মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৩০০ কিলোমিটার রিকশা চালিয়ে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিলেন বৃদ্ধ

ছবি-সংগৃহীত

ভারতের ওড়িশার সম্বলপুর জেলার মোদিপাড়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী বাবু লোহা তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত ৭০ বছর বয়সী স্ত্রী জ্যোতিকে চিকিৎসার জন্য পায়ে চালিত রিকশায় করে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার এই সাহসিক ও আবেগপূর্ণ উদ্যোগ বিহারের ‘পাহাড়ি মানুষ’ দশরথ মাঝির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জ্যোতির স্ট্রোকের পর তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা সম্ভব হয়নি। তাই বাবু লোহা তার রিকশাকেই অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে, পুরনো কুশন দিয়ে রিকশার ভিতর আরামদায়ক করে স্ত্রীকে বসিয়ে ৯ দিন ধরে প্যাডেল চালিয়ে কটকে পৌঁছান। দিনে চলাচল করতেন, রাতে পথের ধারে দোকানের পাশে বিশ্রাম নিতেন।

দুই মাস ধরে কটকের হাসপাতালে জ্যোতির নিবিড় চিকিৎসা চলে। ১৯ জানুয়ারি চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ির পথে রওনা হন। কিন্তু চৌদওয়ারের কাছে একটি গাড়ি রিকশায় ধাক্কা দিলে জ্যোতি গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. বিকাশ শুধু চিকিৎসাই করেননি, ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছেন যাতে এই দম্পতি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।
বাবু লোহা বলেন, আমাদের আর কেউ নেই, আমরা শুধু একে অপরের।এই ঘটনা সামাজিক ও স্থানীয় মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বয়স্ক দম্পতির এই দীর্ঘ যাত্রা ও দুর্ঘটনার পরও তাদের অটল মনোভাব গ্রামীণ ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার একটি মানবিক ছবি তুলে ধরেছে। অনেকেই এই ঘটনাকে মানবতা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

জনপ্রিয়

চুশাক পাড়া বৌদ্ধ বিহারে ৫দিন ব্যাপি বিদর্শন ভাবনা কর্মশালা সম্পন্ন

৩০০ কিলোমিটার রিকশা চালিয়ে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিলেন বৃদ্ধ

প্রকাশের সময় : ০৪:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের ওড়িশার সম্বলপুর জেলার মোদিপাড়া গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী বাবু লোহা তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত ৭০ বছর বয়সী স্ত্রী জ্যোতিকে চিকিৎসার জন্য পায়ে চালিত রিকশায় করে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার এই সাহসিক ও আবেগপূর্ণ উদ্যোগ বিহারের ‘পাহাড়ি মানুষ’ দশরথ মাঝির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জ্যোতির স্ট্রোকের পর তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা সম্ভব হয়নি। তাই বাবু লোহা তার রিকশাকেই অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে, পুরনো কুশন দিয়ে রিকশার ভিতর আরামদায়ক করে স্ত্রীকে বসিয়ে ৯ দিন ধরে প্যাডেল চালিয়ে কটকে পৌঁছান। দিনে চলাচল করতেন, রাতে পথের ধারে দোকানের পাশে বিশ্রাম নিতেন।

দুই মাস ধরে কটকের হাসপাতালে জ্যোতির নিবিড় চিকিৎসা চলে। ১৯ জানুয়ারি চিকিৎসা শেষে তারা বাড়ির পথে রওনা হন। কিন্তু চৌদওয়ারের কাছে একটি গাড়ি রিকশায় ধাক্কা দিলে জ্যোতি গুরুতর আহত হন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. বিকাশ শুধু চিকিৎসাই করেননি, ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছেন যাতে এই দম্পতি নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।
বাবু লোহা বলেন, আমাদের আর কেউ নেই, আমরা শুধু একে অপরের।এই ঘটনা সামাজিক ও স্থানীয় মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বয়স্ক দম্পতির এই দীর্ঘ যাত্রা ও দুর্ঘটনার পরও তাদের অটল মনোভাব গ্রামীণ ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার একটি মানবিক ছবি তুলে ধরেছে। অনেকেই এই ঘটনাকে মানবতা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।