ৮টা ৪০ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএসএমইউ) মারা যান।
এর আগে রোববার বিকেলে বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে তাকে বিএসএসএমইউতে পাঠানো হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
ঢাকা ব্যুরো।। 







































