বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রিফাত হত্যা মামলায় স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

নুরুজ্জামান লিটন ##
রগুনায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  খালাস দেয়া হয়েছে ৪ জনকে ।  এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

আজ দুপুরে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আছাদুজ্জামানরায় ঘোষণা করেন। বহুল আলোচিত এ  মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জনের রায় ঘোষণা হয়েছে আজ। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাকি ১৪ জনের  তাদের বিচার চলছে শিশু আদালতে।

অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে মিন্নিসহ ৯ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এক আসামি পলাতক রয়েছেন। যিনি আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন,  রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মো. হাসান (১৯), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২),  ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)।

বেকসুর খালাস পেয়েছেন মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি প্রথমে মামলায়  সাক্ষী ছিলেন।  কারণ প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার সময় তিনি রিফাতের সাথে  ছিলেন। পরে  জিজ্ঞাসাবাদে  রিফাত  হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাকে আসামি করা হয়। চার্জশিটে তিনি মামলাটির সাত নম্বর আসামি ছিলেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাতকে।  ওইদিন বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারাযান।

ঘটনারত্রন দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড  পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ২ জুলাই।

রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর থেকে মামলার  মোড় ঘুরে যায়।   রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী মিন্নিকে ২০ দিন পর আটক করে পুলিশ। ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে । এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে আদালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এই মামলায়।

১৬ সেপ্টেম্বর মামলার দুপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে  আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।#

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

কুবিতে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের নতুন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন

রিফাত হত্যা মামলায় স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

প্রকাশের সময় : ০৬:৩১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
নুরুজ্জামান লিটন ##
রগুনায় রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  খালাস দেয়া হয়েছে ৪ জনকে ।  এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

আজ দুপুরে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আছাদুজ্জামানরায় ঘোষণা করেন। বহুল আলোচিত এ  মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জনের রায় ঘোষণা হয়েছে আজ। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বাকি ১৪ জনের  তাদের বিচার চলছে শিশু আদালতে।

অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে মিন্নিসহ ৯ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এক আসামি পলাতক রয়েছেন। যিনি আদালতের রায়ে খালাস পেয়েছেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন,  রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মো. হাসান (১৯), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২),  ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)।

বেকসুর খালাস পেয়েছেন মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি প্রথমে মামলায়  সাক্ষী ছিলেন।  কারণ প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার সময় তিনি রিফাতের সাথে  ছিলেন। পরে  জিজ্ঞাসাবাদে  রিফাত  হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাকে আসামি করা হয়। চার্জশিটে তিনি মামলাটির সাত নম্বর আসামি ছিলেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাতকে।  ওইদিন বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারাযান।

ঘটনারত্রন দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড  পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন ২ জুলাই।

রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর থেকে মামলার  মোড় ঘুরে যায়।   রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী মিন্নিকে ২০ দিন পর আটক করে পুলিশ। ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ।

বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে । এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে আদালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এই মামলায়।

১৬ সেপ্টেম্বর মামলার দুপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে  আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।#