
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটির জেরে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ১২ শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার (১৫ই সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের সাধুহাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ঝগড়াঝাটি চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার ওপর বন্ধুদের ঝগড়াঝাটির জেরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় এরশাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি হাতে কাঠের রোল নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী—তামিম আহমেদ ও হানিফ মিয়াকে মারধর করে আহত করেন। এছাড়া আরো অনেকেই আহত হন। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরশাদের সাথে ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি রায়হান।
আহতরা হলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহান আহমেদ, সোহাগ মিয়া, আরিয়ান আহমেদ, তানিম আহমেদ, সালেহ আহমেদ, হুসাইন আহমেদ, হাসান আলি, মারুফ মিয়া, জিহান আহমেদ, হাবিব আহমেদ, এস এম হানিফ, তামিম আহমেদ।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর মা হাছনা বেগম মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত হলেন পূর্ব সাধুহাটি গ্ৰামের সাবেক মেম্বার মৃত ইছমাইল মিয়ার ছেলে এরশাদ মিয়া।
আহত শিক্ষার্থী হানিফের চাচা সুমন আহমদ বলেন, পরীক্ষার আগে স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে তারা পরীক্ষা দিতে যায়, পরীক্ষা দিয়ে বের হলে ছাত্রের মামা পরিচয় দিয়ে এলোপাতাড়ি ১৫-২০ জন ছাত্রকে মারধর করে। আমার ভাতিজা হানিফ গুরুত্বর আহত হয়। আরেক শিক্ষার্থী সোহাগের ৫টা সেলাই লেগেছে।
এ বিষয়ে সাধুহাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিনাশ চন্দ্র দে বলেন, হামলায় কয়েকজন ছাত্র গুরুত্বর আহত হয়েছে। এলাকার মুরব্বিরা বলেছেন বিষয়টি দেখে দিবেন। যিনি মেরেছেন তার ভাগিনা এই স্কুলের ছাত্র পড়ালেখা করেন।
মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মো: মাহবুব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চেষ্টা চলমান রয়েছে।
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: 







































