শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃষিপণ্য ও পার্সেল পরিবহনে চলবে চার জোড়া ট্রেন: রেলমন্ত্রী

ইদ্রিস আলী ## করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারঘোষিত লকডাউনের সময় সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে চার জোড়া ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

মঙ্গলবার রেলভবনে লকডাউন এবং করোনাকালীন পণ্যবাহী ও পার্সেল ট্রেন পরিচালনা বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ২৭ মার্চ থেকে অন্যসব যানবাহনের মত ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। বিধিনিষেধ শিথিল হলে ৩১ মে থেকে ৫০ শতাংশ আসনে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছিল রেলওয়ে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১৬ সেপ্টেম্বর আবার সব আসনে যাত্রী বহন শুরু হয় ট্রেনে।

মার্চের শেষ দিকে দেশে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে থাকায় নতুন করে নানা বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। ঘোষণা করা হয় সাতদিনের বিধিনিষেধ। পরে এই সময় আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। এর মধ্যে আগামীকাল থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ‘লকডাউনের’মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ রেখে শুধু জরুরি পণ্য পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর বন্ধ আছে ট্রেন চলাচল।

সরকারঘোষিত লকডাউনের সময় সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে চার জোড়া ট্রেন চলবে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঢাকা-সিলেট, সিলেট-ঢাকা, চট্টগ্রাম-সরিষাবাড়ী, সরিষাবাড়ী-চট্টগ্রাম, খুলনা-চিলহাটি, চিলহাটি -খুলনা, পঞ্চগড় (বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম)-ঢাকা, ঢাকা-পঞ্চগড় প্রতিদিন চলাচল করবে। আগামীকাল (বুধবার) থেকে এই ট্রেনগুলো চলাচল করবে। প্রাথমিকভাবে লকডাউনের জন্য এগুলো চালু করা হয়েছে, পরবর্তীতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে এই ট্রেন চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সরিষাবাড়ী ও চট্টগ্রাম-সিলেটের মধ্যে পরিবাহিত পার্সেল মালামাল ভৈরববাজার ও আখাউড়া স্টেশন লাগেজ ভ্যান সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে গন্তব্যে পাঠানো হবে। আর খুলনা-ঢাকা রুটের মালামাল পরিবাহিত লাগেজ ভ্যান ঈশ্বরদী স্টেশনে বিয়োজন হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ট্রেনে সংযোজন-বিয়োজন করা হবে।

নুরুল ইসলাম জানান, বিশেষ পার্সেল ট্রেনে কৃষিজাত পণ্য যেমন, শাক-সবজি, দেশীয় ফলমূলসহ অন্যান্য কৃষি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মূল ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ রেয়াতি ও অন্যান্য সব ধরনের চার্জ মওকুফ করা হবে।

রুটভিত্তিক ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট রুটের দূরত্ব ৩১৯ কিলোমিটারের জন্য কেজিপ্রতি ১ টাকা ১১ পয়সা, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৩৪৬ কিলোমিটারের জন্য কেজিপ্রতি ১ টাকা ১৭ পয়সা, চট্টগ্রাম-সরিষাবাড়ী ৪৬৯ কিলোমিটারের জন্য ১ টাকা ৩৫ পয়সা, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ৩৯০ কিলোমিটারের জন্য ১ টাকা ৩০ পয়সা, খুলনা-চিলাহাটি রুটে ৪৯০ কিলোমিটারের জন্য ১ টাকা ৩৬ পয়সা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল-ঢাকা রুটে ৫৯৩ কিলোমিটারের জন্য ১ টাকা ৫৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখকের সম্পর্কে

Shahriar Hossain

জনপ্রিয়

কুবিতে স্টুডেন্ট’স ইউনিয়ন অব নাঙ্গলকোট এর নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

কৃষিপণ্য ও পার্সেল পরিবহনে চলবে চার জোড়া ট্রেন: রেলমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:১৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১

ইদ্রিস আলী ## করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারঘোষিত লকডাউনের সময় সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে চার জোড়া ট্রেন চলবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

মঙ্গলবার রেলভবনে লকডাউন এবং করোনাকালীন পণ্যবাহী ও পার্সেল ট্রেন পরিচালনা বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বছরের ২৭ মার্চ থেকে অন্যসব যানবাহনের মত ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। বিধিনিষেধ শিথিল হলে ৩১ মে থেকে ৫০ শতাংশ আসনে যাত্রী পরিবহন শুরু করেছিল রেলওয়ে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ১৬ সেপ্টেম্বর আবার সব আসনে যাত্রী বহন শুরু হয় ট্রেনে।

মার্চের শেষ দিকে দেশে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে থাকায় নতুন করে নানা বিধিনিষেধ জারি করে সরকার। ঘোষণা করা হয় সাতদিনের বিধিনিষেধ। পরে এই সময় আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। এর মধ্যে আগামীকাল থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ‘লকডাউনের’মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ রেখে শুধু জরুরি পণ্য পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পর বন্ধ আছে ট্রেন চলাচল।

সরকারঘোষিত লকডাউনের সময় সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে চার জোড়া ট্রেন চলবে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঢাকা-সিলেট, সিলেট-ঢাকা, চট্টগ্রাম-সরিষাবাড়ী, সরিষাবাড়ী-চট্টগ্রাম, খুলনা-চিলহাটি, চিলহাটি -খুলনা, পঞ্চগড় (বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম)-ঢাকা, ঢাকা-পঞ্চগড় প্রতিদিন চলাচল করবে। আগামীকাল (বুধবার) থেকে এই ট্রেনগুলো চলাচল করবে। প্রাথমিকভাবে লকডাউনের জন্য এগুলো চালু করা হয়েছে, পরবর্তীতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে এই ট্রেন চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সরিষাবাড়ী ও চট্টগ্রাম-সিলেটের মধ্যে পরিবাহিত পার্সেল মালামাল ভৈরববাজার ও আখাউড়া স্টেশন লাগেজ ভ্যান সংযোজন-বিয়োজনের মাধ্যমে গন্তব্যে পাঠানো হবে। আর খুলনা-ঢাকা রুটের মালামাল পরিবাহিত লাগেজ ভ্যান ঈশ্বরদী স্টেশনে বিয়োজন হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ট্রেনে সংযোজন-বিয়োজন করা হবে।

নুরুল ইসলাম জানান, বিশেষ পার্সেল ট্রেনে কৃষিজাত পণ্য যেমন, শাক-সবজি, দেশীয় ফলমূলসহ অন্যান্য কৃষি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মূল ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ রেয়াতি ও অন্যান্য সব ধরনের চার্জ মওকুফ করা হবে।

রুটভিত্তিক ভাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট রুটের দূরত্ব ৩১৯ কিলোমিটারের জন্য কেজিপ্রতি ১ টাকা ১১ পয়সা, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৩৪৬ কিলোমিটারের জন্য কেজিপ্রতি ১ টাকা ১৭ পয়সা, চট্টগ্রাম-সরিষাবাড়ী ৪৬৯ কিলোমিটারের জন্য ১ টাকা ৩৫ পয়সা, চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ৩৯০ কিলোমিটারের জন্য ১ টাকা ৩০ পয়সা, খুলনা-চিলাহাটি রুটে ৪৯০ কিলোমিটারের জন্য ১ টাকা ৩৬ পয়সা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল-ঢাকা রুটে ৫৯৩ কিলোমিটারের জন্য ১ টাকা ৫৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।