
তানজীর মহসিন :=
দেশে মোটা চালের ভোক্তা কমেছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘আমরা মোটা চাল বিক্রি করতে পারি না। ওএমএসের গাড়ি যায়, তারা চাল বিক্রি করতে পারে না, ডিলাররা এক টনও চাল তুলছে না। কোনো গ্রাহক নেই। মোটা চাল খারাপ তো কিছু না। পুষ্টির দিক দিয়ে ভালো’।
তিনি বলেন, ‘সবাই সরু চাল খাবে, চিকন চাল খাবে। এখন আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন, কৃষক যাতে তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়। খামারে যারা কৃষিকাজ করে তারা যেন সঠিক মূল্য পায়। এটিও আমাদের দেখতে হবে’।শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সেচ ভবনে ‘কৃষি বাজার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন।
কৃষকের ন্যায্য দামের স্বার্থে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করার কোনো দরকার নেই জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল রয়েছে। এবং চাল নিয়ে কারো উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। চালের বাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। অবশ্য যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় সেটা আলাদা বিষয়। বাংলাদেশের এখন ৫০ ভাগ মানুষের জীবিকা আসে কৃষি থেকে। আর এ জন্য তাদের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ‘কৃষকের বাজার’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, এফএও বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ড. সিম্পসন প্রমুখ।
কৃষিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এক মণ ধান উৎপাদনে লাগে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। সেটা যদি ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয় তারা করবে? করবে না। এবার ৭০০ টাকা হয়েছে এটা আমাদের জন্য, বাংলার লাখ লাখ কৃষকের জন্য, যাদের ৫০ ভাগের জীবিকা এখনো কৃষি। তাদের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে’।
সবজির দামের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শীতকালীন সবজির বাজার কেবল শুরু হয়েছে। আর এখন সবজির দামও বেশি। বর্তমানে শ্রমিকদের মজুরিও অনেক বেশি, সে প্রেক্ষিতে কিছুটা দাম বাড়ছে। এ চাষি তো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তাদের ঘাম-রক্তকে ফসলে রূপান্তরিত করে। আর এমনিতেই বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতেই আগাম শস্যের দাম একটু বেশি থাকে। তবে আজকের এ বাজার মূল্য দেশের অন্য বাজার মূল্যের চাইতে খুব একটা বেশি নয়’।তিনি বলেন, সবজির দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে দাম কমে যাবে।
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘পেঁয়াজ এখনো বড় হয়নি। আরও অনেক বড় হওয়া দরকার। আমরা এটা নিয়েও শঙ্কিত আছি। সব ছোট ছোট পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছে। জানুয়ারি মাসে কী উপায় হবে? পেঁয়াজের উৎপাদন তো কমে যাবে। এ বছর পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় আগামী বছর দেশে অনেক বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে। এতে কৃষক পরবর্তী বছর পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাবে কি না তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। যখন দেশে পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয় তখন বিদেশি পেঁয়াজের আমদানির কারণে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারে না আমাদের কৃষকরা। তাই আমরা পেঁয়াজের মৌসুমে তা আমদানি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে’।
নিজস্ব সংবাদদাতা 




































