মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোংলায় কবি হিমেল বরকত’র মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মারুফ বাবু, মোংলা প্রতিনিধিঃ
অকাল প্রয়াত কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হিমেল বরকতের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে মোংলায়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ৯টায় কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠাখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ মিঠাখালী, মোংলা নাগরিক সমাজ, সম্মিলিত সাস্কৃতিক জোট মোংলা, সর্বদলীয় সম্প্রীতির উদ্যোগে শোভাযাত্রা, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও কবির কবর জিয়ারত করা হয়। পরে শিশুদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা ও বেলা ১০ টায় হিমেল বরকতের বাসায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক ও রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি সুমেল সারাফাত, মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি সাংবাদিক নুর আলম শেখ, শিরিয়া বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম, কবি হিমেলের বাল্যবন্ধু জানে আলম বাবু, মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোটের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বায়জিদ হোসেন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, হিমেল বরকত ছিলেন একাধারে অধ্যাপক, খ্যাতিমান কবি, প্রাবন্ধিক, গীতিকার ও সাহিত্য গবেষক। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই তিনি বাংলা সাহিত্যাংগনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
প্রসঙ্গত, ড. কবি হিমেল বরকত ১৯৭৭ সালের ২৭ জুলাই মোংলার মিঠাখালি জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা- আলহাজ্ব ডাঃ শেখ ওয়ালীউল্লাহ, মাতা আলহাজ্ব শিরিয়া বেগম। বড় ভাই প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। হিমেল বরকত ১৯৯৪ সালে মোংলার সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৯৬ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স সম্পন করে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালের ৫ জুন অধ্যাপক হন। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এখানেই কর্মরত ছিলেন।
কবি ও গবেষক অধ্যাপক ড. হিমেল বরকত’র প্রকাশিত উল্ল্যেখযোগ্য গ্রন্থসমুহ হচ্ছে চোখে চৌদিকে (২০০১), বৈশ্য বিদ্যালয় কাব্যগ্রন্থ (কবি প্রকাশনী-২০১৩), দশ মাতৃক দৃশ্যাবলী (২০১৪), গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রান্তস্বর ব্রাত্যভাবনা (২০১৭), পথ কবিতা বিষয়ক গবেষণাকর্ম সম্পাদন, “গানের ঝরাপাতা” গানের বই ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়, সাহিত্য সমালোচক বুদ্ধদেব বসু গবেষণা গ্রন্থ (২০১৩), ছড়ায় ছড়ায় প্রকৃতির বিস্ময় (অক্ষর প্রকাশনী), ছোট গল্প “আয়না” পরিবার পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয় ৩১ অক্টোবর ২০২০ সালে, কিশোর পাঠ্য রচনা “ছন্দ শেখার হাতেখড়ি” কিশোর বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে, শিশুতোষ গল্প “মায়ের ভাষা” এবং “পেন্সিল ও রাবারের গল্প” প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।
হিমেল বরকত সম্পাদিত গ্রন্থ সমুহ হচ্ছে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনাবলী (২০০৫), কবি ত্রিদিব দস্তিদারের কবিতা সমগ্র (২০০৫), চন্দ্রাবতীর রামায়ণ ও প্রাসঙ্গিক পাঠ (২০১২), রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর শ্রেষ্ঠ কবিতা (২০১২), বাংলাদেশের আদিবাসী কাব্যসংগ্রহ (২০১৩), রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ স্মারকগ্রন্থ (২০১৫) ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রেমের কবিতা নিয়ে অনুকাব্য। এছাড়া অপ্রকাশিত রয়েছে বেশকিছু কবিতার বই ও গান।
কবি হিমেল বরকত ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকার বারডেম হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জনপ্রিয়

