রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্য আলোচনা আটকে গেল

ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। ইতোমধ্যেই এর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বাকি ২৫ শতাংশ শুল্ক (বিশেষত রাশিয়ার তেল আমদানি সংক্রান্ত কারণে) আরোপ করা হবে কি না, তা নির্ভর করছে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

এই শুল্ক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতের উদ্দেশে সফরের কথা ছিল। তবে ৮ আগস্ট ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সফরটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, কারণ মার্কিন পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে রবিবার সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত ওই সফর আপাতত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। একই খবর ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে।

ভারতের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি প্রফিট জানিয়েছে, ২৫-২৯ আগস্ট মার্কিন বাণিজ্য আলোচকদের নয়াদিল্লি সফর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা বিলম্বিত হচ্ছে। আগামী ২৭ আগস্ট ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সময়সীমা শুরু হওয়ার আগে আলোচনা পিছিয়ে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার আশা ম্লান হয়েছে।

কৃষি খাতেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারের দাবি জানাচ্ছে, কিন্তু ভারত সরকার নিজেদের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে এ ব্যাপারে আপস করতে রাজি নয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনার পরও কোনো সমাধান মেলেনি। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কৃষক, জেলে ও পশুপালকদের কল্যাণে কোনও আপস করা হবে না।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও আলোচনার গতিকে প্রভাবিত করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক থেকেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। আলাস্কায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করেছেন, যদি ‘ট্রাম্প-পুতিন আলোচনা ব্যর্থ হয়’, তাহলে ভারতের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরও বাড়তে পারে।

বেসেন্ট ব্লুমবার্গকে বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় হতাশ। আশা করেছিলাম, তিনি আরও গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করবেন। ভারতের রুশ তেল ক্রয়ের কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যদি পরিস্থিতি ভালোভাবে না এগোয়, শুল্ক আরও বাড়তে পারে বা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।”

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের বাণিজ্য আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আশা ও পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত স্থগিত হয়েছে।

জনপ্রিয়

সৌদি আরব লাখ লাখ উটকে কেন পাসপোর্ট দিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্য আলোচনা আটকে গেল

প্রকাশের সময় : ১১:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। ইতোমধ্যেই এর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বাকি ২৫ শতাংশ শুল্ক (বিশেষত রাশিয়ার তেল আমদানি সংক্রান্ত কারণে) আরোপ করা হবে কি না, তা নির্ভর করছে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

এই শুল্ক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারতের উদ্দেশে সফরের কথা ছিল। তবে ৮ আগস্ট ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সফরটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, কারণ মার্কিন পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে রবিবার সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, নির্ধারিত ওই সফর আপাতত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। একই খবর ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে।

ভারতের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি প্রফিট জানিয়েছে, ২৫-২৯ আগস্ট মার্কিন বাণিজ্য আলোচকদের নয়াদিল্লি সফর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা বাতিল করা হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা বিলম্বিত হচ্ছে। আগামী ২৭ আগস্ট ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সময়সীমা শুরু হওয়ার আগে আলোচনা পিছিয়ে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার আশা ম্লান হয়েছে।

কৃষি খাতেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকারের দাবি জানাচ্ছে, কিন্তু ভারত সরকার নিজেদের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে এ ব্যাপারে আপস করতে রাজি নয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনার পরও কোনো সমাধান মেলেনি। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কৃষক, জেলে ও পশুপালকদের কল্যাণে কোনও আপস করা হবে না।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও আলোচনার গতিকে প্রভাবিত করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠক থেকেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। আলাস্কায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করেছেন, যদি ‘ট্রাম্প-পুতিন আলোচনা ব্যর্থ হয়’, তাহলে ভারতের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরও বাড়তে পারে।

বেসেন্ট ব্লুমবার্গকে বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় হতাশ। আশা করেছিলাম, তিনি আরও গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করবেন। ভারতের রুশ তেল ক্রয়ের কারণে দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যদি পরিস্থিতি ভালোভাবে না এগোয়, শুল্ক আরও বাড়তে পারে বা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।”

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের বাণিজ্য আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আশা ও পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত স্থগিত হয়েছে।