
জনপ্রিয় কে-পপ তারকা হুইসাং মারা গেছেন। সোমবার (১০ মার্চ) দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এই গায়ককে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মা জরুরি পরিষেবাকে খবর দেওয়ার পর ৪৩ বছর বয়সী এই গায়ককে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে, তবে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
হুইসাংয়ের প্রকৃত নাম চোই হুই-সাং। ২০০২ সালে সংগীতজগতে আত্মপ্রকাশ করেন এবং তার সুললিত কণ্ঠের জন্য দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০০-এর দশকে তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় আরঅ্যান্ডবি সংগীতের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০২ সালে ‘লাইক আ মুভি’ অ্যালবাম দিয়ে অভিষেক ঘটে তার। ‘ইনসোমনিয়া’, ‘হার্টশো স্টোরি’ গানের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।
বছরের পর বছর ধরে হুইসাং কে-পপ তারকাদের পরামর্শদাতা ও কণ্ঠ প্রশিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন এবং তাদের জন্য গানও লিখতেন। তিনি বহু শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন এবং হলিউডসহ বিশ্বব্যাপী কে-পপ কনসার্টেও অংশ নিয়েছেন।
তার এই সপ্তাহান্তে ব্যালাড গায়ক কেসিএম-এর সঙ্গে দায়েগু শহরে একটি কনসার্ট করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই অনন্তলোকের পথে এই শিল্পী।
হুইসাং বিভিন্ন বিতর্কের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। ২০২১ সালে তাকে প্রোপোফল নামে একটি শক্তিশালী চেতনানাশক ওষুধের অপব্যবহারের দায়ে দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়, যা মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর কারণও ছিল।
২০২০ সালের মার্চ ও এপ্রিলে কয়েক দিনের ব্যবধানে হুইসাংকে দুই বার অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার আশপাশে সিরিঞ্জ ও এটোমিডেটের শিশি পাওয়া যায়, যা প্রোপোফলের মতোই একটি ঘুমের ওষুধ।
হুইসাংয়ের মৃত্যুতে কোরিয়ান সংগীত জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গায়ক ইউন মিন-সু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‘ওই জগতে গিয়ে মুক্তভাবে গান গাও এবং সংগীত সৃষ্টি করো। তোমার নির্মল ও বিশুদ্ধ হৃদয় আমি ভুলবো না। একদিন আবার দেখা হবে, একসঙ্গে গান গাইব।’
র্যাপার ভার্বাল জিন্ট ইনস্টাগ্রামে শোকের চিহ্ন পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই ছিল সম্মানের, আমি কৃতজ্ঞ। তুমি অনেক পরিশ্রম করেছ, শান্তিতে বিশ্রাম নাও, হুইসাং।’
বিনোদন ডেস্ক 


























