রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ

ক্ষেতলালে ১৮ বছরেও চালু হয়নি ৩৯ লাখ টাকার গভীর নলকূপ, সেচ সংকটে শতাধিক কৃষক

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ফৌপড়া সুজাপুর মৌজায় স্থাপিত একটি গভীর নলকূপ ১৮ বছরেও চালু না হওয়ায় চরম সেচ সংকটে পড়েছেন এলাকার শতাধিক প্রান্তিক কৃষক। সরকারি প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় প্রায় শত বিঘা জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে কৃষকদের উৎপাদন খরচ।

ক্ষেতলাল উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে ফৌপড়া সুজাপুর মৌজায় মোশারফ হোসেনের জমিতে একটি কমিটির মাধ্যমে গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন, ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাইপসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করা হলেও স্থানীয় জটিলতার অজুহাতে আজ পর্যন্ত নলকূপটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলকূপটির জন্য নির্মিত ইটের ঘরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের খুঁটিগুলো ব্যবহারের অভাবে দাঁড়িয়ে আছে কেবল স্মৃতিচিহ্ন হয়ে। অন্যদিকে, পাইপ লাইনের প্লাস্টিক পাইপগুলো পূর্বের কমিটির ম্যানেজার মোশারফ হোসেনের বাড়ির আঙিনায় স্তূপ করে রাখা রয়েছে, যা দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “পার্শ্ববর্তী একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন গভীর নলকূপের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই নলকূপটি চালু করতে দেননি। খরা মৌসুমে পানির অভাবে আমরা ফসল ফলাতে পারি না। দূরের ডিপ থেকে পানি আনতে গিয়ে সারাদিনে এক বিঘা জমিও ঠিকমতো সেচ দেওয়া যায় না। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।”

বর্গাচাষী সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক বিঘা জমি সেচ দিতে আমাদের ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। টাকা দিয়েও ঠিকমতো পানি পাওয়া যায় না। ডিপের মালিকরা বলেন ‘তোমাদের জন্য ডিপ বসানো হয়নি, আমরা আগে সেচ দেব, তোমরা পরে।

এই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের দাবিতে সম্প্রতি সুজাপুর গ্রামের ৫০ জন কৃষকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাক আহম্মদ বলেন, “লিখিত আবেদন পাওয়ার পর আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছি। সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। কৃষকরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগ্রহ দেখান, তাহলে নলকূপটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। অন্যথায় সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে সরঞ্জামগুলো উত্তোলন করে নিয়ে আসা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিএমডিএ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

জনপ্রিয়

সুন্দরবনে বনদস্যুদের তান্ডবে শুঁটকি মাছ আহরণে সংকটে জেলেরা

নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ

ক্ষেতলালে ১৮ বছরেও চালু হয়নি ৩৯ লাখ টাকার গভীর নলকূপ, সেচ সংকটে শতাধিক কৃষক

প্রকাশের সময় : ০১:৪২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি:

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ফৌপড়া সুজাপুর মৌজায় স্থাপিত একটি গভীর নলকূপ ১৮ বছরেও চালু না হওয়ায় চরম সেচ সংকটে পড়েছেন এলাকার শতাধিক প্রান্তিক কৃষক। সরকারি প্রায় ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নলকূপটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় প্রায় শত বিঘা জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে কৃষকদের উৎপাদন খরচ।

ক্ষেতলাল উপজেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে ফৌপড়া সুজাপুর মৌজায় মোশারফ হোসেনের জমিতে একটি কমিটির মাধ্যমে গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় বিদ্যুৎ সংযোগের লাইন, ভূগর্ভস্থ ড্রেনেজ ব্যবস্থার পাইপসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করা হলেও স্থানীয় জটিলতার অজুহাতে আজ পর্যন্ত নলকূপটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলকূপটির জন্য নির্মিত ইটের ঘরটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের খুঁটিগুলো ব্যবহারের অভাবে দাঁড়িয়ে আছে কেবল স্মৃতিচিহ্ন হয়ে। অন্যদিকে, পাইপ লাইনের প্লাস্টিক পাইপগুলো পূর্বের কমিটির ম্যানেজার মোশারফ হোসেনের বাড়ির আঙিনায় স্তূপ করে রাখা রয়েছে, যা দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “পার্শ্ববর্তী একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন গভীর নলকূপের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই নলকূপটি চালু করতে দেননি। খরা মৌসুমে পানির অভাবে আমরা ফসল ফলাতে পারি না। দূরের ডিপ থেকে পানি আনতে গিয়ে সারাদিনে এক বিঘা জমিও ঠিকমতো সেচ দেওয়া যায় না। এতে আমাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।”

বর্গাচাষী সিরাজুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক বিঘা জমি সেচ দিতে আমাদের ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। টাকা দিয়েও ঠিকমতো পানি পাওয়া যায় না। ডিপের মালিকরা বলেন ‘তোমাদের জন্য ডিপ বসানো হয়নি, আমরা আগে সেচ দেব, তোমরা পরে।

এই দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের দাবিতে সম্প্রতি সুজাপুর গ্রামের ৫০ জন কৃষকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাক আহম্মদ বলেন, “লিখিত আবেদন পাওয়ার পর আমি এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছি। সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ এভাবে নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। কৃষকরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগ্রহ দেখান, তাহলে নলকূপটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। অন্যথায় সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে সরঞ্জামগুলো উত্তোলন করে নিয়ে আসা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানান, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিএমডিএ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”