সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করল ইইউ

  • Staff Reporter :
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪১

ইরানে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন নৃশংসতা এবং রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে ইউক্রেন যুদ্ধে সহযোগিতার দায়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এর ফলে আইআরজিসি এখন থেকে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সমপর্যায়ের বলে গণ্য হবে। খবর বিবিসি, রয়টার্সের

দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশগুলো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার স্বার্থে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো নির্বিচার দমন-পীড়ন ও গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ইউরোপের দেশগুলোর ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি যদি সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করেন, তবে আপনাকে সন্ত্রাসী হিসেবেই গণ্য করা উচিত। আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা ইরানের নেতৃত্বের প্রতি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা।’ স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এই পদক্ষেপকে ইউরোপের ‘দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি বলেছেন, বলেছেন যে ইইউর সিদ্ধান্তটি একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ খেলা’ এবং ‘বড় কৌশলগত ভুল’।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারণা, ইরানের ডিসেম্বর ও জানুয়ারির বিক্ষোভে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়। এতে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইআরজিসির সদস্যরা অংশ নেন।

আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ইইউ আরও ২১ জন ইরানি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই তালিকায় ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউরোপে থাকা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা রক্ষার জন্য আইআরজিসি গঠন করা হয়। বর্তমানে এটি কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতির অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক। ইরানের কৌশলগত খাতের সিংহভাগ ব্যবসা ও শিল্প এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল ও পরমাণু কর্মসূচির মূল তদারকি করে আইআরজিসি।

এ ছাড়া আঞ্চলিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে আইআরজিসির হাত। হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতি বিদ্রোহীদের অর্থ এবং অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, আইআরজিসিকে কালো তালিকাভুক্ত করলেও ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পথগুলো পুরোপুরি বন্ধ হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও কোণঠাসা করে ফেলবে। বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার যেকোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয়

কুষ্টিয়ায় হেযবুত তওহীদের জনসভা অনুষ্ঠিত

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডকে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করল ইইউ

প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন নৃশংসতা এবং রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করে ইউক্রেন যুদ্ধে সহযোগিতার দায়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এর ফলে আইআরজিসি এখন থেকে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সমপর্যায়ের বলে গণ্য হবে। খবর বিবিসি, রয়টার্সের

দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশগুলো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার স্বার্থে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর চালানো নির্বিচার দমন-পীড়ন ও গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ইউরোপের দেশগুলোর ধৈর্যচ্যুতি ঘটে।

ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি যদি সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করেন, তবে আপনাকে সন্ত্রাসী হিসেবেই গণ্য করা উচিত। আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা ইরানের নেতৃত্বের প্রতি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা।’ স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এই পদক্ষেপকে ইউরোপের ‘দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি বলেছেন, বলেছেন যে ইইউর সিদ্ধান্তটি একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ খেলা’ এবং ‘বড় কৌশলগত ভুল’।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারণা, ইরানের ডিসেম্বর ও জানুয়ারির বিক্ষোভে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়। এতে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইআরজিসির সদস্যরা অংশ নেন।

আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ইইউ আরও ২১ জন ইরানি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই তালিকায় ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউরোপে থাকা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ থাকবে।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা রক্ষার জন্য আইআরজিসি গঠন করা হয়। বর্তমানে এটি কেবল একটি সামরিক বাহিনী নয়, বরং ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতির অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক। ইরানের কৌশলগত খাতের সিংহভাগ ব্যবসা ও শিল্প এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল ও পরমাণু কর্মসূচির মূল তদারকি করে আইআরজিসি।

এ ছাড়া আঞ্চলিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে আইআরজিসির হাত। হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুতি বিদ্রোহীদের অর্থ এবং অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, আইআরজিসিকে কালো তালিকাভুক্ত করলেও ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পথগুলো পুরোপুরি বন্ধ হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্ত ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও কোণঠাসা করে ফেলবে। বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার যেকোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।