
এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে অভিযোগ হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্দেশের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এএসএম মনওয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে দায়িত্ব পালনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে দাবী করা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র, জনবল কাঠামো ২০১৮ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ না করে এএসএম মনওয়ারুল ইসলাম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খল সৃষ্টি করেছেন। এ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত চলাকালীন সময় চলতি বছরের ১ জানুয়ারী হতে ওই কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক একেএম মনছুরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন কলেজ পরিচালনা কমিটি। একেএম মনছুরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হলেও তাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব বুঝে দেয়া হয়নি।
এ দিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হলে উত্তর বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে সাবেক অধ্যক্ষ এএসএম মনওয়ারুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এএসএম মনওয়ারুল ইসলাম উত্তর বাংলা কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও উত্তর বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে উত্তর বাংলা কলেজের অধিকাংশ বিষয়ে তিনি হস্তক্ষেপ করেন এমন অভিযোগ উঠেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ উমর ফারুক গত ২৫ জানুয়ারী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের কাছে প্রেরণ করলেও দীর্ঘদিনেও সাবেক অধ্যক্ষ এএসএম মনওয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এমন অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া ওই কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক জাকারিয়া হাবিব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি’র কাছে দাবী করেন ২২ জন শিক্ষককে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গ্রহনের জন্য পাঠানো হলেও এ ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন নেয়া হয়নি। রজত জয়ন্ত্রীর নামে ৭০ লক্ষ টাকা নিয়ম বহির্ভুত ভাবে ব্যয় করেন তৎকালীন অধ্যক্ষ এএসএম মনওয়ারুল ইসলাম। সিইআই কর্তৃক ৯৮ লক্ষ টাকার প্রজেক্ট আসলে তা কলেজ ফান্ডে জমা না করে এবং সরকারকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়নি এমন দাবী প্রভাষক জাকারিয়া হাবিব’র।
এ বিষয়ে উত্তর বাংলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একেএম মনছুরুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে চলতি দায়িত্বে আছে। তবে সাবেক অধ্যক্ষ এএসএম মনওয়ারুল ইসলাম পুর্বের আয় ব্যয়ের হিসাব এখনো বুঝিয়ে দেয়নি। নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ হলে তাকে সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিবেন।
উত্তর বাংলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এএসএম মনওয়ারুল ইসলাম বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একেএম মনছুরুল ইসলামের কাছে সকল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি। আমার সময়কালে বার বার শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে উত্তর বাংলা কলেজ নির্বাচিত হয়েছে। এখন এ জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষে যখন উত্তর বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রকল্প পরিচালক’ হিসেবে কাজ করছি। আমি যখন কলেজ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এসেছি, ঠিক তখনি একটি মহল নোংরামী করছে। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা দেশে এলে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ করে তার উপস্থিতিতে নতুন অধ্যক্ষের কাছে সব হিসাব বুঝিয়ে দেয়া হবে। যারা এ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হোক এটা চায় না কেবল তারাই আমার বিরুদ্ধে ষড়ষন্ত্র করছে।
কাকিনা উত্তর বাংলা কলেজের পরিচালনা কমিটি’র সভাপতি নজরুল ইসলাম মতি সাবেক অধ্যক্ষ এএসএম মনওয়ারুল ইসলামের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে তার দাবী কিছু সময়ের জন্য একেএম মনছুরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর বাইরে তিনি আর কথা বলতে রাজি হয়নি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ উমর ফারুক বলেন, উত্তর বাংলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এএসএম মনওয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগ গুলো তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন অনেক আগেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন শিক্ষা অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আশা সকলের।
নিজস্ব সংবাদদাতা 







































