শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের মামলা

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক—ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক মার্কিন। তাকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। আর সেটি চ্যালেঞ্জ করেই মামলা করেছেন তিনি। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে এবার এক জটিল আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের কাছে ট্রাম্পের বরখাস্তের আদেশকে ‘অবৈধ ও বাতিল’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক। মামলায় তিনি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকেও বিবাদী করেছেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, কুক তার মর্টগেজ নথি নিয়ে ভুয়া তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী তার কুককে সরানোর ক্ষমতা আছে।

তবে, কুক এর আগে বলেছেন, আইন অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ফেডের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সুদের হার কমাতে অনীহা দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লিসা কুক যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত বোর্ডের সদস্য।

বৃহস্পতিবারের এই মামলা জটিল আইনি প্রশ্ন তুলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। কুকের আইনজীবী অ্যাবে লোওয়েল মামলায় লিখেছেন, এই মামলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজিরবিহীন ও বেআইনি উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করছে। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে ফেড বোর্ডের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ঘটনা ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ আইন স্পষ্টভাবে বলছে, গভর্নরকে সরাতে হলে অবশ্যই ‘যৌক্তিক কারণ’ থাকতে হবে। অথচ সিনেট অনুমোদনের আগে ব্যক্তিগত মর্টগেজ আবেদন নিয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট তার বৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। তার ভাষায়, একজন গভর্নরকে আর্থিক নথিতে মিথ্যা বলার অভিযোগের কারণে সরানো হয়েছে। এতে ফেড বোর্ডের জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে।

আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইচ্ছেমতো ফেড কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করতে পারেন না। তবে ‘যৌক্তিক কারণ থাকলে’ তা করার সুযোগ আছে।

কুকের বিরুদ্ধে আর্থিক নথিতে মিথ্যা বলার অভিযোগ প্রথম আনেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আবাসন নিয়ন্ত্রক বিল পুল্টে। প্রকাশ্য চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, মর্টগেজ সুবিধা নিতে নথি জাল করেছেন লিসা কুক। অভিযোগে বলা হয়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি দুটি আলাদা অঙ্গরাজ্যের বাড়িকেই নিজের ‘প্রধান বাসভবন’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে, তার বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তদন্ত চলছে কিনা, তাও পরিষ্কার নয়।

কুকের দাখিল করা মামলায় এসব অভিযোগের উল্লেখ নেই। তিনি আগেই বলেছিলেন, তাকে সরানোর কোনও আইনগত কারণ নেই। বহু আইনি বিশেষজ্ঞও ট্রাম্পের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

উল্লেখ্য, ফেড বোর্ডে মোট সাতজন গভর্নর আছেন। ১২ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নির্ধারণ করে, তারা সেটিরই অংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই সুদের হার কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পাওয়েলকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। মূলত, আমেরিকানদের ঋণের সুদের হার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঞ্চয় হারে সরাসরি প্রভাব ফেলে ফেডের সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও মার্কিন সুদের হারের ওপর নজর রাখে।

গত জুলাইয়ের শেষ বৈঠকে কুক, পাওয়েল ও কমিটির অধিকাংশ সদস্য ভোট দেন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে।

জনপ্রিয়

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে অনশনে গণঅধিকারের প্রার্থী

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের মামলা

প্রকাশের সময় : ০৪:২১:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক—ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক মার্কিন। তাকে পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। আর সেটি চ্যালেঞ্জ করেই মামলা করেছেন তিনি। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে এবার এক জটিল আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের কাছে ট্রাম্পের বরখাস্তের আদেশকে ‘অবৈধ ও বাতিল’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুক। মামলায় তিনি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকেও বিবাদী করেছেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ, কুক তার মর্টগেজ নথি নিয়ে ভুয়া তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী তার কুককে সরানোর ক্ষমতা আছে।

তবে, কুক এর আগে বলেছেন, আইন অনুযায়ী তাকে বরখাস্ত করার কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

বিজ্ঞাপন

বিবিসি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ফেডের ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সুদের হার কমাতে অনীহা দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লিসা কুক যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার নির্ধারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত বোর্ডের সদস্য।

বৃহস্পতিবারের এই মামলা জটিল আইনি প্রশ্ন তুলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। কুকের আইনজীবী অ্যাবে লোওয়েল মামলায় লিখেছেন, এই মামলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নজিরবিহীন ও বেআইনি উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ করছে। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে ফেড বোর্ডের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ঘটনা ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, ফেডারেল রিজার্ভ আইন স্পষ্টভাবে বলছে, গভর্নরকে সরাতে হলে অবশ্যই ‘যৌক্তিক কারণ’ থাকতে হবে। অথচ সিনেট অনুমোদনের আগে ব্যক্তিগত মর্টগেজ আবেদন নিয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট তার বৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। তার ভাষায়, একজন গভর্নরকে আর্থিক নথিতে মিথ্যা বলার অভিযোগের কারণে সরানো হয়েছে। এতে ফেড বোর্ডের জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে।

আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইচ্ছেমতো ফেড কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করতে পারেন না। তবে ‘যৌক্তিক কারণ থাকলে’ তা করার সুযোগ আছে।

কুকের বিরুদ্ধে আর্থিক নথিতে মিথ্যা বলার অভিযোগ প্রথম আনেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও আবাসন নিয়ন্ত্রক বিল পুল্টে। প্রকাশ্য চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, মর্টগেজ সুবিধা নিতে নথি জাল করেছেন লিসা কুক। অভিযোগে বলা হয়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি দুটি আলাদা অঙ্গরাজ্যের বাড়িকেই নিজের ‘প্রধান বাসভবন’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। তবে, তার বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক মামলা হয়নি, তদন্ত চলছে কিনা, তাও পরিষ্কার নয়।

কুকের দাখিল করা মামলায় এসব অভিযোগের উল্লেখ নেই। তিনি আগেই বলেছিলেন, তাকে সরানোর কোনও আইনগত কারণ নেই। বহু আইনি বিশেষজ্ঞও ট্রাম্পের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

উল্লেখ্য, ফেড বোর্ডে মোট সাতজন গভর্নর আছেন। ১২ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নির্ধারণ করে, তারা সেটিরই অংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই সুদের হার কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পাওয়েলকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। মূলত, আমেরিকানদের ঋণের সুদের হার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঞ্চয় হারে সরাসরি প্রভাব ফেলে ফেডের সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও মার্কিন সুদের হারের ওপর নজর রাখে।

গত জুলাইয়ের শেষ বৈঠকে কুক, পাওয়েল ও কমিটির অধিকাংশ সদস্য ভোট দেন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে।