
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর দেশটির উত্তারাঞ্চল এবং আলাউইতি পর্বতমালার অবস্থান থেকে সেনাদের সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া। তবে দেশটির দুটি প্রধান ঘাঁটি থেকে রাশিয়া সরছে না বলে জানিয়েছেন সিরীয় কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই সংবাদ প্রকাশ করে।
আসাদ পরিবারের সঙ্গে মস্কোর সুদীর্ঘ সম্পর্কের ভিত্তিতে সমর্থন দিয়েছিল রাশিয়া। তবে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ সামরিক ঘাঁটি লাতাকিয়ায় হমিমিম বিমানঘাঁটি এবং তার্তুস নৌঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত শুক্রবারের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, অন্তত দুটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মালবাহী বিমান আন্তোনোভ এন-১২৪ হমিমিম ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। বিমান দুটি মালামাল লোড করতে প্রস্তুত ছিল। কেননা তাদের সামনের দিকের অংশ উন্মুক্ত দেখাচ্ছিল।
এদের মধ্যে একটি বিমান শনিবার লিবিয়ার উদ্দেশে উড়াল দেয় বলে জানিয়েছেন সিরিয়ার এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সিরিয়ার সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রে রয়টার্সকে জানায়, রাশিয়া তার বাহিনীকে সামনের সারি থেকে সরিয়ে নিচ্ছে এবং কিছু ভারী অস্ত্র ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে।
তবে তাদের ভাষায় রাশিয়া এখনো দুটি প্রধান ঘাঁটি থেকে সরে যাচ্ছে না এবং সেগুলোর ব্যাপারে তাদের কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নেই। তারা এখন পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করছে। রুশ সূত্রে রয়টার্সকে জানানো হয়েছে, তারা সিরিয়ার নতুন শাসকদের সঙ্গে তাদের ঘাঁটি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিরিয়ার যুদ্ধের শুরুর দিনগুলো থেকেই রাশিয়া দেশটির প্রতি একটি কৌশলগত মিত্র ছিল এবং তার ঘাঁটিগুলো এখন রাশিয়ার বৈশ্বিক সামরিক উপস্থিতির অংশ। তার্তুস রুশ নৌঘাঁটি ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেটি এখন রাশিয়ার একমাত্র ভূমধ্যসাগরীয় সামরিক অস্ত্র মেরামত এবং সরবরাহ কেন্দ্র।
অন্যদিকে, হমিমিম ঘাঁটি আফ্রিকায় সামরিক এবং ভাড়াটে বাহিনী কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





































