সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে নদী ইজারা নিয়ে বিতর্ক, বিপাকে মৎস্যজীবীরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গোহালা নদীর আড়াই কিলোমিটার অংশ ইজারা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উধুনিয়া বাজার জামে মসজিদ কমিটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকায় নদীটি ইজারা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে উধুনিয়া বাজারে সর্বজনীন দরপত্রের মাধ্যমে এ ইজারা সম্পন্ন হয়। সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা থেকে দর শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত ইউসুফ আলী মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নদীর অংশটির ইজারা নেন। এর আগে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করে দরপত্রে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ইজারার ফলে অন্তত শতাধিক ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জীবিকা সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ইজারাদারের অনুমতি ছাড়া কেউ মাছ ধরতে পারবে না। এতে দীর্ঘদিন ধরে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে মাছ ধরতে হবে।
এ বিষয়ে ইজারাদার ইউসুফ আলী মোল্লা বলেন, “আমি সর্বোচ্চ দর দিয়েই নদীর ইজারা নিয়েছি, মসজিদ উন্নয়নের তহবিল সংগ্রহের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি হাজি আব্দুল হামিদও একই দাবি করেন।
তবে উল্লাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, কোনো মসজিদ কমিটির নদী ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা রিমা বলেন, সরকারি জলমহাল ডিসেম্বর মাসে নির্ধারিত নিয়মে ইজারা দেওয়া হয়, অন্য কেউ ইজারা দেওয়ার অধিকারী নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, “নদী রাষ্ট্রীয় সম্পদ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নদী ইজারা দিতে পারে না। যদি কেউ দিয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনপ্রিয়

সিরাজদিখানের কুসুমপুরে খালেদা জিয়া স্বরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সিরাজগঞ্জে নদী ইজারা নিয়ে বিতর্ক, বিপাকে মৎস্যজীবীরা

প্রকাশের সময় : ১০:২৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গোহালা নদীর আড়াই কিলোমিটার অংশ ইজারা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উধুনিয়া বাজার জামে মসজিদ কমিটি নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকায় নদীটি ইজারা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দুপুরে উধুনিয়া বাজারে সর্বজনীন দরপত্রের মাধ্যমে এ ইজারা সম্পন্ন হয়। সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা থেকে দর শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত ইউসুফ আলী মোল্লা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নদীর অংশটির ইজারা নেন। এর আগে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করে দরপত্রে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
ইজারার ফলে অন্তত শতাধিক ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জীবিকা সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ইজারাদারের অনুমতি ছাড়া কেউ মাছ ধরতে পারবে না। এতে দীর্ঘদিন ধরে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেদের অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে মাছ ধরতে হবে।
এ বিষয়ে ইজারাদার ইউসুফ আলী মোল্লা বলেন, “আমি সর্বোচ্চ দর দিয়েই নদীর ইজারা নিয়েছি, মসজিদ উন্নয়নের তহবিল সংগ্রহের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি হাজি আব্দুল হামিদও একই দাবি করেন।
তবে উল্লাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, কোনো মসজিদ কমিটির নদী ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা নেই। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা রিমা বলেন, সরকারি জলমহাল ডিসেম্বর মাসে নির্ধারিত নিয়মে ইজারা দেওয়া হয়, অন্য কেউ ইজারা দেওয়ার অধিকারী নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, “নদী রাষ্ট্রীয় সম্পদ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নদী ইজারা দিতে পারে না। যদি কেউ দিয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”