বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামী বছর দেশেই উৎপাদন হবে করোনা ভ্যাকসিন

মশিয়ার রহমান ## ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার উৎপাদিত করোনা ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ ২০২২ সালের মার্চ থেকে দেশেই উৎপাদন করবে। দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারবে। রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান ভ্যাকসিন ইস্যুতে প্রাথমিক পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, উৎপাদন প্রক্রিয়ার ফর্মুলা প্রকাশ না করাসহ একাধিক শর্তে রাশিয়ার উৎপাদিত ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ দেশে উৎপাদনের জন্য দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত ২৭ মে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়।

প্রথম পর্বের বৈঠকে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে যে, বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার উৎপাদিত করোনা ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ আগামী মার্চ থেকে উৎপাদন করবে। উভয় দেশের সম্মতিতে প্রতিদিন ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চলতি সপ্তাহেই আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

দুই দেশের মধ্যে এসব বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য সচিব এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেশটির পক্ষে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

রাশিয়ার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ দেশে উৎপাদন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত ২২ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা রাশিয়া থেকে কিছু ভ্যাকসিন ক্যাশ দিয়ে কিনবো, আর কিছু আমরা এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করবো। এখানে এক নম্বর শর্ত হচ্ছে যে ভ্যাকসিন উৎপাদনের ফর্মুলা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

তিনি আরো বলেছিলেন, এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে সমাঝোতা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে লাইন মিনিস্ট্রি হিসেবে কাজ করেছে। বিষয়টি রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত আলোচনা ও সমাঝোতা করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ১০ জুন সাংবাদিকদের বলেন, করোনা প্রতিরোধে দেশেই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর ঘোষণা আসবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার আই ইগ্নটভের গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে ভ্যাকসিন সহযোগিতা নিয়ে আলাপ চলছে। এ বিষয়ে চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই রাশিয়া থেকে ভ্যাকসিন সহযোগিতা পাবে বাংলাদেশ।

 

জনপ্রিয়

শেখ হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

আগামী বছর দেশেই উৎপাদন হবে করোনা ভ্যাকসিন

প্রকাশের সময় : ১২:২৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

মশিয়ার রহমান ## ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার উৎপাদিত করোনা ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ ২০২২ সালের মার্চ থেকে দেশেই উৎপাদন করবে। দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারবে। রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান ভ্যাকসিন ইস্যুতে প্রাথমিক পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, উৎপাদন প্রক্রিয়ার ফর্মুলা প্রকাশ না করাসহ একাধিক শর্তে রাশিয়ার উৎপাদিত ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ দেশে উৎপাদনের জন্য দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। গত ২৭ মে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়।

প্রথম পর্বের বৈঠকে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে যে, বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস রাশিয়ার উৎপাদিত করোনা ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ আগামী মার্চ থেকে উৎপাদন করবে। উভয় দেশের সম্মতিতে প্রতিদিন ৩০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চলতি সপ্তাহেই আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

দুই দেশের মধ্যে এসব বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য সচিব এবং রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দেশটির পক্ষে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।

রাশিয়ার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন ‘স্পুটনিক ভি’ দেশে উৎপাদন বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত ২২ এপ্রিল সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা রাশিয়া থেকে কিছু ভ্যাকসিন ক্যাশ দিয়ে কিনবো, আর কিছু আমরা এখানে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করবো। এখানে এক নম্বর শর্ত হচ্ছে যে ভ্যাকসিন উৎপাদনের ফর্মুলা অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

তিনি আরো বলেছিলেন, এরই মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের ভ্যাকসিন উৎপাদন বিষয়ে সমাঝোতা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখানে লাইন মিনিস্ট্রি হিসেবে কাজ করেছে। বিষয়টি রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিস্তারিত আলোচনা ও সমাঝোতা করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ১০ জুন সাংবাদিকদের বলেন, করোনা প্রতিরোধে দেশেই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব দ্রুতই যৌথভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরুর ঘোষণা আসবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার আই ইগ্নটভের গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে ভ্যাকসিন সহযোগিতা নিয়ে আলাপ চলছে। এ বিষয়ে চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে দ্রুতই রাশিয়া থেকে ভ্যাকসিন সহযোগিতা পাবে বাংলাদেশ।