সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অর্থ আত্মসাত ও পাচার মামলায়

এক্সিম ব্যাংকের সাবেক এমডি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

 

৮৫৭ কোটি টাকার অর্থ আত্মসাত ও পাচার মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর ফিরোজ হোসেনকে আজই আদালতে হাজির করা হবে।

দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট এক্সিম ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণ জালিয়াতি ও ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলা করা হয়।

এর আগে এই মামলার প্রধান আসামি নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ ফের এই মামলার আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন: মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটসের প্রোপাইটার মোজাম্মেল হোসাইন, এক্সিম ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. আসাদ মালেক, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা মোসা. জেবুন্নেসা বেগম, ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিসার কাওসার আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আরমান হোসেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনিছুল আলম, অ্যাডিশনাল ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইছরাইল খান ও মো. মঈদুল ইসলাম, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাকসুদা খানম ও মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া।

এছাড়া আরও রয়েছেন সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহ মো. আব্দুল বারি, সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিএফও মো. হুমায়ুন কবীর, সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম স্বপন, সাবেক পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ, পরিচালক মো. নুরুল আমিন, পরিচালক অঞ্জন কুমার সাহা, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মো. নাজমুস ছালেহিন এবং মিয়া মোহাম্মদ কাওছার আলম।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটস’ প্রতিষ্ঠানের অসম্পূর্ণ ঋণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ বা স্টক রিপোর্ট ছাড়াই ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জামানতের শর্ত অমান্য করেন এবং ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও সভাপতি হিসেবে ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ ও বোর্ডের অনুমোদন করিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা (অর্থ আত্মসাৎ), ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদক বলছে, তদন্ত শেষে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের জনসভা অনুষ্ঠিত

অর্থ আত্মসাত ও পাচার মামলায়

এক্সিম ব্যাংকের সাবেক এমডি গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

 

৮৫৭ কোটি টাকার অর্থ আত্মসাত ও পাচার মামলায় এক্সিম ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর ফিরোজ হোসেনকে আজই আদালতে হাজির করা হবে।

দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট এক্সিম ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণ জালিয়াতি ও ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলা করা হয়।

এর আগে এই মামলার প্রধান আসামি নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ ফের এই মামলার আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো।

মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন: মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটসের প্রোপাইটার মোজাম্মেল হোসাইন, এক্সিম ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. আসাদ মালেক, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা মোসা. জেবুন্নেসা বেগম, ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট অফিসার কাওসার আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আরমান হোসেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনিছুল আলম, অ্যাডিশনাল ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইছরাইল খান ও মো. মঈদুল ইসলাম, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাকসুদা খানম ও মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া।

এছাড়া আরও রয়েছেন সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাহ মো. আব্দুল বারি, সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিএফও মো. হুমায়ুন কবীর, সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম স্বপন, সাবেক পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ, পরিচালক মো. নুরুল আমিন, পরিচালক অঞ্জন কুমার সাহা, সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক মো. নাজমুস ছালেহিন এবং মিয়া মোহাম্মদ কাওছার আলম।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটস’ প্রতিষ্ঠানের অসম্পূর্ণ ঋণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই, সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ বা স্টক রিপোর্ট ছাড়াই ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জামানতের শর্ত অমান্য করেন এবং ইনভেস্টমেন্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও সভাপতি হিসেবে ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ ও বোর্ডের অনুমোদন করিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা (অর্থ আত্মসাৎ), ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দুদক বলছে, তদন্ত শেষে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।