বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংগ্রাম পেরিয়ে জাতীয় গৌরব থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারপ্রান্তে ক্ষেতলালের তিথি

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

চারটি জাতীয় পদক, টানা শিক্ষাগত সাফল্য ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় অবস্থান এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম তিথি। বাবা-মা ও শিক্ষকদের নিরলস সহযোগিতায় সাফল্যের একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার এই মেয়ে।

ছোট্ট গ্রাম থেকে জাতীয় পর্যায়ের মঞ্চ তার এই যাত্রা যেন অধ্যবসায়, মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জীবন্ত উদাহরণ।

শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিথি ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন চারটি জাতীয় পদক। উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনায় তার সাবলীলতা, চিন্তার গভীরতা এবং আত্মবিশ্বাস তাকে বারবার এনে দিয়েছে সেরার স্বীকৃতি। জাতীয় পর্যায়ে একের পর এক অর্জন তিথির উল্লেখযোগ্য জাতীয় অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে, আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় সংস্কৃতি পুরস্কার ২০১৭

(উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম স্থান) জাতীয় শিক্ষা পদক ২০১৮

(উপস্থিত বক্তৃতা) জাতীয় শিশু পুরস্কার ২০১৯ (উপস্থিত বক্তৃতা)

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সেরা বিজয়ী ২০২১ (রচনা প্রতিযোগিতা) এই অর্জনগুলো শুধু পুরস্কার নয়, বরং একটি মেয়ের আত্মবিশ্বাসী বেড়ে ওঠার সাক্ষ্য।

২০১৪ থেকে ২০২৩ প্রায় এক দশক ধরে তিথি প্রত্যেক শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ২০১৭ সালে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম ২০১৮ সালে জয়পুরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় (নবম) ২০২১ সালে রচনা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে সেরা বিজয়ী ২০২৩ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত এবং শিক্ষাজীবনে কলেজের প্রথমদের একজন হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করেন বলে জানান।

২০২৪ সালের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায়ও তিথির সাফল্য চোখে পড়ার মতো,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU): ১৭৮তম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (CU): ১৪৬তম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (KU): ৬৯তম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU): ৪র্থ এই ফলাফল প্রমাণ করে, জাতীয় মঞ্চের বক্তা তিথি একাডেমিকভাবেও সমান শক্তিশালী।

এই সাফল্যের পথ কখনোই সহজ ছিল না। জীবনের উত্থান-পতনে তিথিকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক কঠিন সময়। তবে সেই প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে ছিলেন তার মা মর্জিনা বেগম।

তিথি জানায় “আম্মু শুধু মা নন, তিনি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তার সহযোগিতা ছাড়া আজকের তিথির কোনো অস্তিত্ব নেই।” তাছাড়া বাবাসহ পরিবারের সকলের অবদান অপরিসীম।

তিথির বাড়ি জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল সদর উপজেলায়।

তার বাবা মোঃ তারা মিয়া, একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ, যিনি সবসময় সন্তানের শিক্ষায় উৎসাহ যুগিয়েছেন। দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন ভবিষ্যতে তিথি শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে পাথেয় করে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

তিথির গল্প শুধু একটি মেয়ের সাফল্যের গল্প নয় এটি গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা হাজারো স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণা। অধ্যবসায়, পরিবার ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যে একটি জীবনকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, তিথি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

জনপ্রিয়

শাহজালালের মাজার জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

সংগ্রাম পেরিয়ে জাতীয় গৌরব থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারপ্রান্তে ক্ষেতলালের তিথি

প্রকাশের সময় : ০৮:১১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

চারটি জাতীয় পদক, টানা শিক্ষাগত সাফল্য ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় অবস্থান এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম তিথি। বাবা-মা ও শিক্ষকদের নিরলস সহযোগিতায় সাফল্যের একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার এই মেয়ে।

ছোট্ট গ্রাম থেকে জাতীয় পর্যায়ের মঞ্চ তার এই যাত্রা যেন অধ্যবসায়, মেধা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জীবন্ত উদাহরণ।

শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তিথি ইতোমধ্যে অর্জন করেছেন চারটি জাতীয় পদক। উপস্থিত বক্তৃতা ও রচনায় তার সাবলীলতা, চিন্তার গভীরতা এবং আত্মবিশ্বাস তাকে বারবার এনে দিয়েছে সেরার স্বীকৃতি। জাতীয় পর্যায়ে একের পর এক অর্জন তিথির উল্লেখযোগ্য জাতীয় অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে, আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় সংস্কৃতি পুরস্কার ২০১৭

(উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম স্থান) জাতীয় শিক্ষা পদক ২০১৮

(উপস্থিত বক্তৃতা) জাতীয় শিশু পুরস্কার ২০১৯ (উপস্থিত বক্তৃতা)

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সেরা বিজয়ী ২০২১ (রচনা প্রতিযোগিতা) এই অর্জনগুলো শুধু পুরস্কার নয়, বরং একটি মেয়ের আত্মবিশ্বাসী বেড়ে ওঠার সাক্ষ্য।

২০১৪ থেকে ২০২৩ প্রায় এক দশক ধরে তিথি প্রত্যেক শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ২০১৭ সালে শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় উপজেলায় প্রথম ২০১৮ সালে জয়পুরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় (নবম) ২০২১ সালে রচনা প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে সেরা বিজয়ী ২০২৩ সালে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত এবং শিক্ষাজীবনে কলেজের প্রথমদের একজন হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করেন বলে জানান।

২০২৪ সালের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায়ও তিথির সাফল্য চোখে পড়ার মতো,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU): ১৭৮তম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (CU): ১৪৬তম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (KU): ৬৯তম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU): ৪র্থ এই ফলাফল প্রমাণ করে, জাতীয় মঞ্চের বক্তা তিথি একাডেমিকভাবেও সমান শক্তিশালী।

এই সাফল্যের পথ কখনোই সহজ ছিল না। জীবনের উত্থান-পতনে তিথিকে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক কঠিন সময়। তবে সেই প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে ছিলেন তার মা মর্জিনা বেগম।

তিথি জানায় “আম্মু শুধু মা নন, তিনি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। তার সহযোগিতা ছাড়া আজকের তিথির কোনো অস্তিত্ব নেই।” তাছাড়া বাবাসহ পরিবারের সকলের অবদান অপরিসীম।

তিথির বাড়ি জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল সদর উপজেলায়।

তার বাবা মোঃ তারা মিয়া, একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ, যিনি সবসময় সন্তানের শিক্ষায় উৎসাহ যুগিয়েছেন। দেশের জন্য কাজ করার স্বপ্ন ভবিষ্যতে তিথি শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে পাথেয় করে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান। এজন্য তিনি সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

তিথির গল্প শুধু একটি মেয়ের সাফল্যের গল্প নয় এটি গ্রামবাংলা থেকে উঠে আসা হাজারো স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণা। অধ্যবসায়, পরিবার ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যে একটি জীবনকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, তিথি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।