রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে তীব্র শীতে ১০ জনের মৃত্যু

  • যশোর অফিস 
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩

ছবি-সংগৃহীত

যশোর অফিস 
যশোরে জেঁকে বসেছে শীত। গত কয়েকদিন ধরে এ অঞ্চলে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
তীব্র শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ১০জনের মৃত্যু হয়েছে। যারা ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসক।
ঘন কুয়াশার সাথে বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোরে শীতের প্রকোপ এখন চরমে। আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না, আর সাথে যুক্ত হওয়া উত্তরের ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর স্বজন হালিমা বেগম বলেন, আমার ছেলের বয়স ৫ মাস। গত কয়েকদিনের তীর্ব শীতের কারণে ছেলের সর্দি ও জ্বর হয়েছে। চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। ছেলেটা এখন কিছুটা সুস্থ্য।নাজমা নামে অপর একজন বলেন, শীতের কারণে ঠান্ডা লেগে আমার ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। তিনদিন ধরে ভর্তি রয়েছি।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে আসা ১০জনের মৃত্য হয়েছে। যাদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান বলেন, ঠান্ডার কারণে আমার বাবার শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬ টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে।
মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার পিতার হার্টের সমস্যা ছিলো। তবে গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে তাকে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো বলেন, তীব্র শীতের কারণেই আমার বাবা মারা গেছেন।
মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, আমার মায়ের বয়স ৬৪ বছর। প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে তিনি ১০দিন অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেখ মামুনের বাড়ির অদূরে উম্মে হানি নামে ৬৫ বছর বয়সী একজন সাবেক শিক্ষিকা মারা গেছেন। তার ছেলে বনি জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌচ্ছাছিলো না। যে কারণে তিনি মারা গেছেন।
এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ বলেন, বিগত ২৪ ঘন্টায় ঠান্ডাজনিত কারণে এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে প্রায় ১০ জন লোক মারা গেছেন। আমরা ইদানীং মৃত্যুর হার বেশি দেখছি এবং এক্ষেত্রে ঠান্ডার প্রকোপ বেশি থাকার কারণে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরও ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি। ফুসফুস সংক্রমণ এবং অন্যান্য বিভিন্ন কমপ্লিকেশনস-এর কারণে বয়স্কদের মধ্যেই মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা দিচ্ছে।
আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হচ্ছে ঠান্ডার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা যায়-সেটা ঘরে হোক বা বাইরে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণগুলো রোধ করার জন্য নিজেকে সতর্ক রাখা উচিত।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৯০জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছেন। এর মধ্য ৫৪জনই শিশু।
জনপ্রিয়

যশোরে সকালের বার্তা পত্রিকার প্রকাশনা উদ্বোধন

যশোরে তীব্র শীতে ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
যশোর অফিস 
যশোরে জেঁকে বসেছে শীত। গত কয়েকদিন ধরে এ অঞ্চলে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা।
তীব্র শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ১০জনের মৃত্যু হয়েছে। যারা ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসক।
ঘন কুয়াশার সাথে বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোরে শীতের প্রকোপ এখন চরমে। আজ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই যশোরের তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না, আর সাথে যুক্ত হওয়া উত্তরের ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় জেলাজুড়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।
শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর স্বজন হালিমা বেগম বলেন, আমার ছেলের বয়স ৫ মাস। গত কয়েকদিনের তীর্ব শীতের কারণে ছেলের সর্দি ও জ্বর হয়েছে। চার দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। ছেলেটা এখন কিছুটা সুস্থ্য।নাজমা নামে অপর একজন বলেন, শীতের কারণে ঠান্ডা লেগে আমার ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। তিনদিন ধরে ভর্তি রয়েছি।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে আসা ১০জনের মৃত্য হয়েছে। যাদের বয়স ৫৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। মৃত মুন্সি মহিউদ্দিনের ছেলে শামছুজ্জামান বলেন, ঠান্ডার কারণে আমার বাবার শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। ভোর ৬ টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান বলে জানিয়েছে।
মৃত শেখ সদরুল আলমের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার পিতার হার্টের সমস্যা ছিলো। তবে গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে তিনি বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। গতকাল রাতে তাকে হাসাপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো বলেন, তীব্র শীতের কারণেই আমার বাবা মারা গেছেন।
মৃত মনিরা খাতুনের ছেলে শেখ মামুন বলেন, আমার মায়ের বয়স ৬৪ বছর। প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে তিনি ১০দিন অসুস্থ ছিলেন। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় গুরুতর অবস্থায় গতকাল রাতে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেখ মামুনের বাড়ির অদূরে উম্মে হানি নামে ৬৫ বছর বয়সী একজন সাবেক শিক্ষিকা মারা গেছেন। তার ছেলে বনি জানান, তার মা এক সপ্তাহ ধরে ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ফুসফুস সংক্রমিত হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌচ্ছাছিলো না। যে কারণে তিনি মারা গেছেন।
এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জোবায়ের আহমেদ বলেন, বিগত ২৪ ঘন্টায় ঠান্ডাজনিত কারণে এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণে প্রায় ১০ জন লোক মারা গেছেন। আমরা ইদানীং মৃত্যুর হার বেশি দেখছি এবং এক্ষেত্রে ঠান্ডার প্রকোপ বেশি থাকার কারণে মৃত্যুর সংখ্যাটা আরও ব্যাপক হারে বেড়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর প্রবণতা বেশি। ফুসফুস সংক্রমণ এবং অন্যান্য বিভিন্ন কমপ্লিকেশনস-এর কারণে বয়স্কদের মধ্যেই মৃত্যুর প্রবণতা বেশি দেখা দিচ্ছে।
আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হচ্ছে ঠান্ডার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা যায়-সেটা ঘরে হোক বা বাইরে। বাইরে চলাফেরার ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ফুসফুস সংক্রমণজনিত কারণগুলো রোধ করার জন্য নিজেকে সতর্ক রাখা উচিত।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২৯০জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে শতাধিক রোগী ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে এসেছেন। এর মধ্য ৫৪জনই শিশু।