মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিইসিকে ‘ব্যাটা বেকুব’ বলে কটাক্ষ রিজভীর

সংগৃহীত ছবি

ভোটের মাঠে অটল থেকে মাঠ ছেড়ে না যেতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল রাজনৈতিক দলগুলোকে যে পরামর্শ দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় তাকে ‘ব্যাটা বেকুব’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার (৭ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপি নেতার মতে বিএনপিকে সিইসি সন্ত্রাসের পথে যেতে উসকানি দিয়েছেন। সেটি কেমন তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘সিইসি উসকানি দিচ্ছেন যে তোমরাও সন্ত্রাস করো। আর রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে সরকার সেটাকে দেখাবে যে বিএনপি সন্ত্রাস করছে। রাতের অন্ধকারে তারা ভোট করবে।’

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম ও বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের আজকের দিনে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। পরের বছর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে যান চিকিৎসা করাতে। সে সময় কথা ছিল চিকিৎসা শেষে তিনি ফিরবেন। কিন্তু আর ফেরেননি।

এর মধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন, বিদেশে অর্থ পাচার, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা, বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা করা হয়েছে বিএনপি নেতার।

উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘দেখেছেন না, একজনকে সিইসি করেছে। তিনি বলছেন, বিরোধী দলকে নাকি মাঠ ধরে রাখতে হবে। ইয়াকুবের ব্যাটা বেকুব, এই সিইসি।’

পরক্ষণেই তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল মাঠ ধরে রাখবে কী? মাঠ তো সমান থাকবে, স্বচ্ছ থাকবে। সেটা তো নিশ্চিত করার দায়িত্ব একটি সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এই লুটেরা, ডাকাত, যারা দিনের ভোট রাতে করে। তারা যে রাষ্ট্রক্ষমতা দিয়ে যেয়ে মাঠ ডাকাতি করে রাখবে সেটা কি আপনি জানেন না।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সিইসির দায়িত্ব পেয়ে হাবিবুল আউয়াল রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটের লড়াইয়ে অটল থাকার পরামর্শ দেন। পরাক্রমশালী রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির অটল থেকে লড়াই করে যাওয়ার উদাহরণ টানেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন তো যুদ্ধও। যেমন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেনেলস্কি মাঠ ছেড়ে পালাননি। এমনই ভাবে দলগুলোকেও মাঠে থাকতে হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব দায়িত্ব পালনের।’

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আবেগ আছে। মানুষের আকাঙ্ক্ষা থাকে, রাজনৈতিক দলগুলোর আকাঙ্ক্ষা থাকে। নির্বাচনে দলগুলোর অনেক কর্মী থাকেন, তাদেরও কিন্তু দায়িত্ব থাকে। মাঠ ছাড়া কিন্তু যাবে না। কষ্ট হবে কিন্তু মাঠ ছেড়ে পালানো যাবে না।’

জবাবে রিজভী বলেন, ‘সিইসি যদি বলেন বিরোধী দলকে মাঠ ধরে থাকতে হবে। এটা তো অত্যন্ত চক্রান্তমূলক একটি কথা।’

তিনি বলেন, ‘আপনি যে চেতনায় লালিত, আপনার তথ্যমন্ত্রী উপহাস করছেন। আপনিও জনগণের ভোট নিয়ে উপহাস করছেন।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘উনি বলছেন, এখন কাব্যের মধ্যে কুঁড়েঘরের কথা আছে। বিনা ভোটের মন্ত্রী বলে আপনি এমন কথা বলছেন। আপনি তো গ্রামে, হাটবাজারে যান না। আপনি তো রেললাইনের ধারে যান না। আপনি তো প্লেনে প্লেনে উড়ে বেড়ান, গাড়িতে করে বাড়িতে যান। আপনি মানুষের দারিদ্র্য নিয়ে উপহাস করছেন।

জনপ্রিয়

পেশাদারিত্বের বিষয়ে সাংবাদিকদের আপসহীন হতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

