সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙ্গনে সব বিলীন হচ্ছে একের পর এক 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের হাঁট পাচিল গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কৃষক ময়নাল সরদার এভাবেই নিজের নিঃস্ব হওয়ার গল্প বলছিলেন।
তিনি বলেন,পালের গরুবাছুর বেইচা খাইয়্যা শ্যাষ করছি, এহন আমি নিঃস্ব, ভাত পাওয়াই কঠিন। বাড়িটা চইলে গেইলে মাইনসের দ্বারে যাইয়া থাকা লাইগবো।’
শুধু ময়নাল সরদার নয়, ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে ওই এলাকার আরও শতাধিক বসতবাড়ি। এদের মধ্যে অনেকেই বসতঘরসহ জিনিসপত্র সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে গেছেন।
মাসখানেক আগে কোবাদ মাস্টার নামে মধ্যবিত্ত কৃষকের দোতলা ভবন তার চোখের সামনেই নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীগর্ভে চলে গেছে তার বিশাল গরুর খামারটিও।
ফজিলা খাতুন নামে এক বিধবা বলেন, আগে হাঁট পাচিল গ্রামে তার বাড়ি ছিল। চার বছর আগে সেটা ভেঙ্গে যায়। এরপর বাঁধের ওপর আশ্রয় নেয়। পরে স্বামীর চড়ায় জমি ছিল নিজস্ব জমিতে মাটি ফেলে বাড়ি করে। সেই বাড়িটিও নদীগর্ভে যাওয়ার পথে।
জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কমছে যমুনার পানি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীটির পশ্চিম তীরে ভাঙ্গন চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কখনো মৃদু কখনো বা তীব্র ভাঙ্গন একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে কবরস্থান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা।’
হাট পাঁচিলের পাশাপাশি একই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর, পাকড়তলাতেও একইভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। গত একমাসে ধারাবাহিক ভাঙনে ৭শর বেশি বসতবাড়ি, কয়েকশ বিঘা কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও ব্যক্তিগত স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিপুল আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শত শত পরিবার এখন ভূমিহীন।
এদিকে ২০২২ সালে শুরু হওয়া পাউবোর নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণকাজে গাফিলতির কারণে এ অঞ্চলটি ভাঙ্গনের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।’
নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের দাবি, আমরা কোনো সাহায্য চাই না। তাড়াতাড়ি আমাদের বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের বাড়িঘরগুলো ভাঙন থেকে রক্ষা করা হোক।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যমুনায় পানির স্রোত বেশি থাকায় কাজ বন্ধ আছে। এক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে। ভাঙ্গন রোধে আমরা আপাতত সেখানে কিছু জিওব্যাগ ডাম্পিং করেছি। এখন ভাঙ্গনের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে।
জনপ্রিয়

গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন: প্রধান উপদেষ্টা

সিরাজগঞ্জে যমুনার ভাঙ্গনে সব বিলীন হচ্ছে একের পর এক 

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের হাঁট পাচিল গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী কৃষক ময়নাল সরদার এভাবেই নিজের নিঃস্ব হওয়ার গল্প বলছিলেন।
তিনি বলেন,পালের গরুবাছুর বেইচা খাইয়্যা শ্যাষ করছি, এহন আমি নিঃস্ব, ভাত পাওয়াই কঠিন। বাড়িটা চইলে গেইলে মাইনসের দ্বারে যাইয়া থাকা লাইগবো।’
শুধু ময়নাল সরদার নয়, ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে ওই এলাকার আরও শতাধিক বসতবাড়ি। এদের মধ্যে অনেকেই বসতঘরসহ জিনিসপত্র সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে গেছেন।
মাসখানেক আগে কোবাদ মাস্টার নামে মধ্যবিত্ত কৃষকের দোতলা ভবন তার চোখের সামনেই নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীগর্ভে চলে গেছে তার বিশাল গরুর খামারটিও।
ফজিলা খাতুন নামে এক বিধবা বলেন, আগে হাঁট পাচিল গ্রামে তার বাড়ি ছিল। চার বছর আগে সেটা ভেঙ্গে যায়। এরপর বাঁধের ওপর আশ্রয় নেয়। পরে স্বামীর চড়ায় জমি ছিল নিজস্ব জমিতে মাটি ফেলে বাড়ি করে। সেই বাড়িটিও নদীগর্ভে যাওয়ার পথে।
জানা যায়, বর্ষা মৌসুম শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কমছে যমুনার পানি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীটির পশ্চিম তীরে ভাঙ্গন চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কখনো মৃদু কখনো বা তীব্র ভাঙ্গন একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে কবরস্থান, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা।’
হাট পাঁচিলের পাশাপাশি একই উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর, পাকড়তলাতেও একইভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। গত একমাসে ধারাবাহিক ভাঙনে ৭শর বেশি বসতবাড়ি, কয়েকশ বিঘা কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও ব্যক্তিগত স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিপুল আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শত শত পরিবার এখন ভূমিহীন।
এদিকে ২০২২ সালে শুরু হওয়া পাউবোর নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণকাজে গাফিলতির কারণে এ অঞ্চলটি ভাঙ্গনের হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।’
নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের দাবি, আমরা কোনো সাহায্য চাই না। তাড়াতাড়ি আমাদের বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের বাড়িঘরগুলো ভাঙন থেকে রক্ষা করা হোক।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় নদী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যমুনায় পানির স্রোত বেশি থাকায় কাজ বন্ধ আছে। এক মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে। ভাঙ্গন রোধে আমরা আপাতত সেখানে কিছু জিওব্যাগ ডাম্পিং করেছি। এখন ভাঙ্গনের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে।