রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেঙে গেলো ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা মুনমুনের সংসার

মো:মতিয়ার রহমান #

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মসজিদের সামনে নেচে গেল কয়েকদিন ধরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা মুনমুন। এই সমালোচনা শেষ না হতেই এবার সামনে এলো তার বিচ্ছেদের খবর। ভেঙে গেল এই নায়িকার দ্বিতীয় সংসার। ঈদুল আজহার দুইদিন পর তাদের বিচ্ছেদ হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন মুনমুন নিজেই।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর আমরা একসঙ্গে ছিলাম। কেউ চায় না সংসার ভেঙে যাক। যেখানে একটা সন্তানও রয়েছে আমার। পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনেক চেষ্টা করেছি। বারবার চেয়েছি রোবেন বুঝুক কিন্ত সে বেপরোয়া। বাধ্য হয়ে তাকে ডিভোর্স দিতে হলো।

‘রানি কেন ডাকাত’খ্যাত এ নায়িকা জানান, তার স্বামী রোবেন পেশায় একজন শৌখিন মডেল। তার সঙ্গে যাত্রা ও স্টেজ শো-তে কাজ করতে গিয়ে মুনমুনের পরিচয় ও প্রেম-বিয়ে। কিন্তু সংসার শুরু করার পর থেকেই রোবেন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। স্বার্থপর রোবেন সংসারের দিকে মনোযোগ ছিলেন না। তিনি সিনেমাও বানাতে চাইতেন যার অর্থের যোগান দিতেন মুনমুন। বেশ কয়েকবার সিনেমার পরিকল্পনা করেছেন। টাকাও নষ্ট করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হতো না। এসব নিয়ে মুনমুনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হতো।

রোবেন অনেক সময় মুনমুনকে মারধরও করতেন বলে জানান মুনমুন। এ নায়িকা বলেন, তার জন্য আমি অনেক স্যাক্রিফাইস করেছি। আসলে আমি চেয়েছি সংসারটি টিকে থাকুক। তার সুবিধার জন্য আমার নিজের একটি ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়েছিলাম ও স্টুডিও করবে বলে। বিভিন্নভাবে টাকা পয়সা দিতাম। কিন্তু সে কিছুই করতে পারলো না। উল্টো তার হতাশা সে আমার উপর ক্ষোভ হিসেবে প্রয়োগ করেছে।

‘আমার উপর শারীরিক নির্যাতনও করতো সে। এটা আমি মেনে নিতে পারতাম না। ঝগড়া হতো। একবার ছাড়াছাড়ির সিদ্ধান্ত নিলাম। তখন চার বছর সেপারেশনে ছিলাম। হঠাৎ সে যোগাযোগ করলো। বললো সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। আবারো সে ফিরে আসে আমার ফ্ল্যাটে। কিছুদিন না যেতেই আগের মতো হয়ে গেল। সব মিলিয়ে দেখলাম রোবেনের সঙ্গে আর একসঙ্গে থাকা সম্ভব না। শারীরিক নির্যাতনের মাত্রাও দিনদিন বেড়ে যাচ্ছিলো। তাই ওকে ডিভোর্স দিয়েছি।’

মুনমুন ২০০৩ সালে সিলেটের একজন ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। সিনেমায় অনিয়মিত হওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। ২০০৬ সালে সেই সংসার ভেঙে যয় মুনমুনের। এরপর দেশে ফিরে আসেন। যোগ দেন যাত্রা ও স্টেজ শো-তে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় ঘটে রোবেনের সঙ্গে। সেই পরিচয় সূত্রে প্রণয়। অবশেষে ২০১০ সালে তিনি তাকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।

মুনমুন ১৯৯৭ সালে বিখ্যাত পরিচালক এহতেশাম পরিচালিত ‘মৌমাছি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। এরপর প্রায় ৮৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত ‘রাগী’ চলচ্চিত্রে খলচরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

