রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বচ্ছ ও আধুনিক রাজনীতি গড়তে তরুণ উদ্ভাবক সাঈদের যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রস্তাব 

ছবি-সংগৃহীত

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণকে সরাসরি নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার লক্ষ্যে এক উদ্ভাবনী মোবাইল অ্যাপ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত ও দেশসেরা তরুণ উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ আল সাঈদ (সাইদ হাফিজ)। তার মতে, এই অ্যাপ রাজনীতিকে করবে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনকেন্দ্রিক।
এই অ্যাপ নাগরিকদের জন্য ডিজাইন করা হবে যাতে তারা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। নাগরিকরা অ্যাপের মাধ্যমে নীতি, উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধান সংক্রান্ত আইডিয়া জমা দিতে, ভোট দিতে এবং মন্তব্য করতে পারবেন। সবচেয়ে জনপ্রিয় আইডিয়াগুলো দলের কাছে পর্যালোচনার জন্য যাবে এবং “সেরা নাগরিক চিন্তা”–র জন্য সম্মাননা বা পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া জনগণ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মতামত দিতে পারবে, যা দলীয় সিদ্ধান্ত প্রণয়নে প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনের আগে দল প্রতিশ্রুতি দেবে এবং জনগণ ভোটের মাধ্যমে অগ্রাধিকারের তালিকা নির্ধারণ করতে পারবে, লাইভ গ্রাফ ও চার্টের মাধ্যমে ফলাফল দেখা যাবে।
অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা ছবি ও ভিডিওসহ এলাকার সমস্যা রিপোর্ট করতে পারবেন এবং সমাধানের অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে। “লোকাল হিরো” হিসেবে যারা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, তাদের সম্মাননা দেওয়া হবে। এছাড়া নাগরিকরা লিখিত বা অডিও বার্তা দিয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এবং চাইলে গোপনীয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন। অভিযোগ বা পরামর্শ সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো যাবে। সপ্তাহে একদিন দলীয় নেতারা লাইভে এসে জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং জনগণ লাইভ ভোটের মাধ্যমে প্রশ্ন বাছাই করতে পারবে।
নাগরিক শিক্ষাকেন্দ্রে সহজ ভাষায় সংবিধান, অধিকার ও আইন বিষয়ক টিউটোরিয়াল, কুইজ, ভিডিও, কমিক, অ্যানিমেশন এবং “ক্যাম্পেইন গেমিফিকেশন” থাকবে। ছোট মিশনের মাধ্যমে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হবে। আমার প্রতিনিধি সেকশনে জনপ্রতিনিধিদের কাজের রিপোর্ট কার্ড, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। স্বচ্ছতা পোর্টালে দলের অনুদান এবং ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করা হবে, বাজেট তৈরিতে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। ভলান্টিয়ার নেটওয়ার্কে স্বেচ্ছাসেবকরা ডিজিটালি যুক্ত হয়ে পোস্ট শেয়ার, ইভেন্টে অংশ নেওয়া বা লোক জড়ানোর মাধ্যমে পয়েন্ট পাবেন, ব্যাজ, ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং ভিআইপি মিটিংয়ের সুযোগ পাবেন। রিয়েল-টাইম নিউজ ও নোটিফিকেশনের মাধ্যমে দলীয় ঘোষণা, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নির্বাচনী সময়সূচি নাগরিকদের হাতে পৌঁছাবে।
অ্যাপের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শক্তভাবে বজায় রাখা হয়েছে। ইউজারের তথ্য স্বচ্ছ নীতিতে সংরক্ষিত থাকবে, OTP ভিত্তিক ভেরিফিকেশন থাকবে এবং রাজনৈতিক মত প্রকাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ (সাইদ হাফিজ) বলেন, “রাজনীতিকে জনবান্ধব করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এই অ্যাপ জনগণকে দেবে সরাসরি মত প্রকাশের মঞ্চ আর রাজনৈতিক দলগুলো পাবে বিশ্বাসযোগ্যতা ও যুগোপযোগী পরিচয়। কেউ যদি এ বিষয়ে আরও জানতে চান বা মতামত শেয়ার করতে চান, তবে আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন মোবাইল নম্বর ০১৭১১৪৩৫৭৫০-এ।”
তিনি বিশ্বাস করেন, এই অ্যাপ জনগণের মতামতকে সরাসরি নীতি প্রণয়নে প্রভাবশালী করবে, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার বার্তা ছড়াবে, এবং তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করবে।
জনপ্রিয়

যবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে পালন

স্বচ্ছ ও আধুনিক রাজনীতি গড়তে তরুণ উদ্ভাবক সাঈদের যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রস্তাব 

