
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কলামনখালী গ্রামের সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় সামিরুল (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা।
গতকাল রোববার দুপুরে কালিয়া উপজেলার বারইহাটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আসামি সামিরুল একই গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে।র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী ওই শিশু তার মাকে খোঁজার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পথিমধ্যে কলামনখালী গ্রামের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ওই শিশুকে একা পেয়ে সামিরুল জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে পাশে একটি বাগানের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে।
এ সময় শিশুটির কান্নাকাটি ও চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ধর্ষণকারী। পরে স্থানীয়রা ওই শিশুকে উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দেন এবং শিশুটিকে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় র্যাব-৬, যশোরের একটি টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বারইহাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে আটক করা হয়।
যশোরের বাঘারপাড়ায় জমিজমা কলহের জেরে চারজন আহত
যশোরের বাঘারপাড়ায় জমিজায়গাহ সংক্রান্ত জেরে চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে বাঘারপাড়া নাড়িকেলবাড়িয়ার পশ্চিমা গ্রামে। আহতরা হলেন ওই গ্রামের আব্দুল ওহাব বিশ্বাস (৭০), স্ত্রী সুর্ফিয়া বেগম (৫৫), ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩৫) ও ছেলের স্ত্রী সাথী বেগম। এর মধ্যে আব্দুল ওহাব যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
আহত আব্দুল ওহাব জানান, আপন ভাই বোনদেরদের সাথে জমি জায়গাহ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। তারই জেরে দুপুরে ভাই অহিদুর বিশ্বাস, তার স্ত্রী শিল্পি বেগম, ছেলে আল আমিন, মেয়ে আছিয়া বেগম ও বোন আখিরুন্নেসা মিলে তাকে কোদাল দিয়ে আঘাত করে। এসময় তার স্ত্রী ও ছেরে- বোউমা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করেন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আব্দুল ওহাবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাইফুর রহমান জানান, তার থুতনিতে জখম ও শরিরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
যশোর খড়কীতে রাতের আধারে গাঁজাবিক্রিকালে এক বিক্রেতা আটক
যশোর শহরের খড়কি এলাকায় কলাবাগানে কালুর মুদি দোকানের সামনে গাঁজা বেচাকেনার অভিযোগে মুন্না গাজী নামে এক গাঁজা বিক্রেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সে শহরের রেলগেট পশ্চিম পাড়া চঞ্চলের বাড়ির ভাড়াটিয়া মৃত রহমান গাজীর ছেলে। এ ঘটনায় কোতয়ালি থানায় শনিবার দিবাগত গভীর রাতে মাদক আইনে মামলা হয়েছে।পুরাতন কসবা পুলিশ,খবর পান কালাবাগান রোডস্থ জনেক কালুর মুদি দোকানের সামনে ঢালাই রাস্তার উপর কতিপয় মাদক বিক্রেতা অবস্থান নিয়ে মাদকদ্রব্য গাঁজা বেচাকেনা করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে রাত সোয়া ১১ টায় পৌছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাঁজা বিক্রেতার মুন্না গাজী পালানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে তার কাছ থেকে ২শ’ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে। রোববার ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুন্না গাজীকে আদালতে সোপর্দ করে।#
অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের নবীন বরণ ও মাইক্রোঅর্গানিজম দিবস পালন
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, লক্ষ্য অর্জনে স্থির থাকো। তুমি যদি নিজেকে সাহায্য করতে না পারো, তাহলে অন্যকেও সাহায্য করতে পারবে না। পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজেকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো।
আজ রোববার বিকেলে যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে বিশ^বিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম দিবস’ ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন। এর আগে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম দিবস সকালে বিভাগটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, তোমরা যদি নিজেদের তৈরি করতে চাও, তাহলে কঠোর পরিশ্রম কর। কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোনো সাফল্যই আসবে না। ভালো টিম গঠনের মাধ্যমেই জীবনের অনেক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে অর্জন করা যায়। বিশে^র সঙ্গে তাল মিলিয়ে যবিপ্রবি গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিশে^র সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানেই আন্তর্জাতিক মানের সকল গবেষণা সম্পূর্ণ হচ্ছে। এ বিভাগের শিক্ষকবৃন্দরা গবেষণায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তোমার এ বিভাগটি বেছে নিয়ে ভুল করোনি।
অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ সভাপতির বক্তব্যে বলেন ‘অণুজীব বিজ্ঞান বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে অনেক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময় তা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশের ঔষধ ও খাদ্য শিল্পে যবিপ্রবির গ্রাজুয়েটদের বিশেষ মূল্যায়ন রয়েছে কারণ আমাদের কারিকুলাম আধুনিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা সময় উপযোগী। এছাড়াও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য স্মার্ট গ্রাজুয়েট হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে যোগ্যরাই টিকে থাকবে। সুতরাং দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।’ আলোচনা সভায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ তানভীর ইসলাম ও ড. অভিনু কিবরিয়া ইসলাম সহ অন্যান্য শিক্ষকগণ নবীনদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিভাগের পরিচিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, একাডেমিক কার্যক্রম, সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শামিনুর রহমান, তনয় চক্রবর্তী, হুমায়রা আনজুমী, সুমাইয়া আফনান জাহিন, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী পূর্ণিমা খাতুন প্রমুখ। নবীন বরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফি মান রাইন। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকালে আন্তর্জাতিক মাইক্রোঅর্গানিজম দিবস’ উপলক্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার কাম একাডেমিক ভবন-কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। #
যশোরে ভুয়া দলিল দিয়ে কানাডা প্রবাসীর জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টা, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
ভুয়া দলিল দিয়ে জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগে সাবেক স্ত্রী ও দলিল লেখকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। রোববার শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার কানাডা প্রবাসী মাসুম হোসেন সিদ্দিক বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহম্মেদ অভিযোগটি পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। এর আগে শরিফা আক্তার প্রিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আদালতে অপহরণের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছিল।
আসামিরা হলো শহরের বেজপাড়া পিয়ারীমোহন রোডের মৃত শফি মিয়ার মেয়ে শরিফা আক্তার প্রিয়া, ছেলে মোমিনুর রহমান, ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে আলিমুজ্জামান লিটু, সিটি কলেজ পাড়ার শামীম আহম্মেগের স্ত্রী তানিয়া পারভীন ও দলিল লেখক আইয়ুব হোসেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, কানাডা প্রবাসী মাসুম হোসেন সিদ্দিক ২০১৫ সালে দেশে এসে স্বামী পরিত্যক্ত মামাতো বোন শরিফা আক্তার প্রিয়াকে বিয়ে করেন। ওই বছরের ১০ নভেম্বর মাসুম হোসেন সিদ্দিক তার বসতবাড়ির ৫ শতক জমি প্রিয়ার নামে হেবা দলিল করে দেন। বিয়ের কিছুদিন পর মাসুম হোসেন সিদ্দিক কানাডা চলে যান। এ সুযোগে স্ত্রী প্রিয়া তার অর্থ সম্পদ আত্মসাত করার ষড়যন্ত্র ও পর পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবর প্রিয়াকে তালাক দেন। এর আগে আত্মীয়স্বজনের মধ্যস্থতায় ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর প্রিয়া ১৪৫৬৮ নম্বর দলিল মুলে মাসুম হোসেন সিদ্দিকে তার দেয়া জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। বর্তমানে এ বাড়ি ও জমি মাসুম হোসেন সিদ্দিকির দললে আছে।গত ১৯ আগস্ট মাসুম হোসেন সিদ্দিকের বাড়িতে যেয়ে আসামিরা দুইটি দলিল দেখিয়ে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। দলিলে একটির ক্রেতা শরিফা আক্তার ও অপর দলিলে শরিফা আক্তারের কাছ থেকে ক্রেতা তানিয়া পারভীন। শলিফা আক্তারের দেয়া দলিলের নাম্বর মিলিয়ে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নকল তুলে দেখা যায় রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে দাতা-গ্রহিতার সাথে আসামিদের দেয়া দলিলের কোন মিল নেই। আসামিরা জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল তৈরী করে জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টা করছেন বলে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।
যশোরে অস্ত্রসহ আটক তামিমের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর
যশোরে অস্ত্রসহ আটক সোহান ওরফে তামিমের একদিনে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সোমবার আসামির রিামন্ড আবেদনের শুনানি শেষে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহেম্মদ এ আদেশ দিয়েছেন। সোহান ওরফে তামিম যশোর সদরের কয়েতখালি গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে যশোরের ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তামিমকে আটক করে। এ সময় তামিমের স্বীকারোক্তিতে একই গ্রামের শফিউর রহমানের ছেলে ইসরাইল হোসেনের ঘরের আলমারির ড্রয়ারের ভিতর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগজিন, এক রাউন্ড গুলি ও তিনটি বার্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডিবির এসআইন নুর ইসলাম বাদী হয়ে আটক তামিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাদ্দাম হোসেন গত ৭ সেপ্টেম্বর আটক তামিমের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। গতকাল আসামির রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নড়াইল সদর হাসপাতালের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রউফকে অভিযুক্ত করে দুদকের চার্জশিট
