শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ইবি ক্যাম্পাস

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ’র হত্যার বিচারের দাবিতে  বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিকেলে ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায় সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামীকাল ১১টা থেকে প্রশাসন ভবন অবরোধ করা হবে। ১৬দাবি বাস্তবায়নের আপডেট বা সাজিদ হত্যা বিষয়ে সুষ্ঠু জবাব না দিতে পারলে ক্যাম্পাস শাট ডাউন ঘোষণা করা হবে।

রবিবার (৩ আগষ্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে সমবেত হন তারা।

এসময় আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নেতৃত্বে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রআন্দোলনসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক ছাত্রসংগঠন এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলে ‘আমার ভাই কবরে,খুনি কেন বাহিরে,’ ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, খুনিদের রক্ষা নাই,’ ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সাজিদ হত্যার বিচার চাইসহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় জেরিন তাসনিম পুষ্প বলেন ‘আমার বন্ধুর মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। আমার বন্ধুর মৃত্যু একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই প্রশাসন যদি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করতে না পারে, এই প্রশাসন একটি পঙ্গু প্রশাসন হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করবে। আমরা চাই এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের ফাঁসি। সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি  এবং এই ক্যাম্পাসে আর যেন কোনো সাজিদ প্রাণ না হারায় সেই ব্যাপার নিশ্চিত করুক প্রশাসন।  আমরা চাই পিবিআই-কে সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হোক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্ব-উদ্যোগে মামলা দায়ের করতে হবে।  স্বাভাবিক মৃত্যুর তালবাহানা করে প্রশাসন এতদিন মামলা দায়ের করতে তালবাহানা করেছে। আমরা প্রশাসনের আর কোনো তালবাহানা চাই না। আমরা চাই প্রশাসন স্ব-উদ্যোগে, নিজ থেকে সাজিদের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা করুক।’

আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বলেন,’সাজিদ শুধু সাজিদ নয়, সাজিদ আমাদের ভাই। সাজিদের সিনায় ৩০ পারা কোরআন সে ধরে রেখেছিলো। সাজিদ তার বাবার এবং বংশের একমাত্র সন্তান ছিল। সাজিদকে যারা হত্যা করেছে, সাজিদের মায়ের বুক যারা খালি করেছে তাদের অতি দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে ও  খুনিদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু  বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।  আল কোরআন বিভাগের নেতৃত্বে সাজিদ হত্যার বিচার এবং সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা পর্যন্ত আমরা মাঠে আছি।’

এসময় নূর উদ্দিন বলেন, ‘সাজিদের হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্তের কথা আমরা বহুবার বলে আসছি। যদি পিবিআই কিংবা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকারীদের না ধরা হয়, তাহলে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ক্যাম্পাসকে শাটডাউন করে দেয়া হবে। ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার পরীক্ষা-ক্লাস চলবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বলতে চাই, যদি আপনারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাজিদ হত্যাকারী কাউকে গ্রেপ্তার না করতে পারেন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শাটডাউন করে দেয়া হবে।’

এসময় হাসানুল বান্না অলি বলেন, ‘ এতদিন  ধোঁয়াশার মধ্যে ছিল, এটা মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড। আজকে ফরেনসিক রিপোর্ট আমাদেরকে নিশ্চিত করে দিয়েছে, সাজিদকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি  সিআইডি এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি অথবা পিবিআইয়ের কাছে তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হোক। যেই ব্যক্তি হত্যাকারী , তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হত্যাকারী শনাক্ত ও তার বিচার নিশ্চিত হওয়ার পরে এই ছাত্রজনতা মাঠ ছাড়বে।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা আরো  বলেন, ‘এ ঘটনায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে যে গাফিলতি প্রশাসন দেখিয়েছে এতে প্রশাসনের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নাই। আমরা চাই সাজিদের হত্যাকারীকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি। যদি সুষ্ঠু বিচার না পাই, যদি বিচারের অগ্রগতি আমরা না দেখি, তাহলে আমরা ক্যাম্পাস শাটডাউন করতে বাধ্য হবো।’

জনপ্রিয়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র খুব ভালো আলোচনা হয়েছে: ট্রাম্প

সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল ইবি ক্যাম্পাস

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৮:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেধাবী শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ’র হত্যার বিচারের দাবিতে  বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিকেলে ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায় সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বলেন, আগামীকাল ১১টা থেকে প্রশাসন ভবন অবরোধ করা হবে। ১৬দাবি বাস্তবায়নের আপডেট বা সাজিদ হত্যা বিষয়ে সুষ্ঠু জবাব না দিতে পারলে ক্যাম্পাস শাট ডাউন ঘোষণা করা হবে।

রবিবার (৩ আগষ্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে মিছিলটি বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে সমবেত হন তারা।

এসময় আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নেতৃত্বে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রআন্দোলনসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক ছাত্রসংগঠন এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলে ‘আমার ভাই কবরে,খুনি কেন বাহিরে,’ ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, খুনিদের রক্ষা নাই,’ ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সাজিদ হত্যার বিচার চাইসহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় জেরিন তাসনিম পুষ্প বলেন ‘আমার বন্ধুর মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না। আমার বন্ধুর মৃত্যু একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এই প্রশাসন যদি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করতে না পারে, এই প্রশাসন একটি পঙ্গু প্রশাসন হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করবে। আমরা চাই এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের ফাঁসি। সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি  এবং এই ক্যাম্পাসে আর যেন কোনো সাজিদ প্রাণ না হারায় সেই ব্যাপার নিশ্চিত করুক প্রশাসন।  আমরা চাই পিবিআই-কে সুষ্ঠু তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেয়া হোক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্ব-উদ্যোগে মামলা দায়ের করতে হবে।  স্বাভাবিক মৃত্যুর তালবাহানা করে প্রশাসন এতদিন মামলা দায়ের করতে তালবাহানা করেছে। আমরা প্রশাসনের আর কোনো তালবাহানা চাই না। আমরা চাই প্রশাসন স্ব-উদ্যোগে, নিজ থেকে সাজিদের হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মামলা করুক।’

আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া বলেন,’সাজিদ শুধু সাজিদ নয়, সাজিদ আমাদের ভাই। সাজিদের সিনায় ৩০ পারা কোরআন সে ধরে রেখেছিলো। সাজিদ তার বাবার এবং বংশের একমাত্র সন্তান ছিল। সাজিদকে যারা হত্যা করেছে, সাজিদের মায়ের বুক যারা খালি করেছে তাদের অতি দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে ও  খুনিদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু  বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।  আল কোরআন বিভাগের নেতৃত্বে সাজিদ হত্যার বিচার এবং সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা পর্যন্ত আমরা মাঠে আছি।’

এসময় নূর উদ্দিন বলেন, ‘সাজিদের হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্তের কথা আমরা বহুবার বলে আসছি। যদি পিবিআই কিংবা বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকারীদের না ধরা হয়, তাহলে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ক্যাম্পাসকে শাটডাউন করে দেয়া হবে। ক্যাম্পাসে কোনো প্রকার পরীক্ষা-ক্লাস চলবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বলতে চাই, যদি আপনারা আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাজিদ হত্যাকারী কাউকে গ্রেপ্তার না করতে পারেন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শাটডাউন করে দেয়া হবে।’

এসময় হাসানুল বান্না অলি বলেন, ‘ এতদিন  ধোঁয়াশার মধ্যে ছিল, এটা মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড। আজকে ফরেনসিক রিপোর্ট আমাদেরকে নিশ্চিত করে দিয়েছে, সাজিদকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি  সিআইডি এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি অথবা পিবিআইয়ের কাছে তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হোক। যেই ব্যক্তি হত্যাকারী , তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হত্যাকারী শনাক্ত ও তার বিচার নিশ্চিত হওয়ার পরে এই ছাত্রজনতা মাঠ ছাড়বে।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা আরো  বলেন, ‘এ ঘটনায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে যে গাফিলতি প্রশাসন দেখিয়েছে এতে প্রশাসনের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নাই। আমরা চাই সাজিদের হত্যাকারীকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি। যদি সুষ্ঠু বিচার না পাই, যদি বিচারের অগ্রগতি আমরা না দেখি, তাহলে আমরা ক্যাম্পাস শাটডাউন করতে বাধ্য হবো।’