প্রকাশের সময় : ০১:১৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণকে সরাসরি নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার লক্ষ্যে এক উদ্ভাবনী মোবাইল অ্যাপ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন স্বর্ণ পদকপ্রাপ্ত ও দেশসেরা তরুণ উদ্ভাবক আব্দুল্লাহ আল সাঈদ (সাইদ হাফিজ)। তার মতে, এই অ্যাপ রাজনীতিকে করবে স্বচ্ছ, আধুনিক ও জনকেন্দ্রিক।
এই অ্যাপ নাগরিকদের জন্য ডিজাইন করা হবে যাতে তারা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেন। নাগরিকরা অ্যাপের মাধ্যমে নীতি, উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধান সংক্রান্ত আইডিয়া জমা দিতে, ভোট দিতে এবং মন্তব্য করতে পারবেন। সবচেয়ে জনপ্রিয় আইডিয়াগুলো দলের কাছে পর্যালোচনার জন্য যাবে এবং “সেরা নাগরিক চিন্তা”–র জন্য সম্মাননা বা পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া জনগণ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মতামত দিতে পারবে, যা দলীয় সিদ্ধান্ত প্রণয়নে প্রভাব ফেলবে। নির্বাচনের আগে দল প্রতিশ্রুতি দেবে এবং জনগণ ভোটের মাধ্যমে অগ্রাধিকারের তালিকা নির্ধারণ করতে পারবে, লাইভ গ্রাফ ও চার্টের মাধ্যমে ফলাফল দেখা যাবে।
অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা ছবি ও ভিডিওসহ এলাকার সমস্যা রিপোর্ট করতে পারবেন এবং সমাধানের অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করা যাবে। “লোকাল হিরো” হিসেবে যারা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, তাদের সম্মাননা দেওয়া হবে। এছাড়া নাগরিকরা লিখিত বা অডিও বার্তা দিয়ে মতামত প্রকাশ করতে পারবেন এবং চাইলে গোপনীয়ভাবে অংশ নিতে পারবেন। অভিযোগ বা পরামর্শ সরাসরি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো যাবে। সপ্তাহে একদিন দলীয় নেতারা লাইভে এসে জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং জনগণ লাইভ ভোটের মাধ্যমে প্রশ্ন বাছাই করতে পারবে।
নাগরিক শিক্ষাকেন্দ্রে সহজ ভাষায় সংবিধান, অধিকার ও আইন বিষয়ক টিউটোরিয়াল, কুইজ, ভিডিও, কমিক, অ্যানিমেশন এবং “ক্যাম্পেইন গেমিফিকেশন” থাকবে। ছোট মিশনের মাধ্যমে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ উৎসাহিত করা হবে। আমার প্রতিনিধি সেকশনে জনপ্রতিনিধিদের কাজের রিপোর্ট কার্ড, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। স্বচ্ছতা পোর্টালে দলের অনুদান এবং ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করা হবে, বাজেট তৈরিতে জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। ভলান্টিয়ার নেটওয়ার্কে স্বেচ্ছাসেবকরা ডিজিটালি যুক্ত হয়ে পোস্ট শেয়ার, ইভেন্টে অংশ নেওয়া বা লোক জড়ানোর মাধ্যমে পয়েন্ট পাবেন, ব্যাজ, ডিজিটাল সার্টিফিকেট এবং ভিআইপি মিটিংয়ের সুযোগ পাবেন। রিয়েল-টাইম নিউজ ও নোটিফিকেশনের মাধ্যমে দলীয় ঘোষণা, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং নির্বাচনী সময়সূচি নাগরিকদের হাতে পৌঁছাবে।
অ্যাপের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও শক্তভাবে বজায় রাখা হয়েছে। ইউজারের তথ্য স্বচ্ছ নীতিতে সংরক্ষিত থাকবে, OTP ভিত্তিক ভেরিফিকেশন থাকবে এবং রাজনৈতিক মত প্রকাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আব্দুল্লাহ আল সাঈদ (সাইদ হাফিজ) বলেন, “রাজনীতিকে জনবান্ধব করতে হলে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এই অ্যাপ জনগণকে দেবে সরাসরি মত প্রকাশের মঞ্চ আর রাজনৈতিক দলগুলো পাবে বিশ্বাসযোগ্যতা ও যুগোপযোগী পরিচয়। কেউ যদি এ বিষয়ে আরও জানতে চান বা মতামত শেয়ার করতে চান, তবে আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন মোবাইল নম্বর ০১৭১১৪৩৫৭৫০-এ।”
তিনি বিশ্বাস করেন, এই অ্যাপ জনগণের মতামতকে সরাসরি নীতি প্রণয়নে প্রভাবশালী করবে, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার বার্তা ছড়াবে, এবং তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করবে।