শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান

সাংবাদিক অশোক সেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সততার স্বাক্ষর রেখে গেছেন

যশোর প্রতিনিধি 
সাংবাদিক অশোক সেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সততার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার ধারক বাহক। অশোক সেনেরা সমাজে যতটা প্রতিষ্ঠা পাবে। সমাজ প্রতিক্রীড়াশীল মৌলবাদী গোষ্ঠী থেকে ততটা মুক্ত হবে। অসাম্প্রদায়িক ও পরিশীলিত সমাজ বিনির্মাণে অশোক সেনের আদর্শ ও চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
শনিবার বিকালে প্রথম আলো যশোর অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক অশোক সেনের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রথম আলো যশোর বন্ধুসভার উদ্যোগে নিজস্ব কার্যালয় এই স্মণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অশোক সেনের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় বন্ধুসভার বন্ধুরা সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গান পরিবেশন করেন।
২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি অশোক সেন দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অনুষ্ঠানে বন্ধুসভার সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাদুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি আমিনুর রহমান হিরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন শিরিন, বন্ধুসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন সাইদুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক রাইয়াদ ফেরদৌস হামীম।
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহের ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’ কবিতা আবৃত্তি করেন বন্ধুসভার সহ-সভাপতি মনিরা খাতুন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, ‘দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অশোক সেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গে স্মরনার্থীদের তালিকা তৈরিতে সহযোগিতা করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হয়েও গেজেটে নাম লেখাতে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর দেশপ্রেমের আদর্শ অনুসরণ করলে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে’।
সংস্কৃতিজন আমিনুর রহমান হিরু বলেন বলেন, ‘অশোক সেন ছিলেন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ। আদর্শ সংগঠন ছিলেন। প্রথম আলো বন্ধুসভা বা উদীচীর কোনো অনুষ্ঠানে তিনি কখনো সামনের সারির চেয়ারে বসতেন না। সবার পিছনে বসে অনুষ্ঠানের খুটিনাটি পর্যবেক্ষণ করতেন। অসামঞ্জস্য কিছু দেখলে ব্যবস্থা নিতে বলতেন’।
সাংবাদিক সাজেদ রহমান বলেন, ‘অশোক সেন বলতেন, সরেজমিন প্রতিবেদন করার সময় ওই জনপদের মানুষের সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলতে হবে। তাহলে প্রতিবেদনটি সমৃদ্ধ হবে, মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। আমরা তার দেখানো পথে সাংবাদিকতা করছি। তিনি সুসাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন। আজীবন নির্মোহ থেকে নিরোপেক্ষ সাংবাদিকতা করে গেছেন তিনি’।
জনপ্রিয়

আমি অনেক আগে থেকেই বেগম জিয়ার ভক্ত ছিলাম: আসিফ নজরুল

১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান

সাংবাদিক অশোক সেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সততার স্বাক্ষর রেখে গেছেন

প্রকাশের সময় : ০৯:০৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
যশোর প্রতিনিধি 
সাংবাদিক অশোক সেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সততার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি ছিলেন প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার ধারক বাহক। অশোক সেনেরা সমাজে যতটা প্রতিষ্ঠা পাবে। সমাজ প্রতিক্রীড়াশীল মৌলবাদী গোষ্ঠী থেকে ততটা মুক্ত হবে। অসাম্প্রদায়িক ও পরিশীলিত সমাজ বিনির্মাণে অশোক সেনের আদর্শ ও চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
শনিবার বিকালে প্রথম আলো যশোর অফিসের নিজস্ব প্রতিবেদক অশোক সেনের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রথম আলো যশোর বন্ধুসভার উদ্যোগে নিজস্ব কার্যালয় এই স্মণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অশোক সেনের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় বন্ধুসভার বন্ধুরা সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গান পরিবেশন করেন।
২০১০ সালের ৩ জানুয়ারি অশোক সেন দুরারোগ্য ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অনুষ্ঠানে বন্ধুসভার সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাদুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি আমিনুর রহমান হিরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, প্রথম আলোর যশোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম, বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক নাসরিন শিরিন, বন্ধুসভার সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন সাইদুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক রাইয়াদ ফেরদৌস হামীম।
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহের ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’ কবিতা আবৃত্তি করেন বন্ধুসভার সহ-সভাপতি মনিরা খাতুন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দোদুল বলেন, ‘দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অশোক সেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গে স্মরনার্থীদের তালিকা তৈরিতে সহযোগিতা করতেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হয়েও গেজেটে নাম লেখাতে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর দেশপ্রেমের আদর্শ অনুসরণ করলে তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে’।
সংস্কৃতিজন আমিনুর রহমান হিরু বলেন বলেন, ‘অশোক সেন ছিলেন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ। আদর্শ সংগঠন ছিলেন। প্রথম আলো বন্ধুসভা বা উদীচীর কোনো অনুষ্ঠানে তিনি কখনো সামনের সারির চেয়ারে বসতেন না। সবার পিছনে বসে অনুষ্ঠানের খুটিনাটি পর্যবেক্ষণ করতেন। অসামঞ্জস্য কিছু দেখলে ব্যবস্থা নিতে বলতেন’।
সাংবাদিক সাজেদ রহমান বলেন, ‘অশোক সেন বলতেন, সরেজমিন প্রতিবেদন করার সময় ওই জনপদের মানুষের সঙ্গে বেশি বেশি কথা বলতে হবে। তাহলে প্রতিবেদনটি সমৃদ্ধ হবে, মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। আমরা তার দেখানো পথে সাংবাদিকতা করছি। তিনি সুসাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন। আজীবন নির্মোহ থেকে নিরোপেক্ষ সাংবাদিকতা করে গেছেন তিনি’।