শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না 

  • ঢাকা ব্যুরো।।
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  • ১১৯

ঝোড়ো গতিতে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না।

আগামীকাল বুধবার সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর পর তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এ ছাড়া বরিশাল, রংপুরের পীরগঞ্জ এবং মাদারীপুরে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সমকালকে জানিয়েছেন, সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বুধবার হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ সময় তিনি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না।

দলের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটের পর বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। দলের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানিয়েছেন, রংপুরের পীরগঞ্জ ও মাদারীপুরে নির্বাচনী জনসভায়ও ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

নিজেদের যোগ্যতায় নির্বাচনে জয় পেতে হবে
এদিকে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন এমপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় নিজেদের যোগ্যতায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য দল মনোনীত প্রার্থীদের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কাউকে নির্বাচনে জয়ী করার দায়িত্ব আমার নয়। নিজেদের যোগ্যতায় নির্বাচনে জয় পেতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেছেন, দেশ-বিদেশের অনেকেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে ষড়যন্ত্রও অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন শতভাগ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে হবে।

এ সময় জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পর মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এমপি এবং হাবিব হাসান এমপি উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন পটুয়াখালী-১ এবং হাবিব হাসান ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও জাতীয় পার্টির এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও শেরীফা কাদেরের সমর্থনে তাদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে হয়েছে।

‘আমাদের নামটা কাটা পড়লে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান নেত্রী’ 
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এবং হাবিব হাসান দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিভাবক। তিনি জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। তবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী। কিন্তু তাদের আসনে ভোট দিতে হবে লাঙ্গলে। অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের নামটা কাটা পড়লে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান নেত্রী (শেখ হাসিনা)।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-৩ আসনের এমপি নসরুল হামিদ বিপু, চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পারভীন হক সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, বলরাম পোদ্দার ও শাহজাদা মহিউদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর ফোন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি শাহজাহান আলম সাজু এবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু জাতীয় পার্টির আবদুল হামিদের সমর্থনে তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হয়েছে। তিনি সমকালকে জানান, ‘মনটা খুব খারাপ। তবে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোন পেয়ে সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে গেছি। তিনি আমাকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

‘মনে হয় কোন জন্মে পাপ করেছি’
বগুড়া প্রতিনিধি আব্দুল আউয়াল জানিয়েছেন, নৌকা হারিয়ে ‘মনে হয় কোন জন্মে পাপ করেছি’ লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বগুড়ার কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হেলাল উদ্দিন কবিরাজ। তিনি বগুড়া-৪ আসনে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পরেও দলীয় সিদ্ধান্তে জেলা জাসদ (ইনু) সভাপতি এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে তিনি দ্রুতই তা সরিয়ে নেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘মনে কষ্ট পেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই আমার জন্য চূড়ান্ত।’\

জনপ্রিয়

যবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে পালন

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না 

প্রকাশের সময় : ১১:০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩

ঝোড়ো গতিতে নির্বাচনী প্রচার চালাবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না।

আগামীকাল বুধবার সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর পর তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এ ছাড়া বরিশাল, রংপুরের পীরগঞ্জ এবং মাদারীপুরে নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সমকালকে জানিয়েছেন, সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বুধবার হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণের (রহ.) মাজার জিয়ারতের পর সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ সময় তিনি সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা নেবেন না।

দলের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটের পর বরিশালে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। দলের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানিয়েছেন, রংপুরের পীরগঞ্জ ও মাদারীপুরে নির্বাচনী জনসভায়ও ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

নিজেদের যোগ্যতায় নির্বাচনে জয় পেতে হবে
এদিকে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন এমপির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় নিজেদের যোগ্যতায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য দল মনোনীত প্রার্থীদের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কাউকে নির্বাচনে জয়ী করার দায়িত্ব আমার নয়। নিজেদের যোগ্যতায় নির্বাচনে জয় পেতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেছেন, দেশ-বিদেশের অনেকেই আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সেই সঙ্গে ষড়যন্ত্রও অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন শতভাগ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে হবে।

এ সময় জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির পর মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এমপি এবং হাবিব হাসান এমপি উপস্থিত ছিলেন। অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন পটুয়াখালী-১ এবং হাবিব হাসান ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও জাতীয় পার্টির এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও শেরীফা কাদেরের সমর্থনে তাদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে হয়েছে।

‘আমাদের নামটা কাটা পড়লে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান নেত্রী’ 
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এবং হাবিব হাসান দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানান। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিভাবক। তিনি জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। তবে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে আগ্রহী। কিন্তু তাদের আসনে ভোট দিতে হবে লাঙ্গলে। অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের নামটা কাটা পড়লে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান নেত্রী (শেখ হাসিনা)।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা-৩ আসনের এমপি নসরুল হামিদ বিপু, চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পারভীন হক সিকদার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মশিউর রহমান হুমায়ুন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, বলরাম পোদ্দার ও শাহজাদা মহিউদ্দিন।

প্রধানমন্ত্রীর ফোন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি শাহজাহান আলম সাজু এবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। কিন্তু জাতীয় পার্টির আবদুল হামিদের সমর্থনে তাঁকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হয়েছে। তিনি সমকালকে জানান, ‘মনটা খুব খারাপ। তবে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফোন পেয়ে সব দুঃখ-কষ্ট ভুলে গেছি। তিনি আমাকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।’

‘মনে হয় কোন জন্মে পাপ করেছি’
বগুড়া প্রতিনিধি আব্দুল আউয়াল জানিয়েছেন, নৌকা হারিয়ে ‘মনে হয় কোন জন্মে পাপ করেছি’ লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বগুড়ার কাহালু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হেলাল উদ্দিন কবিরাজ। তিনি বগুড়া-৪ আসনে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পরেও দলীয় সিদ্ধান্তে জেলা জাসদ (ইনু) সভাপতি এ কে এম রেজাউল করিম তানসেনের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে তিনি দ্রুতই তা সরিয়ে নেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘মনে কষ্ট পেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছি। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই আমার জন্য চূড়ান্ত।’\