সিইসিকে ‘ব্যাটা বেকুব’ বলে কটাক্ষ রিজভীর

প্রকাশের সময় : ১১:০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ মার্চ ২০২২

ভোটের মাঠে অটল থেকে মাঠ ছেড়ে না যেতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল রাজনৈতিক দলগুলোকে যে পরামর্শ দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় তাকে ‘ব্যাটা বেকুব’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ সোমবার (৭ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিএনপি নেতার মতে বিএনপিকে সিইসি সন্ত্রাসের পথে যেতে উসকানি দিয়েছেন। সেটি কেমন তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘সিইসি উসকানি দিচ্ছেন যে তোমরাও সন্ত্রাস করো। আর রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে সরকার সেটাকে দেখাবে যে বিএনপি সন্ত্রাস করছে। রাতের অন্ধকারে তারা ভোট করবে।’

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম ও বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের আজকের দিনে ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। পরের বছর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে যান চিকিৎসা করাতে। সে সময় কথা ছিল চিকিৎসা শেষে তিনি ফিরবেন। কিন্তু আর ফেরেননি।

এর মধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন, বিদেশে অর্থ পাচার, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা, বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা করা হয়েছে বিএনপি নেতার।

উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘দেখেছেন না, একজনকে সিইসি করেছে। তিনি বলছেন, বিরোধী দলকে নাকি মাঠ ধরে রাখতে হবে। ইয়াকুবের ব্যাটা বেকুব, এই সিইসি।’

পরক্ষণেই তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল মাঠ ধরে রাখবে কী? মাঠ তো সমান থাকবে, স্বচ্ছ থাকবে। সেটা তো নিশ্চিত করার দায়িত্ব একটি সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এই লুটেরা, ডাকাত, যারা দিনের ভোট রাতে করে। তারা যে রাষ্ট্রক্ষমতা দিয়ে যেয়ে মাঠ ডাকাতি করে রাখবে সেটা কি আপনি জানেন না।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সিইসির দায়িত্ব পেয়ে হাবিবুল আউয়াল রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোটের লড়াইয়ে অটল থাকার পরামর্শ দেন। পরাক্রমশালী রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির অটল থেকে লড়াই করে যাওয়ার উদাহরণ টানেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন তো যুদ্ধও। যেমন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেনেলস্কি মাঠ ছেড়ে পালাননি। এমনই ভাবে দলগুলোকেও মাঠে থাকতে হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব দায়িত্ব পালনের।’

সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আবেগ আছে। মানুষের আকাঙ্ক্ষা থাকে, রাজনৈতিক দলগুলোর আকাঙ্ক্ষা থাকে। নির্বাচনে দলগুলোর অনেক কর্মী থাকেন, তাদেরও কিন্তু দায়িত্ব থাকে। মাঠ ছাড়া কিন্তু যাবে না। কষ্ট হবে কিন্তু মাঠ ছেড়ে পালানো যাবে না।’

জবাবে রিজভী বলেন, ‘সিইসি যদি বলেন বিরোধী দলকে মাঠ ধরে থাকতে হবে। এটা তো অত্যন্ত চক্রান্তমূলক একটি কথা।’

তিনি বলেন, ‘আপনি যে চেতনায় লালিত, আপনার তথ্যমন্ত্রী উপহাস করছেন। আপনিও জনগণের ভোট নিয়ে উপহাস করছেন।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘উনি বলছেন, এখন কাব্যের মধ্যে কুঁড়েঘরের কথা আছে। বিনা ভোটের মন্ত্রী বলে আপনি এমন কথা বলছেন। আপনি তো গ্রামে, হাটবাজারে যান না। আপনি তো রেললাইনের ধারে যান না। আপনি তো প্লেনে প্লেনে উড়ে বেড়ান, গাড়িতে করে বাড়িতে যান। আপনি মানুষের দারিদ্র্য নিয়ে উপহাস করছেন।