জ্ঞাত আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জনের মামলায় নড়াইল সদর হাসপাতালের সাবেক প্রশাসিনিক কর্মকর্তা আব্দুর রউফকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন যশোর। মামলার তদন্ত শেষে যশোর জেলা ও দয়রা জজ আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদুকের সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন। অভিযুক্ত আব্দুর রউফ যশোরের ঝিকরগাছার সোনাকুড় গ্রামের মৃত মুন্সি আফছার উদ্দিনে ছেলে। তিনি বর্তমানে সদরের পুলেরহাট তপসীডাঙ্গা গ্রামে বসবাস করেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আব্দুর রউফ ১৯৭৮ সালের ৩ জুলাই যশোরের ঝিকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মালি পদে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নড়াইল সদর হাসপাতালে যোগদান ও অবসর গ্রহণ করেন। আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে আয় বর্হিরভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়ায় দুদক তার কাছে সম্পদের হিসাব বিবরণী চেয়ে নোটিশ করে। আব্দুর রউফ তার নিজ ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে ৩৪টি দলিলে জমি ক্রয়সহ ৪ কোটি ২২ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ টাকার স্থাবর ও ২৬ লাখ ৬০ হাজার ৯৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার ৭০৮ টাকার সম্পদের হিসাব দেন দুদকে। হিসাব বিবরনীর প্রাথমিক তদন্তে আয় বর্হিভুত সম্পদ অর্জনে অভিযোগ মেলায় আব্দুর রউফকে আসামি করে চলতি বছরে দুদক কার্যালয়ে মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, দুদকে আব্দুর রউফের দেয়া সম্পদের তদন্ত করে দেখা গেছে নিজ ও তার উপর নিরর্ভশীর ব্যক্তিদের নামে ঢাকায় ফ্লাট, জমি ক্রয়, গ্রামের বাড়িতে বিল্ডিং, যশোর শহরের বেজাপাড়ায় একটি বাড়ি, পুলেরহাটে দুইটি বাড়ি ও নড়াইল লোহাগাড়ায় একটি বাড়িসহ মোট ৮ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮১ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। এরমধ্যে তিনি বিভিন্ন সময় ১ কোটি ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৪ টাক ঋণগ্রস্থ থাকায় মোট সম্পদের মালিক ৭ কোটি ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৭ টাকার। আব্দুর রউফরে দেয়া হিসাব থেকে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৯৩৬ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। আব্দুর রউফের পেনশনসহ অন্যান্য খাত থেকে বৈধ আয়ের পরিমান ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ৭৬৫ টাকা। আব্দুর রউফ ও তার উপর নিরর্ভশীল ব্যক্তিদের বৈধ আয় বাদ দিয়ে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমান দাড়ায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩২ টাকা। আসামি আব্দুর রউফ নিজ ও তার উপর নিরর্ভশীল ব্যক্তি অবৈধ ভাবে এ সম্পদ অর্জন করে দললে রাখায় তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
যশোরে সোনা চোরাচালান মামলায় দুইজনের ৭ বছর করে কারাদণ্ড
সোনা চোরাচালানের মামলায় ২ চোরকারবারিকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদন্ডও অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছে যশোরে আদালত। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, গোপালগঞ্জের ঘোষের চর উত্তরপাড়ার জাহাঙ্গীর খানের ছেলে মহসিন খান ও শরিয়তপুরের জাজিরার হাজী ছবদের মাদবর কান্দি এলাকার ইব্রাহিম মাদবরের ছেলে ইলিয়াছ আহমেদ।
গতকাল রোববার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ নাজমুল আলম এক রায়ে এ আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের এপিপি কালিদাস মন্ডল।
আসামি পক্ষের আইনজীবী আবু মোর্ত্তজা ছোট জানিয়েছেন, আসামিরা ন্যায় বিচারক থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে আসামিরা খালাস পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই দুইজন পাসপোর্টের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাচ্ছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করেন বেনাপোল কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তারা। আটক দুইজনের স্বীকারোক্তিতে দেহ তল্লাশি করে মহসিন খানের কাছ থেকে ৫পিস ও ইলিয়াছ আহমেদের কাছ থেকে আরও ৫পিস সোনর বার উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ১ কেজি। এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টামসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী বাদী হয়ে আটক দুই জনের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় চোরাচালান দমন আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই দুইজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকতা এসআই শরীফ হাবিবুর রহমান। স্বাক্ষী গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের প্রত্যেককে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড, ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ায় সোনা রাষ্ট্রের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত দুইজন কারাগারে আটক আছে।
যশোর অফিস ।। 







































