শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় তিনজনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা

রুকন উদ্দিন কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ২৫/(২)(১)/২৭(২)(১) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫, ইচ্ছাকৃতভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা ও সহায়তা করার অপরাধে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

১৬ জুলাই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

আসামীরা হলেন, গড়াডোবা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মঞ্জুরা আক্তার, দৈনিক বাংলাদেশ পরিক্রমার নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন সরকার ও দৈনিক স্বাধীন কাগজের নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি তানজিলা শাহ্ রুবী।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ২৯ মে আনুমানিক সকাল ১১ টার দিকে গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কেন্দুয়ার উপস্থিতিতে একটি তদন্ত চলাকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী মহিউদ্দিন তালুকদার তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেন এবং অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করতে থাকেন পরবর্তীতে তদন্ত কাজ বন্ধ করার হুমকি প্রদান করেন।

পরবর্তীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বিভিন্ন পোস্ট দেন ও পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য প্রচার করেন।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিষদে কাজের সুবিধা নিতে ও বিভিন্ন বিষয়ে আপোষমূলক চাপ প্রয়োগের জন্য অভিযুক্ত মহিউদ্দিন তালুকদারকে বহুবার ডেকে আনা হয় তানজিলা শাহ রুবি ও মঞ্জুরা
আক্তারের সহযোগিতায়। তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং টাকা-পয়সা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে তদন্ত চলাকালে বিবাদীরা মোবাইল ফোনে বাইরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অফিসের শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করে এবং পরে ফেরত দেয়।
পরবর্তীতে ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন তালুকদার তার ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেন এবং অশালীন মন্তব্য প্রচার করেন। তানজিলা শাহ রুবিও লাইভে এসে মিথ্যা অপপ্রচার চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা ও ব্যক্তিগত মানহানি ঘটানোর কারণে আমি আইনগত আশ্রয় নিয়েছি।”

সাংবাদিক মহিউদ্দিন তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, আমি ও রুবির ব্যাপারে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা। আমরা চাঁদাবাজি করতে যাইনি, চাঁদাবাজিকে কোন সাংবাদিক প্রশ্রয় দেয় না। আমাদের বিরুদ্বে এজাহারে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সাংবাদিক তানজিলা শাহ্ রুবীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও নাম্বার বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মহিলা মেম্বার মঞ্জুরা আক্তার জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এবিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সমাজের ভাল-মন্দ মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরাই তাঁদের দায়িত্ব, তবে তা হতে হবে অবশ্যই সুস্থ ধারার সাংবাদিকতা। যেকোন পেশার ব্যক্তিই হোক না কেন আইন সবার জন্যই সমান, তিনি হোক সরকারি বড় কোন আমলা। যদি কেউ সাংবাদিকতার আড়ালে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও অপ-সাংবাদিকতা শুরু করে তবে তাঁকেও আইনের আওতায় প্রশাসন নিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক।

জনপ্রিয়

তারেক রহমান, শফিকুর রহমান ও নাহিদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ফোনালাপ

কেন্দুয়ায় তিনজনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা

প্রকাশের সময় : ০৮:১১:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫

রুকন উদ্দিন কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:

কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ২৫/(২)(১)/২৭(২)(১) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫, ইচ্ছাকৃতভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রচার ও প্রকাশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা ও সহায়তা করার অপরাধে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

১৬ জুলাই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।

আসামীরা হলেন, গড়াডোবা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মঞ্জুরা আক্তার, দৈনিক বাংলাদেশ পরিক্রমার নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি মহিউদ্দিন সরকার ও দৈনিক স্বাধীন কাগজের নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি তানজিলা শাহ্ রুবী।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত ২৯ মে আনুমানিক সকাল ১১ টার দিকে গড়াডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), কেন্দুয়ার উপস্থিতিতে একটি তদন্ত চলাকালে স্থানীয় এক ব্যক্তি ও সাংবাদিক পরিচয়ধারী মহিউদ্দিন তালুকদার তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেন এবং অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করতে থাকেন পরবর্তীতে তদন্ত কাজ বন্ধ করার হুমকি প্রদান করেন।

পরবর্তীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বিভিন্ন পোস্ট দেন ও পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য প্রচার করেন।

এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিষদে কাজের সুবিধা নিতে ও বিভিন্ন বিষয়ে আপোষমূলক চাপ প্রয়োগের জন্য অভিযুক্ত মহিউদ্দিন তালুকদারকে বহুবার ডেকে আনা হয় তানজিলা শাহ রুবি ও মঞ্জুরা
আক্তারের সহযোগিতায়। তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং টাকা-পয়সা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে তদন্ত চলাকালে বিবাদীরা মোবাইল ফোনে বাইরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অফিসের শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ মোবাইল ফোন সাময়িকভাবে জব্দ করে এবং পরে ফেরত দেয়।
পরবর্তীতে ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন তালুকদার তার ফেসবুক আইডি থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেন এবং অশালীন মন্তব্য প্রচার করেন। তানজিলা শাহ রুবিও লাইভে এসে মিথ্যা অপপ্রচার চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা ও ব্যক্তিগত মানহানি ঘটানোর কারণে আমি আইনগত আশ্রয় নিয়েছি।”

সাংবাদিক মহিউদ্দিন তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, আমি ও রুবির ব্যাপারে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পুর্ণ মিথ্যা। আমরা চাঁদাবাজি করতে যাইনি, চাঁদাবাজিকে কোন সাংবাদিক প্রশ্রয় দেয় না। আমাদের বিরুদ্বে এজাহারে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সাংবাদিক তানজিলা শাহ্ রুবীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও নাম্বার বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মহিলা মেম্বার মঞ্জুরা আক্তার জানান, আমার বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পুর্ন ভিত্তিহীন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এবিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সমাজের ভাল-মন্দ মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরাই তাঁদের দায়িত্ব, তবে তা হতে হবে অবশ্যই সুস্থ ধারার সাংবাদিকতা। যেকোন পেশার ব্যক্তিই হোক না কেন আইন সবার জন্যই সমান, তিনি হোক সরকারি বড় কোন আমলা। যদি কেউ সাংবাদিকতার আড়ালে বিভ্রান্তি ছড়ায় ও অপ-সাংবাদিকতা শুরু করে তবে তাঁকেও আইনের আওতায় প্রশাসন নিয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক।