সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণের নিচে চাপা পড়ে কিশোরের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণের বাক্সের নিচে চাপা পড়ে ১৫ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটি দখলে ইসরাইলের পরিকল্পনার মধ্যেই এমন অমানবিক ঘটনা ঘটল।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৯ আগস্ট) মধ্য গাজার নেটজারিম করিডোরের কাছে আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণের প্যাকেট সরাসরি মুহান্নাদ জাকারিয়া ঈদের ওপর পড়ে।

 আল জাজিরার যাচাইকৃত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার পর স্থানীয়রা মুন্নাহাদের দেহ ঘিরে রেখেছে এবং তার ভাই তাকে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে। আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, নুসাইরাতের আল-আওদা হাসপাতালে মুন্নাহাদের বাবা মরদেহ ধরে কান্নাকাটি করছেন।
 
মুন্নাহাদের ভাই রয়টার্সকে বলেন, ‘ক্ষুধার তাড়নায় আমার ভাই সাহায্য আনতে গিয়েছিল, কিন্তু বিমান থেকে ফেলা ত্রাণের বাক্স সরাসরি তার ওপর পড়ে এবং সে শহীদ হয়।’
 
এ ঘটনার পর আকাশ থেকে ত্রাণ বিতরণের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে দেয়ার পর সবশেষ এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘ বলছে, বিমান থেকে ফেলা বাক্সগুলো বিপজ্জনক, অকার্যকর এবং ব্যয়বহুল। তারা ইসরাইলকে স্থলপথের মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তার অবিচ্ছিন্ন সরবরাহের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
 
গাজায় ইসরাইলের নতুন স্থল অভিযান ঘোষণা ও তীব্র হামলার মধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের জন্য লড়াই করছে। দিনে দিনে বাড়ছে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা। গরম ও পানির তীব্র সংকট তাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গৃহহীনরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন। মা-বাবারা অসুস্থ শিশুদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
 
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ছিটমহলে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১২৪ জন আহত হয়েছেন।
জনপ্রিয়

যশোর-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তৃপ্তি -হাসান ঐক্যবদ্ধ

গাজায় আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণের নিচে চাপা পড়ে কিশোরের মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ১১:৪৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণের বাক্সের নিচে চাপা পড়ে ১৫ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটি দখলে ইসরাইলের পরিকল্পনার মধ্যেই এমন অমানবিক ঘটনা ঘটল।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৯ আগস্ট) মধ্য গাজার নেটজারিম করিডোরের কাছে আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণের প্যাকেট সরাসরি মুহান্নাদ জাকারিয়া ঈদের ওপর পড়ে।

 আল জাজিরার যাচাইকৃত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার পর স্থানীয়রা মুন্নাহাদের দেহ ঘিরে রেখেছে এবং তার ভাই তাকে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে। আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, নুসাইরাতের আল-আওদা হাসপাতালে মুন্নাহাদের বাবা মরদেহ ধরে কান্নাকাটি করছেন।
 
মুন্নাহাদের ভাই রয়টার্সকে বলেন, ‘ক্ষুধার তাড়নায় আমার ভাই সাহায্য আনতে গিয়েছিল, কিন্তু বিমান থেকে ফেলা ত্রাণের বাক্স সরাসরি তার ওপর পড়ে এবং সে শহীদ হয়।’
 
এ ঘটনার পর আকাশ থেকে ত্রাণ বিতরণের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে দেয়ার পর সবশেষ এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘ বলছে, বিমান থেকে ফেলা বাক্সগুলো বিপজ্জনক, অকার্যকর এবং ব্যয়বহুল। তারা ইসরাইলকে স্থলপথের মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তার অবিচ্ছিন্ন সরবরাহের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
 
গাজায় ইসরাইলের নতুন স্থল অভিযান ঘোষণা ও তীব্র হামলার মধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের জন্য লড়াই করছে। দিনে দিনে বাড়ছে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা। গরম ও পানির তীব্র সংকট তাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গৃহহীনরা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন। মা-বাবারা অসুস্থ শিশুদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
 
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ছিটমহলে ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিমান থেকে ত্রাণ ফেলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ১২৪ জন আহত হয়েছেন।