বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গরমকালে রূপ চর্চা করবেন কিভাবে ?

গরমকালে যাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন, তাঁদের দরকার অনেক বেশি যত্নের। তবেই বিশেষ দিনে আপনার ক্যামেরার ঝলকানির সামনে আপনার ত্বক থাকবে ত্বক থাকবে সুস্থ।

বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে বহু হৃদয় বিবাহ বন্ধনে বাধা পড়তে চলেছে। আর বিবাহ মানেই সেই বিশেষ দিনে নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা। তবে আমাদের সমস্যা হল, আমাদের ব্যস্তজীবনে সম্যের বড় অভাব। তাই একদিনের মেক আপে তো ম্যজিক হয় না। সুন্দর হয়ে ওঠা একটা প্রক্রিয়া। ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই নিজেদের সেই বিশেষ দিনটার জন্য নিজেকেই একটু না হয় সময় দিলেন।

প্রতিদিনের যত্ন

যতই ব্যস্ত থাকুন এই সময়ে সিটিএম রুটিনে ফাঁকি দেওয়া কিন্তু যাবে না। প্রতিদিন চেষ্টা করুন ডাবল ক্লেনজ়ারের মাধ্যমে ত্বকের ইমপিয়োরিটি, ময়লা দূর করতে। এইসময় খুব বেশি ঘাম হওয়ায় পোরস বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে সেখান থেকে অ্যাকনের সমস্যা হয়। তাই দিনে অন্তত দু’বার ডাবল ক্লেনজ়িং ব্যবহার করুন। সেক্ষেত্রে একটা ওয়াটারবেসড ক্লেনজ়িং ও একটা অয়েল বেসড ক্লেনজ়িং ব্যবহার করুন। এইসময় ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে বাঁচানোর জন্য কিন্তু শুধু মাত্র সানসস্ক্রিন-ই কিন্তু যথেষ্ট নয়। টুপি, ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করুন। সূর্যের অতিরিক্ত তাপে এই সময় ত্বকে ট্যান পড়ে যায়। তাই প্রতিদিন এক্সফোলিয়েট করাও জরুরি। সেক্ষেত্রে বাজারে অনেক ধরনের এক্সফোলিয়েশন ব্যবহার করতে পারেন। তবে চেষ্টা করুন, ঘরেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তা বানাতে। সেক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল, গুড়ো চিনি ও মধু মিশিয়ে নিন কিছুক্ষণ মুখে স্ক্রাবিং করে ধুয়ে ফেলুন। তবে যদি ত্বকে অতিরিক্ত অয়েলি হয় তাহলে কিন্তু এটি অ্যাভয়েড করুন। তার পরিবর্তে মুলতানি মাটি ও গ্রেট করা শশা মিশিয়ে মুখে মেখে নিন।

হোমমেড মাস্ক: এই সময়ে আরও একটু বাড়তি যত্নের জন্য সপ্তাহে অন্তত দু’বার হোমমেড ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।

মুলতানি ও শশার প্যাক: যাঁদের খুব বেশি ব্ল্যাকহেডের সমস্যা, ত্বক অত্যন্ত অয়েলি তাঁদের জন্য এই ফেসপ্যাক আদর্শ। দুই টেবলচামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে শশার গ্রেট করে মিশিয়ে দিন। গোলাপ জলও দিতে পারেন। একসঙ্গে উপকরণগুলো মিশিয়ে নিয়ে মুখে অ্যাপ্লাই করুন। মুলতানি অয়েল সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে। শশা ত্বকে হাইড্রেট করে।

 দইয়ের ফেসপ্যাক: একটা বোলে কিছুটা দই নিন। তারপর ১ টেবলচামচ মধু ও কিছুটা গোলাপ জল দিন। আপনার রিফ্রেশিং ফেসমাস্ক রেডি। মধু শুধু ত্বকে হাইড্রেশনই প্রদান করে না। ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে।

পেঁপে ও কলার প্যাক: এখন আমরা অনেকেই বুঝতে পারছি আবহাওয়ার চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। আগের মতো গরমে প্যাচপ্যাচে অবস্থা নেই। বরং গ্রীষ্ম এখন অনেক বেশি শুষ্ক। এই প্যাক ত্বকের আর্দ্রতাকে ধরে রাখে। এই সময় অনেকের স্কিনে এখন ড্রাই প্যাচের সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রেও এই প্যাক কিন্তু অসাধারণ। এই প্যাকের সঙ্গে মধু বা অ্যালোভেরাও মেশাতে পারেন। এতে ত্বকে কুলিং এফেক্ট ও উজ্জ্বলতা আসবে।

আমন্ড ফেসপ্যাক: স্কিনকে হাইড্রেট করতে এর জুড়ি মেলা ভার। সারারাত আমন্ড ভিজিয়ে রাখুন। তারপর গ্রাইন্ডারে আমন্ড গ্রাইন্ড করে নিন। এবার নিজের স্কিন বুঝে তাতে উপকরণ মেশান। যদি ত্বক কিছুটা শুষ্ক প্রকৃতির হয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে মধু মেশিয়ে নিন। তবে অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে মধুর বদলে মুলতানি মাটি ব্যবহার করুন।

রাইস ওয়াটার: বর্তমানে স্কিনকেয়ারে কোরিয়ান প্রীতির কথা আমরা কম বেশি সকলেই জানি। তাদের মতো গ্লাস স্কিনের সৌন্দর্য আমরা কে না চাই। প্রথমে কিছুটা চাল সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সেই চাল ভেজানো জল একটা স্প্রে বোতলে রেখে দু থেকে তিন দিন রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। দিনে তিনবার মুখে স্প্রে করতে পারেন।

চন্দন ও গোলাপজল: তবে আমাদের দেশেও রূপচর্চা কিন্তু খুব কম হত না। প্রত্যেক রাজবাড়ির অন্দরে ঘুরলে এমন কত রূপকথার গল্প শোনা যায়। সেখানে সবচেয়ে যার ব্যবহার হত, তা হল চন্দন ও গোলাপ জল। চন্দন ও গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়েও মুখে মাখতে পারেন। যদি স্কিনে ট্যান হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে খুব কম পরিমাণে হলুদও ব্যবহার করতে পারেন।

প্রফেশনাল সাহায্য: এখন সময় নিজেকে খানিক নিজেকে খানিক প্যামপারিং করা, একটু বেশি যত্ন করা। তার জন্য হবু কনেদের সালতে যাওয়া তো এখন মাস্ট। তবে অনেকেই বড্ডো দেরিতে আসেন। খেয়াল রাখবেন তিনমাস আগে থেকেই কিন্তু এই শুরুটা হয়ে যাওয়া উচিত। তিনমাস আগে না পারলে অন্তত একমাস আগে যান।

 ফেশিয়াল: অনেকেই নিজের স্কিনের প্রকৃতি বুঝতে পারেন না। কোনও ভাল বিউটিশিয়নের কাছে গেলে তিনি আপনাকে আপনার ত্বক বুঝে, কী ফেশিয়াল করতে হবে তা বলে দেবেন। এখন অনেক ফ্রুট ফেশিয়াল আছে, সেগুলোও কিন্তু সামার ব্রাইডের জন্য অত্যন্ত ভাল। এছাড়াও অনেক উন্নত প্রযুক্তিও এসে গেছে। কিন্তু ওই আবার ‘শিরে সংক্রান্তি’ করে আসবেন না। নিজের ত্বককেও তো একটু নতুন রকম জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে সময় দিতে হবে।

স্পা: বিয়ের সময় যত এগিয়ে আসে কনেদের মধ্যে থিঙ্কিং অভারথিঙ্কিংয়ের পাহাড় জমতে থাকে। বিশেষ দিনটাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে নানারকম টেনশন দেখা যায়। যার ফল পড়ে ত্বকে। হঠাত করেই কোনও নাছোড়বান্দা অ্যাকনে ত্বকে উদ্ভূত হয়। সেই জন্য এই সময় হবু কনেদের প্রথম দরকার মানসিক চাপ মুক্ত হওয়া। অ্যারোমাথেরাপি কিন্তু সেই জন্য আদর্শ। এছাড়াও আরও একটু বাড়তি যত্নের জন্য নানা ধরনের স্পায়ের সাহায্য নিতেই পারেন।

বডিকেয়ার, পেডিকিয়র ম্যানিকিয়র:  সমস্যা হল আমরা যত বেশি মুখের যত্ন নি, সেই মতো পিঠ, ঘাড়ের যত্ন নেওয়া হয় না। আর পা তো বেচারা এই সকল প্রকার যত্ন থেকে সবসময়তেই ব্রাত্য। কিন্তু হবু কনেদের তো শুধু মুখ না নিজেকে সবটুকুর যত্ন নিতে হবে। সে জন্য বডি স্ক্রাব করতে পারেন। উবটন, মুলতানি মাটি, ব্যাসন, চন্দন নানা কিছুর মাধ্যমে বডি স্ক্রাবিং, বডি পলিশিং করানো হয়ে থাকে। এছাড়া আরও একটু যত্নের জন্য বডি স্পাও করা যেতে পারে। হাত ও পায়ের যত্নে পেডিকিয়র ও ম্যনিকিয়র করা তো মাস্ট। এতে হাত-পায়ের সঙ্গে নখও সুন্দর হয়ে ওঠে।

চুলের যত্নে: এই সময় চুলে এমনিতেই ঘাম জমে যায়। ফলে বাইরের ধুলো-বালিও চুলে এসে লাগে। তাই ছোট চুল হলে প্রতিদিন ও বড় চুলের ক্ষেত্রে একদিন অন্তর শ্যাম্পু করে নিন। স্কাল্পে আলাদা আলাদা করে খুব বেশি তেল দেবেন না। এই সময় স্ক্যাল্প খুব বেশি অয়েলি হয়ে যায়। এরপর আরও বেশি তেল দিলে স্ক্যাল্পের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ড্যানড্রফ, হেয়ারফলের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই নারকেল তেলের বদলে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করুন। তাও স্ক্যাল্পে নয় হেয়ারে হালকা হাতে মাসাজ করুন। একটু বাড়তি যত্নে জন্য হেয়ার স্পাও করাতে পারে।

বাড়তি প্রসাধনি নয়: এই ঋতুর এক বড় সমস্যা হল অত্যাধিক ঘাম হওয়া। ফলে খুব বেশি মেক আপ ব্যবহার করলে তা গরমে গলে গিয়ে ত্বকের রোম ছিদ্রে জমা হয়। আর স্কিন পোরস বন্ধ হলে তা থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়ে যে স্কিন র‍্যাশ বা অ্যাকনের সমস্যা হতে পারে, সে তো আর নতুন করে বলার নেই। তাই চেষ্টা করুন স্কিনকে ব্রিদ করাতে। বিশেষ দিনটি তো আপনার জন্যই। সেখানে তো বাড়তি সুন্দর হয়ে উঠতে মেক আপ ব্যবহার হবেই। তাই তার আগে বাড়তি প্রসাধনীতে রাশ টানুন।

ভাল খাবার

সুন্দর হওয়ার জন্য সুস্থ হওয়া খুব জরুরি। তাই জন্য দরকার সঠিক ডায়েট। এইসময় ট্যান পড়ার কারণে ত্বকের সতেজতা নষ্ট হয়। এই জন্য খাদ্যতালিকায় এমন ফল রাখুন, যা শরীর হাইড্রেট করবে। প্রথমেই কিন্তু এই সময় জলপানের পরিমাণ অনেকটাই বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ জল  ডায়েটে রাখলে তা শরীরের সঙ্গে সঙ্গে ত্বককেও সুন্দর করে। এই সময় এমন ধরনের ফল বা শাকসবজি খান যাতে, জলের পরিমাণ বেশি। সেক্ষেত্রে পেঁপে তরমুজ, ডাবের জল, শশা খুবই উপকারি। এই সময় চেষ্টা ইনফিউসড ওয়াটার সঙ্গে রাখতে। সেখানে পেঁপে, শসা, পুদিনা পাতা, পাতি লেবু বা আরও কিছু পছন্দের সবজি রেখে দিন। এতে জলের স্বাদ যেমন বাড়বে, ত্বকের  জেল্লাও বৃদ্ধি করবে। বাড়িতে তৈরি করা ভেজিটেবল জুসও খেতে পারেন। কিন্তু বাইরের কেনা ফ্রুট জুস কিন্তু খাবেন না। ড্রাই ফ্রুটস বা সিডসও খাদ্যতালিকায় রাখুন। মাথায় রাখুন কোনও অবস্থাতেই কিন্তু শরীরচর্চা বাদ দেওয়া ‘নইব নইব চ’। আর তার সঙ্গে চাই লম্বা ঘুম। রাতে নিশ্চিন্তে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমোন। তাতে মানসিক চাপও যেমন কমবে, ত্বকে উজ্জ্বলতা আসবে। ডার্ক সার্কেলের সমস্যা আসবে না।

সব শেষে সেই দিনটা আপনার। সেই দিনে ক্যামেরা বেস্ট দেখার চাপ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং হয়ে ওