বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দরিদ্রতার কষাঘাতে নবজাতক বিক্রির চেষ্টা, জেলা প্রশাসকের মানবিক সহায়তায় রক্ষা পেল জমজ শিশু

রুকন উদ্দিন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি 

নেত্রকোণা শহরের নাগড়া আনন্দবাজার এলাকার এক চরম দরিদ্র পরিবার চরম আর্থিক অনটনের কারণে তাদের দুই মাস বয়সী জমজ নবজাতক বিক্রির চেষ্টা করছিল। খাবারের অভাবে মায়ের বুকে দুধ না আসায় সন্তানদের সঠিকভাবে লালনপালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীদের মাধ্যমে শনাক্ত হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান এ খবর শুনে গভীরভাবে ব্যথিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সভা শেষে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক নিজে পরিবারটির বাড়িতে ছুটে যান। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), এনডিসি নেত্রকোণা, উপপরিচালক সমাজসেবা, প্রবেশন অফিসার ও শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরিবারটির করুণ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক পরিবারটির পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। চার সন্তানের মধ্যে অপুষ্টিতে ভোগা বড় সন্তানকে নেত্রকোণা শিশু পরিবারে লালনপালনের জন্য পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি পরিবারটিকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে দুই টিন শিশুখাদ্য, দুই বস্তা শুকনা খাবার এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন।

অসহায় পরিবারের বাসস্থানের করুণ চিত্রও উঠে আসে প্রশাসকের সামনে। সরকারি জায়গায় টিনের খুপচি ঘর, চারদিকে পলিথিনে মোড়ানো, বর্ষায় পানিতে ভেসে যায় ঘর। বাবা কখনো রাজমিস্ত্রীর কাজ, কখনো রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আয় না থাকলে পরিবারকে অনাহারেই দিন কাটাতে হয়। বড় দুই ছেলেকে (৬ ও ৪ বছর বয়সী) দেখে মনে হয় বয়স আরও অল্প, অপুষ্টি ও ক্ষুধায় তারা কৃশকায় ও দুর্বল।
মানবিক আবেগে জেলা প্রশাসক ঘর মেরামতের জন্য টিন এবং একটি রিকশা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর আশ্বাসে পরিবারটি নবজাতক বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “এই সমাজে কোনো শিশুই বিক্রির মুখে পড়ুক, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা তাদের পাশে থাকব।”

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পুরো জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জনপ্রিয়

টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন: মাহদী আমিন

দরিদ্রতার কষাঘাতে নবজাতক বিক্রির চেষ্টা, জেলা প্রশাসকের মানবিক সহায়তায় রক্ষা পেল জমজ শিশু

প্রকাশের সময় : ১২:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রুকন উদ্দিন (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি 

নেত্রকোণা শহরের নাগড়া আনন্দবাজার এলাকার এক চরম দরিদ্র পরিবার চরম আর্থিক অনটনের কারণে তাদের দুই মাস বয়সী জমজ নবজাতক বিক্রির চেষ্টা করছিল। খাবারের অভাবে মায়ের বুকে দুধ না আসায় সন্তানদের সঠিকভাবে লালনপালন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীদের মাধ্যমে শনাক্ত হয়।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে জেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান এ খবর শুনে গভীরভাবে ব্যথিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সভা শেষে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক নিজে পরিবারটির বাড়িতে ছুটে যান। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), এনডিসি নেত্রকোণা, উপপরিচালক সমাজসেবা, প্রবেশন অফিসার ও শিশু সুরক্ষা সমাজকর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরিবারটির করুণ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক পরিবারটির পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন। চার সন্তানের মধ্যে অপুষ্টিতে ভোগা বড় সন্তানকে নেত্রকোণা শিশু পরিবারে লালনপালনের জন্য পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি পরিবারটিকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে দুই টিন শিশুখাদ্য, দুই বস্তা শুকনা খাবার এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন।

অসহায় পরিবারের বাসস্থানের করুণ চিত্রও উঠে আসে প্রশাসকের সামনে। সরকারি জায়গায় টিনের খুপচি ঘর, চারদিকে পলিথিনে মোড়ানো, বর্ষায় পানিতে ভেসে যায় ঘর। বাবা কখনো রাজমিস্ত্রীর কাজ, কখনো রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আয় না থাকলে পরিবারকে অনাহারেই দিন কাটাতে হয়। বড় দুই ছেলেকে (৬ ও ৪ বছর বয়সী) দেখে মনে হয় বয়স আরও অল্প, অপুষ্টি ও ক্ষুধায় তারা কৃশকায় ও দুর্বল।
মানবিক আবেগে জেলা প্রশাসক ঘর মেরামতের জন্য টিন এবং একটি রিকশা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর আশ্বাসে পরিবারটি নবজাতক বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “এই সমাজে কোনো শিশুই বিক্রির মুখে পড়ুক, এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা তাদের পাশে থাকব।”

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পুরো জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।