
এম. মতিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো
সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক, আবুধাবি বিএনপির সভাপতি এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে ‘রাঙ্গুনিয়াতে ইসমাইল বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট’ শিরোনামে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অখ্যাত পত্রিকা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে মানহানিকর সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাবের হলরুমে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি বলেন, “আওয়ামী দুঃশ্বাসনের সাথে আপোষ না করায় গত ১৭ বছর দেশে আসতে পারিনি। প্রবাসে থেকেও দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করেছি। দেশেও জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায়ের প্রত্যেক নেতৃবৃন্দ যে যখন যোগাযোগ করেছে কিংবা আমি খবর পেয়েছি তাদের সবার পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। যাদেরকে আমি বেশি সহায়তা করেছি, তারাই আমার পেছনে লেগেছে। দেশে আসার পর থেকে আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে তারা। সাধারণ নেতৃবৃন্দের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতায় ঈর্ষান্বীত হয়ে আমার নিজ দলের কতিপয় নেতৃবৃন্দ ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। এই অপপ্রচার তারই একটা অংশ বলে আমি মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যেও আল্লাহর অশেষ রহমতে বৈধ ব্যবসায়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকার উপর আয় হয়। তাই দেশে কোন জুলুম কিংবা কোন অবৈধ উপার্জন আমার দরকার নেই এবং এর সাথে আমি জড়িতও নয়। এছাড়া নিজাম হাজারীর সাথের যে ছবিটি প্রচার করা হচ্ছে, তাও এডিট করে দেয়া।
তিনি বলেন, কিছুদিন পূর্বে সাংবাদিক পরিচয়ে এক লোক আমার সাথে কথা বলতে চাইলে আমি তার সাথে দেখা করে কথা বলি। নানা কথা বলার একপর্যায়ে সে টাকা দাবী করে। অপরাধী না হয়েও কেনো আমাকে দোষ চাপাচ্ছেন, টাকার জন্য হলে তো এমনিতেই দিতাম। সেখানে তার সাথে কথা বলে চলে আসি। কিছুদিন পর দেখি নাম সর্বস্ব একটি পত্রিকায় আমাকে নিয়ে মনগড়া তথ্য দিয়ে একটা নিউজ প্রকাশ করেছে। সেখানে যেসব কথা তিনি তুলে ধরেছেন তা সম্পূর্ণ, মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন।
ইসমাইল তালুকদার বলেন, “আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ গড়া একজন সৈনিক। ৯৬ সালের পর থেকে নানা হামলা, মামলার পরও আমার নিজ অবস্থান থেকে দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি৷ সেজন্যে আবুধাবি বিএনপি সভাপতির দায়িত্ব ছাড়াও ইউএই কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হিসেবে নয়টি ষ্টেইটের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে আমার থেকে বেশি পরিশ্রম কেউ করেনি। যা সবাই অবগত আছেন।
তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের দেশে আসার পর অন্তত ৭০টি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি সংবর্ধিত হয়েছি। বলা ঠিক হবে না, তারপরও সরফভাটার ছোট-বড় মাদ্রাসা ছাড়াও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসা কিংবা দরিদ্র-অসহায়দের আমি সর্বাত্মক সহায়তা করে যাচ্ছি। আমি কোন গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করি না। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই আমি কাজ করবো৷ মিথ্যা অপপ্রচারের সাথে জড়িতদেরও অচিরেই মুখোশ উন্মোচন করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উত্তরজেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক সেকান্দর হোসেন রানা, পৌরসভা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি গাজী জসিম উদ্দিন, সরফভাটা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি খাইরুল ইসলাম, প্রবাসী বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম টিপু, আহমেদ হোসাইন তালুকদার, জিয়া মঞ্চ সভাপতি আহমেদ ছাফা, ঈমাম গাজ্জালী কলেজের সাবেক জিএস মোহাম্মদ হেলাল, ইলিয়াস মাহমুদ, মোহাম্মদ রাসেল, গিয়াস উদ্দিন, জাহেদুল আলম, জাবের হোসেন, মো. বাবুল, নজরুল ইসলাম, শাহিনুর বেগম প্রমুখ।
এম. মতিন, চট্টগ্রাম ব্যুরো 







































