মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর পরকীয়ায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় প্রবাসী পিতা 

স্ত্রীর পরকীয়ার কারনে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রবাসী পিতা। দুই কন্যার কথা চিন্তা করে তিনি বিভিন্ন লোকের হাতেপায়ে ধরছেন স্ত্রীকে বোঝানোর জন্য। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়নের মাঠুয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাক হোসেনের বড় মেয়ে নাসরিন আক্তার সীমার সাথে ২০১৫ সালে বিয়ে হয় মহেশপুর উপজেলার শ্যমকুড় গ্রামের রমেজ আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী কদম আলীর সাথে। এর আগে ২০১২ সালে সীমা প্রেম করে বিয়ে করেন গদখালি ফতেপুরের আলমগীর হোসেনের সাথে। আলমগীর নিম্ন আয়ের একজন মানুষ হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সীমা তাকে তালাক দিয়ে সৌদি প্রবাসী কদম আলীকে বিয়ে করে তার সাথে সৌদি আরব চলে যান। দু’বছর পর দেশে ফিরে এসে কদম আলী সীমার নামে শশুর বাড়ির পাশেই তের শতক জমি কিনে সেখানে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশনের একতলা বাড়ি করে দেন। ইতিমধ্যে এই দম্পত্তির দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কদম আলী তার কর্মস্হল সৌদি আরব ফিরে যান। এর পরই সীমা গদখালি মঠবাড়ি গ্রামের মৃত রওশন আলী দিলীপ এর ছেলে মিজানুর রহমান মিলন এর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং কদম আলীকে তালাক দিয়ে মিলনকে বিয়ে করে ঘরসংসার করা শুরু করেন। এই খবর পেয়ে দুকন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে কদম আলীর। তিনি আবার সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসে অনেক দেন-দরবার করে শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎের কথা ভেবে মিলনের কাছ থেকে সীমাকে তালাক করিয়ে নেন এবং ইসলাম ধর্মীয় রীতি মেনে পুনরায় বিয়ে করে ঘরসংসার করতে থাকেন। মিলনের সাথে সংসার করার সময় সীমা মিলনের কাছ থেকে মঠবাড়ি মেইনরোডের সাথে ৫শতক জমি সহ একটি বাড়ি লিখে নেন। ৪র্থ বার কদম আলীকে বিয়ে করার সময় জীবননগর মেইন রোডের পাশের চার শতাংশ জমি কদম আলীর কাছ থেকে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। শর্ত থাকে যে ঐ জমিতে বাড়ি করে সীমা সেখানে চলে যাবে। তিনমাস পর কদম আলী বিদেশ চলে গেলে সীমা আবারও মিলনের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হন এবং জীবননগর যেতে অস্বীকার করে কদম আলীর সাথে দুর্ব্যবহার করা শুরু করেন। এখন কদম আলী আবারও দু সন্তানের ভবিষ্যৎের কথা চিন্তা করে বিদেশ থেকে বিভিন্ন জনের হাতেপায়ে ধরছেন যাতে সীমা উচ্ছৃঙ্খল জীবন থেকে ফিরে আসে। এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে সীমা বলেন, আমি মিলনকে তালাক দিতে চাইনি। তারা জোর করে আমাকে দিয়ে তালাক করিয়ে নিয়েছে। আমি কদম আলীর সাথে সংসার করতে চাইনা। সীমার বর্তমান প্রেমিক মিলন জানান, সীমাকে তিনি বিয়ে করে তাকে একটি বাড়িসহ জমি লিখে দিয়েছিলেন কিন্তু এখন তার সাথে সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন।

এদিকে মিলনের প্রথম স্ত্রী তিন সন্তানের জননী লাভলী আক্তার জানালেন, মিলন এবং সীমা আবারও বিয়ে করে বিভিন্ন জায়গায় গোপনে স্বামী স্ত্রীর মত মেলামেশা করে বেড়াচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় গত ১২মে মিলন তাকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করা দিয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশায় মিলনের নামে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কদম আলী জানান শুধু মাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে তিনি সীমাকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণের গহনা, দুটি জমি এবং একটি বাড়ি করে দিয়েছেন। কিন্তু সীমা তার বাচ্চার কথা চিন্তা না করে বিভিন্ন পরপুরুষের সাথে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। তার সাথে বিয়ের পূর্বে আলমগীরকে ডিভোর্স দিয়ে গোপনে সে মিলনকে বিয়ে করেছিল কিন্তু আমার সাথে বিয়ের সময় সেই তথ্য গোপন করে।  সীমা এসব থেকে বিরত না হলে দুসন্তান নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে জানান।
জনপ্রিয়

কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে রাষ্ট্রীয় শোক উপেক্ষার অভিযোগ, অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক

স্ত্রীর পরকীয়ায় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় প্রবাসী পিতা 

প্রকাশের সময় : ১১:৪৫:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২

স্ত্রীর পরকীয়ার কারনে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রবাসী পিতা। দুই কন্যার কথা চিন্তা করে তিনি বিভিন্ন লোকের হাতেপায়ে ধরছেন স্ত্রীকে বোঝানোর জন্য। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ইউনিয়নের মাঠুয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাক হোসেনের বড় মেয়ে নাসরিন আক্তার সীমার সাথে ২০১৫ সালে বিয়ে হয় মহেশপুর উপজেলার শ্যমকুড় গ্রামের রমেজ আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী কদম আলীর সাথে। এর আগে ২০১২ সালে সীমা প্রেম করে বিয়ে করেন গদখালি ফতেপুরের আলমগীর হোসেনের সাথে। আলমগীর নিম্ন আয়ের একজন মানুষ হওয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সীমা তাকে তালাক দিয়ে সৌদি প্রবাসী কদম আলীকে বিয়ে করে তার সাথে সৌদি আরব চলে যান। দু’বছর পর দেশে ফিরে এসে কদম আলী সীমার নামে শশুর বাড়ির পাশেই তের শতক জমি কিনে সেখানে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশনের একতলা বাড়ি করে দেন। ইতিমধ্যে এই দম্পত্তির দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কদম আলী তার কর্মস্হল সৌদি আরব ফিরে যান। এর পরই সীমা গদখালি মঠবাড়ি গ্রামের মৃত রওশন আলী দিলীপ এর ছেলে মিজানুর রহমান মিলন এর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং কদম আলীকে তালাক দিয়ে মিলনকে বিয়ে করে ঘরসংসার করা শুরু করেন। এই খবর পেয়ে দুকন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে কদম আলীর। তিনি আবার সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসে অনেক দেন-দরবার করে শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎের কথা ভেবে মিলনের কাছ থেকে সীমাকে তালাক করিয়ে নেন এবং ইসলাম ধর্মীয় রীতি মেনে পুনরায় বিয়ে করে ঘরসংসার করতে থাকেন। মিলনের সাথে সংসার করার সময় সীমা মিলনের কাছ থেকে মঠবাড়ি মেইনরোডের সাথে ৫শতক জমি সহ একটি বাড়ি লিখে নেন। ৪র্থ বার কদম আলীকে বিয়ে করার সময় জীবননগর মেইন রোডের পাশের চার শতাংশ জমি কদম আলীর কাছ থেকে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। শর্ত থাকে যে ঐ জমিতে বাড়ি করে সীমা সেখানে চলে যাবে। তিনমাস পর কদম আলী বিদেশ চলে গেলে সীমা আবারও মিলনের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হন এবং জীবননগর যেতে অস্বীকার করে কদম আলীর সাথে দুর্ব্যবহার করা শুরু করেন। এখন কদম আলী আবারও দু সন্তানের ভবিষ্যৎের কথা চিন্তা করে বিদেশ থেকে বিভিন্ন জনের হাতেপায়ে ধরছেন যাতে সীমা উচ্ছৃঙ্খল জীবন থেকে ফিরে আসে। এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে সীমা বলেন, আমি মিলনকে তালাক দিতে চাইনি। তারা জোর করে আমাকে দিয়ে তালাক করিয়ে নিয়েছে। আমি কদম আলীর সাথে সংসার করতে চাইনা। সীমার বর্তমান প্রেমিক মিলন জানান, সীমাকে তিনি বিয়ে করে তাকে একটি বাড়িসহ জমি লিখে দিয়েছিলেন কিন্তু এখন তার সাথে সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেন।

এদিকে মিলনের প্রথম স্ত্রী তিন সন্তানের জননী লাভলী আক্তার জানালেন, মিলন এবং সীমা আবারও বিয়ে করে বিভিন্ন জায়গায় গোপনে স্বামী স্ত্রীর মত মেলামেশা করে বেড়াচ্ছে। এর প্রতিবাদ করায় গত ১২মে মিলন তাকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করা দিয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশায় মিলনের নামে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কদম আলী জানান শুধু মাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ ভেবে তিনি সীমাকে প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণের গহনা, দুটি জমি এবং একটি বাড়ি করে দিয়েছেন। কিন্তু সীমা তার বাচ্চার কথা চিন্তা না করে বিভিন্ন পরপুরুষের সাথে সম্পর্ক রেখে চলেছেন। তার সাথে বিয়ের পূর্বে আলমগীরকে ডিভোর্স দিয়ে গোপনে সে মিলনকে বিয়ে করেছিল কিন্তু আমার সাথে বিয়ের সময় সেই তথ্য গোপন করে।  সীমা এসব থেকে বিরত না হলে দুসন্তান নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করবেন বলে জানান।