বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে পারে?

ছবি-সংগৃহীত

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। জুলাই মাসে উচ্চকক্ষের নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে ইশিবাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল তার নিজ দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। যুদ্ধ-পরবর্তী প্রায় পুরো সময় জাপান শাসন করেছে এলডিপি। ইশিবা এক বছরের কম সময় আগে প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু তখন থেকে তার জোট সরকার পার্লামেন্টের দুই কক্ষের নির্বাচনেই পরাজিত হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ফলে এলডিপি সভাপতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হবেন-এমন কোনও নিশ্চয়তা আর নেই। সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে যে বিরোধী দলের কোনও নেতা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির নেতৃত্ব নিতে পারেন। নিচে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা দেওয়া হলো:

ক্ষমতাসীন  লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)

সানায়ে তাকাইচি:

যদি নির্বাচিত হন,তাকাইচি হবেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর এলডিপির নেতৃত্ব নির্বাচনে রান-অফ ভোটে তিনি ইশিবার কাছে হেরে যান।

শিনজিরো কোইজুমি:

শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জাপানের রাজনীতিতে সক্রিয় এক রাজনৈতিক বংশের উত্তরাধিকারী কোইজুমি নির্বাচিত হলে আধুনিক যুগে জাপানের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হবেন।গত বছর এলডিপি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে ২০১৯ সালে জাপানের পারমাণবিক চুল্লি পরিত্যাগের আহ্বান জানান ৪৪ বছর বয়সী শিনজিরো। সেই বছরই তিনি সমালোচিত হন যখন বলেন -জলবায়ু নীতি হতে হবে ‘কুল ও সেক্সি’।

ইওশিমাসা হায়াশি:

হায়াশি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং পরে ইশিবার অধীনে জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কাজ করছেন।

৬৪ বছর বয়সী হায়াশি প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং কৃষিমন্ত্রীর মতো একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন-প্রায়ই সংকটকালে বিকল্প হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ফ্লুয়েন্ট ইংরেজিভাষী হায়াশি মিতুই অ্যান্ড কোম্পানিতে কাজ করেছেন,হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিফেন নীল ও সিনেটর উইলিয়াম রথ জুনিয়রের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

হায়াশি ২০১২ ও ২০২৪ সালে এলডিপি নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেন।

বিরোধী  কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব জাপান

ইওশিহিকো নোদা:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নোদা বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল, কেন্দ্র-বাম কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি এলডিপির সাথে কাজ করে আইন পাস করেন,যাতে জাপানের ভোক্তা কর ১০ শতাংশে দ্বিগুণ করা হয়। বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ কমানোর জন্য – এতে তিনি আর্থিকভাবে কঠোর অবস্থানের খ্যাতি পান। ২০১৯ সালে অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে এই কর ১০ শতাংশে  উন্নীত হয়।

তবে গত জুলাইয়ের উচ্চকক্ষ নির্বাচনে ৬৮ বছর বয়সী নোদা ভিন্ন অবস্থান নেন এবং খাদ্যপণ্যে অস্থায়ী ভোক্তা কর হ্রাসের আহ্বান জানান।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ফর দ্য পিপল

ইউইচিরো তামাকি:

তামাকির কেন্দ্র-ডানপন্থী দল সাম্প্রতিক নির্বাচনে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি পাওয়া দলগুলোর একটি।

সাবেক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আমলা তামাকি ২০১৮ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ফর দ্য পিপল সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মানুষের হাতে আয় বাড়াতে কর অব্যাহতি প্রসারিত এবং ভোক্তা কর হ্রাসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

৫৬ বছর বয়সী তামাকি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি,বিদেশিদের ভূমি অধিগ্রহণে কঠোর নিয়ম এবং আরও বেশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে সমর্থন করেন। সূত্র: রয়টার্স

জনপ্রিয়

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে অনশনে গণঅধিকারের প্রার্থী

জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হতে পারে?

প্রকাশের সময় : ১১:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। জুলাই মাসে উচ্চকক্ষের নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে ইশিবাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল তার নিজ দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)। যুদ্ধ-পরবর্তী প্রায় পুরো সময় জাপান শাসন করেছে এলডিপি। ইশিবা এক বছরের কম সময় আগে প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু তখন থেকে তার জোট সরকার পার্লামেন্টের দুই কক্ষের নির্বাচনেই পরাজিত হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ফলে এলডিপি সভাপতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী হবেন-এমন কোনও নিশ্চয়তা আর নেই। সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে যে বিরোধী দলের কোনও নেতা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির নেতৃত্ব নিতে পারেন। নিচে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা দেওয়া হলো:

ক্ষমতাসীন  লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)

সানায়ে তাকাইচি:

যদি নির্বাচিত হন,তাকাইচি হবেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছর এলডিপির নেতৃত্ব নির্বাচনে রান-অফ ভোটে তিনি ইশিবার কাছে হেরে যান।

শিনজিরো কোইজুমি:

শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জাপানের রাজনীতিতে সক্রিয় এক রাজনৈতিক বংশের উত্তরাধিকারী কোইজুমি নির্বাচিত হলে আধুনিক যুগে জাপানের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হবেন।গত বছর এলডিপি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।

পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে ২০১৯ সালে জাপানের পারমাণবিক চুল্লি পরিত্যাগের আহ্বান জানান ৪৪ বছর বয়সী শিনজিরো। সেই বছরই তিনি সমালোচিত হন যখন বলেন -জলবায়ু নীতি হতে হবে ‘কুল ও সেক্সি’।

ইওশিমাসা হায়াশি:

হায়াশি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং পরে ইশিবার অধীনে জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে কাজ করছেন।

৬৪ বছর বয়সী হায়াশি প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং কৃষিমন্ত্রীর মতো একাধিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন-প্রায়ই সংকটকালে বিকল্প হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ফ্লুয়েন্ট ইংরেজিভাষী হায়াশি মিতুই অ্যান্ড কোম্পানিতে কাজ করেছেন,হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিফেন নীল ও সিনেটর উইলিয়াম রথ জুনিয়রের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

হায়াশি ২০১২ ও ২০২৪ সালে এলডিপি নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেন।

বিরোধী  কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব জাপান

ইওশিহিকো নোদা:

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নোদা বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল, কেন্দ্র-বাম কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি এলডিপির সাথে কাজ করে আইন পাস করেন,যাতে জাপানের ভোক্তা কর ১০ শতাংশে দ্বিগুণ করা হয়। বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ কমানোর জন্য – এতে তিনি আর্থিকভাবে কঠোর অবস্থানের খ্যাতি পান। ২০১৯ সালে অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে এই কর ১০ শতাংশে  উন্নীত হয়।

তবে গত জুলাইয়ের উচ্চকক্ষ নির্বাচনে ৬৮ বছর বয়সী নোদা ভিন্ন অবস্থান নেন এবং খাদ্যপণ্যে অস্থায়ী ভোক্তা কর হ্রাসের আহ্বান জানান।

বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ফর দ্য পিপল

ইউইচিরো তামাকি:

তামাকির কেন্দ্র-ডানপন্থী দল সাম্প্রতিক নির্বাচনে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি পাওয়া দলগুলোর একটি।

সাবেক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আমলা তামাকি ২০১৮ সালে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ফর দ্য পিপল সহ-প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মানুষের হাতে আয় বাড়াতে কর অব্যাহতি প্রসারিত এবং ভোক্তা কর হ্রাসের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

৫৬ বছর বয়সী তামাকি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি,বিদেশিদের ভূমি অধিগ্রহণে কঠোর নিয়ম এবং আরও বেশি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে সমর্থন করেন। সূত্র: রয়টার্স