যশোর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ

ভেঙে গেলো ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা মুনমুনের সংসার

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

মো:মতিয়ার রহমান #

টাঙ্গাইলের সখীপুরে মসজিদের সামনে নেচে গেল কয়েকদিন ধরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা মুনমুন। এই সমালোচনা শেষ না হতেই এবার সামনে এলো তার বিচ্ছেদের খবর। ভেঙে গেল এই নায়িকার দ্বিতীয় সংসার। ঈদুল আজহার দুইদিন পর তাদের বিচ্ছেদ হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন মুনমুন নিজেই।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর আমরা একসঙ্গে ছিলাম। কেউ চায় না সংসার ভেঙে যাক। যেখানে একটা সন্তানও রয়েছে আমার। পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অনেক চেষ্টা করেছি। বারবার চেয়েছি রোবেন বুঝুক কিন্ত সে বেপরোয়া। বাধ্য হয়ে তাকে ডিভোর্স দিতে হলো।

‘রানি কেন ডাকাত’খ্যাত এ নায়িকা জানান, তার স্বামী রোবেন পেশায় একজন শৌখিন মডেল। তার সঙ্গে যাত্রা ও স্টেজ শো-তে কাজ করতে গিয়ে মুনমুনের পরিচয় ও প্রেম-বিয়ে। কিন্তু সংসার শুরু করার পর থেকেই রোবেন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। স্বার্থপর রোবেন সংসারের দিকে মনোযোগ ছিলেন না। তিনি সিনেমাও বানাতে চাইতেন যার অর্থের যোগান দিতেন মুনমুন। বেশ কয়েকবার সিনেমার পরিকল্পনা করেছেন। টাকাও নষ্ট করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হতো না। এসব নিয়ে মুনমুনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হতো।

রোবেন অনেক সময় মুনমুনকে মারধরও করতেন বলে জানান মুনমুন। এ নায়িকা বলেন, তার জন্য আমি অনেক স্যাক্রিফাইস করেছি। আসলে আমি চেয়েছি সংসারটি টিকে থাকুক। তার সুবিধার জন্য আমার নিজের একটি ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়েছিলাম ও স্টুডিও করবে বলে। বিভিন্নভাবে টাকা পয়সা দিতাম। কিন্তু সে কিছুই করতে পারলো না। উল্টো তার হতাশা সে আমার উপর ক্ষোভ হিসেবে প্রয়োগ করেছে।

‘আমার উপর শারীরিক নির্যাতনও করতো সে। এটা আমি মেনে নিতে পারতাম না। ঝগড়া হতো। একবার ছাড়াছাড়ির সিদ্ধান্ত নিলাম। তখন চার বছর সেপারেশনে ছিলাম। হঠাৎ সে যোগাযোগ করলো। বললো সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। আবারো সে ফিরে আসে আমার ফ্ল্যাটে। কিছুদিন না যেতেই আগের মতো হয়ে গেল। সব মিলিয়ে দেখলাম রোবেনের সঙ্গে আর একসঙ্গে থাকা সম্ভব না। শারীরিক নির্যাতনের মাত্রাও দিনদিন বেড়ে যাচ্ছিলো। তাই ওকে ডিভোর্স দিয়েছি।’

মুনমুন ২০০৩ সালে সিলেটের একজন ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন। সিনেমায় অনিয়মিত হওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। ২০০৬ সালে সেই সংসার ভেঙে যয় মুনমুনের। এরপর দেশে ফিরে আসেন। যোগ দেন যাত্রা ও স্টেজ শো-তে। সেখানে কাজ করতে গিয়ে পরিচয় ঘটে রোবেনের সঙ্গে। সেই পরিচয় সূত্রে প্রণয়। অবশেষে ২০১০ সালে তিনি তাকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।

মুনমুন ১৯৯৭ সালে বিখ্যাত পরিচালক এহতেশাম পরিচালিত ‘মৌমাছি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। এরপর প্রায় ৮৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে মিজানুর রহমান মিজান পরিচালিত ‘রাগী’ চলচ্চিত্রে খলচরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।