রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হলের সিট নিয়ে ইবি ছাত্রীকে হেনস্তা, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী পপি বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ও খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী। সে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের অনুসারী।

জানা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দা সায়মা রহমান হাফিজের প্রেমিকা। সে হাফিজের রেফারেন্সে খালেদা জিয়া হলের নতুন ব্লকের ২০৪ নম্বর রুমে ওঠে। রুমের জানালার পাশের সিটে ওঠা নিয়ে সায়মার সাথে পপির কথা কাটাকাটি হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর পপি ও তার বন্ধুরা প্রধান ফটকের দিকে ঘুরতে গেলে হাফিজ ও তার সহযোগীরা তাদেরকে আটকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ নিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এসময় তারা পপিকে হেনস্থা করে ও তার সাথে থাকা বন্ধুকে মারধর করে।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত হাফিজের বিচারের দাবিতে খালেদা জিয়া হল চত্বরে বিক্ষোভ করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ চলে।

ভুক্তভোগী পপি বলেন, আমি তাকে শুধু সিনিয়ররা জানালার পাশে উঠতে  বলে জানিয়ে দেই। তাকে বলি ওখানে এক সিনিয়ার আছে তুমি সিনিয়ার হলে জানালার পাশে যেতে পারবে। তাকে সেখানে উঠতে নিষেধ করায় হাফিজ মেইন গেটের সামনে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার ও আমাকে হেনস্তা করে এবং সাথে থাকা বন্ধুকে মারধর করে। আমি প্রশাসনের নিকট এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

পপির বন্ধু পথিক বলেন, আমি সায়মার সাথে হলের সিটের বিষয়ে কথা বললে সে তার বয়ফ্রেন্ড হাফিজকে দিয়ে আমাকে হেনস্তা করে। সে আমাকে থাপ্পড় মারে। আমার বন্ধু আটকাতে গেলে তাকেও প্রচণ্ড থাপ্পড় মারে। আমি এর সুষ্ঠুু বিচার চাই।

অভিযুক্ত হাফিজ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের  সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি হল প্রভোস্টের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।

হল  প্রভোস্ট অধ্যাপক ড.  ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন, আগামীকাল এ বিষয়টা নিয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে বসবো। আশা করি একটা সুন্দর সমাধান হবে।

বার্তাকণ্ঠ/এন

জনপ্রিয়

সুন্দরবনে বনদস্যুদের তান্ডবে শুঁটকি মাছ আহরণে সংকটে জেলেরা

হলের সিট নিয়ে ইবি ছাত্রীকে হেনস্তা, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক বাংলা বিভাগের এক ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী পপি বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ও খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী। সে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয়ের অনুসারী।

জানা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈয়দা সায়মা রহমান হাফিজের প্রেমিকা। সে হাফিজের রেফারেন্সে খালেদা জিয়া হলের নতুন ব্লকের ২০৪ নম্বর রুমে ওঠে। রুমের জানালার পাশের সিটে ওঠা নিয়ে সায়মার সাথে পপির কথা কাটাকাটি হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর পপি ও তার বন্ধুরা প্রধান ফটকের দিকে ঘুরতে গেলে হাফিজ ও তার সহযোগীরা তাদেরকে আটকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ নিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এসময় তারা পপিকে হেনস্থা করে ও তার সাথে থাকা বন্ধুকে মারধর করে।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত হাফিজের বিচারের দাবিতে খালেদা জিয়া হল চত্বরে বিক্ষোভ করেছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ চলে।

ভুক্তভোগী পপি বলেন, আমি তাকে শুধু সিনিয়ররা জানালার পাশে উঠতে  বলে জানিয়ে দেই। তাকে বলি ওখানে এক সিনিয়ার আছে তুমি সিনিয়ার হলে জানালার পাশে যেতে পারবে। তাকে সেখানে উঠতে নিষেধ করায় হাফিজ মেইন গেটের সামনে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার ও আমাকে হেনস্তা করে এবং সাথে থাকা বন্ধুকে মারধর করে। আমি প্রশাসনের নিকট এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

পপির বন্ধু পথিক বলেন, আমি সায়মার সাথে হলের সিটের বিষয়ে কথা বললে সে তার বয়ফ্রেন্ড হাফিজকে দিয়ে আমাকে হেনস্তা করে। সে আমাকে থাপ্পড় মারে। আমার বন্ধু আটকাতে গেলে তাকেও প্রচণ্ড থাপ্পড় মারে। আমি এর সুষ্ঠুু বিচার চাই।

অভিযুক্ত হাফিজ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের  সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি হল প্রভোস্টের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি।

হল  প্রভোস্ট অধ্যাপক ড.  ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন, আগামীকাল এ বিষয়টা নিয়ে আমরা প্রশাসনের সাথে বসবো। আশা করি একটা সুন্দর সমাধান হবে।

বার্তাকণ্ঠ/এন