রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যেকোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ট্রাম্পের

ছবি-সংগৃহীত

ক্রমেই আগ্রাসী ভাবমূর্তি স্পষ্ট হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে একের পর এক হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি; তোয়াক্কা করছেন না কোনও শক্তিকেই। একদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রকাশ্য উসকানি, অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদেরকে অর্থের লোভ দেখিয়ে ডেনমার্ক থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা; প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি— এসবই যেন নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার।  সে ধারাবাহিকতায় আরও একবার গ্রিনল্যান্ড দখল করার ইচ্ছা জোর গলায় ব্যক্ত করেছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া ও চীনকে ঠেকাতে ডেনমার্কের অধীনস্ত এ ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ‘মালিকানায়’ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি আরও জোরদার করে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ‘পছন্দ হোক বা না হোক’, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে ‘কিছু একটা করতে যাচ্ছে’। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে নিজের অবস্থানের সপক্ষে ফের যুক্তি দেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, তারা পছন্দ করুক বা না করুক, আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করতে যাচ্ছি। কারণ আমরা যদি এটি না করি, তবে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে। আর আমরা প্রতিবেশী হিসেবে রাশিয়া বা চীনকে কোনোভাবেই মেনে নেব না।

এ সময় বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাষ্ট্রের হাতে মালিকানা থাকতে হয় এবং সেই মালিকানাই রক্ষা করতে হয়; ইজারা নিয়ে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায় না। আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে। ‘সহজ’ অথবা ‘কঠিন’—যেকোনো একটি উপায়ে কাজটি করবেই যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে সম্প্রতি হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি কেনার বিষয় বিবেচনা করছে। তবে, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখল বা অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছে না।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ অবশ্য বারবার বলছে, অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর অবসান ঘটাবে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন সম্প্রতি বলেন, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন হামলা মানেই হবে ‘ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবসান’।

পরে ট্রাম্প বলেন, আমি না থাকলে আজ ন্যাটোর কোনো অস্তিত্ব থাকত না। কিন্তু আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। আমরা পদক্ষেপ না নিলে শেষপর্যন্ত সেটাই ঘটবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবিরল অঞ্চল হলেও উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা প্রদান এবং এই অঞ্চলে বিদেশি নৌযানগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য গ্রিনল্যান্ড একটি আদর্শ স্থান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবারই বলে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, অঞ্চলটি ঘিরে রুশ ও চীনা জাহাজ অবস্থান করছে।

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনেরও বেশি সেনাসদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন আছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ ঘাঁটি পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর আওতায় গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের ইচ্ছেমতো সংখ্যায় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

তবে, ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইজারাভিত্তিক চুক্তি যথেষ্ট নয়। দেশগুলো ৯ বছরের চুক্তি এমনকি ১০০ বছরের চুক্তির ভিত্তিতে চলতে পারে না। আমি চীনের মানুষকে ভালোবাসি। আমি রাশিয়ার মানুষকে ভালবাসি। কিন্তু আমি চাই না, তারা গ্রিনল্যান্ডে আমাদের প্রতিবেশী হোন। সেটা হবে না। ব্যাপারটা ন্যাটোকেও বুঝতে হবে।

এদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির মুখে ইতোমধ্যে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে কানাডা ও প্রভাবশালী ইউরোপীয় দেশগুলোসহ ন্যাটো মিত্ররা। তারা বলেছে, শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই তাদের সম্পর্ক–সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদেরও আগ্রহ আছে এবং এটি মিত্রদের মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জন করতে হবে। জাতিসংঘের নীতি মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম ও লোহা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলে যাওয়ায় এখন এসব সম্পদ আহরণ সহজতর হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুতও থাকতে পারে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় নেতারা বলেন, আমাদের দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবজ্ঞা বন্ধ করতে হবে। আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা কেবল গ্রিনল্যান্ডার হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল গ্রিনল্যান্ডের মানুষই নির্ধারণ করবে।

গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারাও বারবার যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে তাদের অসম্মতি প্রকাশ করে আসছে। ২০২৫ সালের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, সেখানকার ৮৫ শতাংশ মানুষই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে নারাজ। অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের ওপর করা আরেক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযানের পক্ষপাতী।

জনপ্রিয়

যশোরে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

যেকোনো উপায়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশের সময় : ০৬:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ক্রমেই আগ্রাসী ভাবমূর্তি স্পষ্ট হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে একের পর এক হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি; তোয়াক্কা করছেন না কোনও শক্তিকেই। একদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভে প্রকাশ্য উসকানি, অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদেরকে অর্থের লোভ দেখিয়ে ডেনমার্ক থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা; প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি— এসবই যেন নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার।  সে ধারাবাহিকতায় আরও একবার গ্রিনল্যান্ড দখল করার ইচ্ছা জোর গলায় ব্যক্ত করেছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া ও চীনকে ঠেকাতে ডেনমার্কের অধীনস্ত এ ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের ‘মালিকানায়’ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি আরও জোরদার করে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ‘পছন্দ হোক বা না হোক’, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে ‘কিছু একটা করতে যাচ্ছে’। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে নিজের অবস্থানের সপক্ষে ফের যুক্তি দেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, তারা পছন্দ করুক বা না করুক, আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কিছু একটা করতে যাচ্ছি। কারণ আমরা যদি এটি না করি, তবে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে। আর আমরা প্রতিবেশী হিসেবে রাশিয়া বা চীনকে কোনোভাবেই মেনে নেব না।

এ সময় বিবিসির এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাষ্ট্রের হাতে মালিকানা থাকতে হয় এবং সেই মালিকানাই রক্ষা করতে হয়; ইজারা নিয়ে প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা যায় না। আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে। ‘সহজ’ অথবা ‘কঠিন’—যেকোনো একটি উপায়ে কাজটি করবেই যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে সম্প্রতি হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি কেনার বিষয় বিবেচনা করছে। তবে, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখল বা অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও তারা উড়িয়ে দিচ্ছে না।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ অবশ্য বারবার বলছে, অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর অবসান ঘটাবে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন সম্প্রতি বলেন, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন হামলা মানেই হবে ‘ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবসান’।

পরে ট্রাম্প বলেন, আমি না থাকলে আজ ন্যাটোর কোনো অস্তিত্ব থাকত না। কিন্তু আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। আমরা পদক্ষেপ না নিলে শেষপর্যন্ত সেটাই ঘটবে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবিরল অঞ্চল হলেও উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা প্রদান এবং এই অঞ্চলে বিদেশি নৌযানগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য গ্রিনল্যান্ড একটি আদর্শ স্থান।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবারই বলে আসছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, অঞ্চলটি ঘিরে রুশ ও চীনা জাহাজ অবস্থান করছে।

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ জনেরও বেশি সেনাসদস্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন আছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ ঘাঁটি পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর আওতায় গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের ইচ্ছেমতো সংখ্যায় সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

তবে, ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইজারাভিত্তিক চুক্তি যথেষ্ট নয়। দেশগুলো ৯ বছরের চুক্তি এমনকি ১০০ বছরের চুক্তির ভিত্তিতে চলতে পারে না। আমি চীনের মানুষকে ভালোবাসি। আমি রাশিয়ার মানুষকে ভালবাসি। কিন্তু আমি চাই না, তারা গ্রিনল্যান্ডে আমাদের প্রতিবেশী হোন। সেটা হবে না। ব্যাপারটা ন্যাটোকেও বুঝতে হবে।

এদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির মুখে ইতোমধ্যে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে কানাডা ও প্রভাবশালী ইউরোপীয় দেশগুলোসহ ন্যাটো মিত্ররা। তারা বলেছে, শুধু ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই তাদের সম্পর্ক–সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো মিত্রদেরও আগ্রহ আছে এবং এটি মিত্রদের মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জন করতে হবে। জাতিসংঘের নীতি মেনে চলারও আহ্বান জানিয়েছে তারা।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি বিশ্বশক্তিগুলোর আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম ও লোহা। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলে যাওয়ায় এখন এসব সম্পদ আহরণ সহজতর হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসের মজুতও থাকতে পারে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে গ্রিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় নেতারা বলেন, আমাদের দেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবজ্ঞা বন্ধ করতে হবে। আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা কেবল গ্রিনল্যান্ডার হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ কেবল গ্রিনল্যান্ডের মানুষই নির্ধারণ করবে।

গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারাও বারবার যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে তাদের অসম্মতি প্রকাশ করে আসছে। ২০২৫ সালের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, সেখানকার ৮৫ শতাংশ মানুষই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে নারাজ। অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের ওপর করা আরেক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযানের পক্ষপাতী।