
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর কেজি মোড়ে অবস্থিত রনি মিষ্টান্ন ভান্ডারে দই ও মিষ্টি তৈরিতে ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যকর নজরদারি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক রঞ্জিত ঘোষের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দই ও মিষ্টির স্থায়িত্ব বাড়ানো, রং আকর্ষণীয় করা এবং স্বাদ বৃদ্ধির জন্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই ও মিষ্টি উৎপাদনের অভিযোগও রয়েছে। এসব খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে মানুষের লিভার ও কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে রনি মিষ্টান্ন ভান্ডারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দই, মিষ্টি, ঘি ও ঘোল-মাঠাসহ দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হলেও সেই অনুপাতে ভ্যাট পরিশোধ করা হচ্ছে না। একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হলেও বিক্রির ওপর প্রযোজ্য সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট যথাযথভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে না। ফলে সরকার প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ।
এ ছাড়া দইয়ের দাম ও ওজন নিয়েও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। জেলা শহর ও অন্যান্য উপজেলায় যেখানে এক কেজি খুটির দই ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানে রনি মিষ্টান্ন ভান্ডারে একই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে ৩০০ টাকায়। দুই কেজির দইয়ের ক্ষেত্রেও দাম তুলনামূলক বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এক কেজির দই হিসেবে বিক্রি করা পণ্যের প্রকৃত ওজন ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম এবং দুই কেজির দইয়ে ওজন থাকে প্রায় দেড় কেজির মতো। বিষয়টি ভোক্তা অধিকার আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন তারা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে রনি মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক রঞ্জিত ঘোষ ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাদের মিষ্টির মান ভালো হওয়ায় দাম বেশি। তবে ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ বলেন, রনি মিষ্টান্ন ভান্ডারের বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. তাহমিদ আহমেদ বলেন, যথাযথভাবে ভ্যাট পরিশোধ না করা আইনের চোখে অপরাধ। তিনি জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: 







