রাজবাড়ীতে বিষাক্ত তামাক চাষে ঝুকছে কৃষক, খাদ্য শস্য উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা

মোংলায় কবি হিমেল বরকত’র মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশের সময় : ০১:২৩:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
মারুফ বাবু, মোংলা প্রতিনিধিঃ
অকাল প্রয়াত কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. হিমেল বরকতের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে মোংলায়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাত।
শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ৯টায় কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠাখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ মিঠাখালী, মোংলা নাগরিক সমাজ, সম্মিলিত সাস্কৃতিক জোট মোংলা, সর্বদলীয় সম্প্রীতির উদ্যোগে শোভাযাত্রা, শ্রদ্ধাঞ্জলি ও কবির কবর জিয়ারত করা হয়। পরে শিশুদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা ও বেলা ১০ টায় হিমেল বরকতের বাসায় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক ও রুদ্র স্মৃতি সংসদের সভাপতি সুমেল সারাফাত, মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি সাংবাদিক নুর আলম শেখ, শিরিয়া বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম, কবি হিমেলের বাল্যবন্ধু জানে আলম বাবু, মোংলা সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোটের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বায়জিদ হোসেন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, হিমেল বরকত ছিলেন একাধারে অধ্যাপক, খ্যাতিমান কবি, প্রাবন্ধিক, গীতিকার ও সাহিত্য গবেষক। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই তিনি বাংলা সাহিত্যাংগনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।
প্রসঙ্গত, ড. কবি হিমেল বরকত ১৯৭৭ সালের ২৭ জুলাই মোংলার মিঠাখালি জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা- আলহাজ্ব ডাঃ শেখ ওয়ালীউল্লাহ, মাতা আলহাজ্ব শিরিয়া বেগম। বড় ভাই প্রয়াত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। হিমেল বরকত ১৯৯৪ সালে মোংলার সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৯৬ সালে ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স সম্পন করে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১৮ সালের ৫ জুন অধ্যাপক হন। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এখানেই কর্মরত ছিলেন।
কবি ও গবেষক অধ্যাপক ড. হিমেল বরকত’র প্রকাশিত উল্ল্যেখযোগ্য গ্রন্থসমুহ হচ্ছে চোখে চৌদিকে (২০০১), বৈশ্য বিদ্যালয় কাব্যগ্রন্থ (কবি প্রকাশনী-২০১৩), দশ মাতৃক দৃশ্যাবলী (২০১৪), গবেষণাধর্মী গ্রন্থ প্রান্তস্বর ব্রাত্যভাবনা (২০১৭), পথ কবিতা বিষয়ক গবেষণাকর্ম সম্পাদন, “গানের ঝরাপাতা” গানের বই ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়, সাহিত্য সমালোচক বুদ্ধদেব বসু গবেষণা গ্রন্থ (২০১৩), ছড়ায় ছড়ায় প্রকৃতির বিস্ময় (অক্ষর প্রকাশনী), ছোট গল্প “আয়না” পরিবার পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয় ৩১ অক্টোবর ২০২০ সালে, কিশোর পাঠ্য রচনা “ছন্দ শেখার হাতেখড়ি” কিশোর বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে, শিশুতোষ গল্প “মায়ের ভাষা” এবং “পেন্সিল ও রাবারের গল্প” প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে।
হিমেল বরকত সম্পাদিত গ্রন্থ সমুহ হচ্ছে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচনাবলী (২০০৫), কবি ত্রিদিব দস্তিদারের কবিতা সমগ্র (২০০৫), চন্দ্রাবতীর রামায়ণ ও প্রাসঙ্গিক পাঠ (২০১২), রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর শ্রেষ্ঠ কবিতা (২০১২), বাংলাদেশের আদিবাসী কাব্যসংগ্রহ (২০১৩), রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ স্মারকগ্রন্থ (২০১৫) ও রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রেমের কবিতা নিয়ে অনুকাব্য। এছাড়া অপ্রকাশিত রয়েছে বেশকিছু কবিতার বই ও গান।
কবি হিমেল বরকত ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকার বারডেম হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।