বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জ কামারখন্দে কৃষক হত্যা: ১০ আসামির যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কৃষক বদিউজ্জামান হত্যা মামলায় ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুজ্জোহা শাহান শাহ জানান, রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি চার আসামি পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মনির হোসেন, আনোয়ারা বেগম, সাহেব উদ্দিন, সোহেল রানা, শাহজাহান মণ্ডল, শফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ, এরশাদ শেখ, রমজান আলী ও আবুল কালাম আজাদ।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১১ সালে বদিউজ্জামান কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকান্দি গ্রামে দবির মণ্ডলের ছেলে আলমের কাছ থেকে দলিলমূলে তিন শতক জমি ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে প্রতিবেশী আবু সাঈদ ঘর নির্মাণ করে দখল নেন। জমি ছাড়তে বললে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেন। জমি দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে।
একই বছরে বদিউজ্জামান ও আসামি আব্দুস সাত্তার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে আব্দুস সাত্তার পরাজিত হলে তিনি বদিউজ্জামানকে দায়ী করেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।
২০১১ সালের ২৪ জুন বদিউজ্জামান জমির কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরদিন ২৫ জুন সকালে ময়নাকান্দি এলাকায় সাইফুল ইসলামের ঘুমচিক্ষেত থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রতনা বেগম ওরফে সুফিয়া বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন
জনপ্রিয়

কেরানীগঞ্জে জামাতের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা, আহত ৩

সিরাজগঞ্জ কামারখন্দে কৃষক হত্যা: ১০ আসামির যাবজ্জীবন

প্রকাশের সময় : ১০:১৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কৃষক বদিউজ্জামান হত্যা মামলায় ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুজ্জোহা শাহান শাহ জানান, রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি চার আসামি পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মনির হোসেন, আনোয়ারা বেগম, সাহেব উদ্দিন, সোহেল রানা, শাহজাহান মণ্ডল, শফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ, এরশাদ শেখ, রমজান আলী ও আবুল কালাম আজাদ।
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১১ সালে বদিউজ্জামান কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকান্দি গ্রামে দবির মণ্ডলের ছেলে আলমের কাছ থেকে দলিলমূলে তিন শতক জমি ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে প্রতিবেশী আবু সাঈদ ঘর নির্মাণ করে দখল নেন। জমি ছাড়তে বললে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেন। জমি দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে।
একই বছরে বদিউজ্জামান ও আসামি আব্দুস সাত্তার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে আব্দুস সাত্তার পরাজিত হলে তিনি বদিউজ্জামানকে দায়ী করেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।
২০১১ সালের ২৪ জুন বদিউজ্জামান জমির কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরদিন ২৫ জুন সকালে ময়নাকান্দি এলাকায় সাইফুল ইসলামের ঘুমচিক্ষেত থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রতনা বেগম ওরফে সুফিয়া বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি পুলিশ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন