বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যমুনা নদীর ভাঙনে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন, স্থায়ী বাঁধের দাবি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা বর্তমানে তীব্র নদী ভাঙনের কবলে রয়েছে। যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায়, নদীর তীরে বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চল, বিশেষত খাসপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও অনেক এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
তীব্র ভাঙনের কারণ ও এর প্রভাব
চৌহালী উপজেলার নদীভাঙন পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নদীর তীব্র ভাঙনে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে রেহাই পুখুরিয়া পশ্চিমপাড়া, মিটুয়ানী, চর বিনানই ও চর সলিমাবাদ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রতি বছরই তারা নদী ভাঙনের শিকার হলেও এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যমুনা নদীতে বাল্বহেড দিয়ে বালি সরবরাহের কারণে নদীর তীরের ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও সরকারি উদ্যোগ
ভাঙন রোধে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। এ ছাড়া, তারা প্রশাসনের কাছে বাল্বহেডের চলাচল বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে। চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, বাল্বহেডের কারণে সৃষ্ট নদী ভাঙন রোধে এলাকাবাসীদের প্রতিবাদ এবং মানববন্ধনের পর বাল্বহেডের চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাসিবুর রহমানও ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগের কথা জানান।
নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
ভাঙন রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যমুনা নদীর এ তীব্র ভাঙন ঠেকাতে একমাত্র স্থায়ী বাঁধই কার্যকরী সমাধান হতে পারে। স্থানীয়রা মনে করেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে পুরো চৌহালী উপজেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যমুনা নদীর ভাঙনে চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, এটি একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদী ভাঙন রোধে স্থানীয়দের দাবি মেনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে এই উপজেলার মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রা সুরক্ষিত থাকে।
জনপ্রিয়

কুবিতে অর্থ ও হিসাব দপ্তরের নতুন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. নাছির উদ্দিন

যমুনা নদীর ভাঙনে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন, স্থায়ী বাঁধের দাবি

প্রকাশের সময় : ১২:২৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা বর্তমানে তীব্র নদী ভাঙনের কবলে রয়েছে। যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করায়, নদীর তীরে বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চল, বিশেষত খাসপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরও অনেক এলাকা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
তীব্র ভাঙনের কারণ ও এর প্রভাব
চৌহালী উপজেলার নদীভাঙন পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নদীর তীব্র ভাঙনে বসতবাড়ি ও কৃষিজমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে রেহাই পুখুরিয়া পশ্চিমপাড়া, মিটুয়ানী, চর বিনানই ও চর সলিমাবাদ এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রতি বছরই তারা নদী ভাঙনের শিকার হলেও এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যমুনা নদীতে বাল্বহেড দিয়ে বালি সরবরাহের কারণে নদীর তীরের ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও সরকারি উদ্যোগ
ভাঙন রোধে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। এ ছাড়া, তারা প্রশাসনের কাছে বাল্বহেডের চলাচল বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে। চৌহালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, বাল্বহেডের কারণে সৃষ্ট নদী ভাঙন রোধে এলাকাবাসীদের প্রতিবাদ এবং মানববন্ধনের পর বাল্বহেডের চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাসিবুর রহমানও ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগের কথা জানান।
নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
ভাঙন রোধে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যমুনা নদীর এ তীব্র ভাঙন ঠেকাতে একমাত্র স্থায়ী বাঁধই কার্যকরী সমাধান হতে পারে। স্থানীয়রা মনে করেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে পুরো চৌহালী উপজেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যমুনা নদীর ভাঙনে চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, এটি একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদী ভাঙন রোধে স্থানীয়দের দাবি মেনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে এই উপজেলার মানুষ ও তাদের জীবনযাত্রা সুরক্ষিত থাকে।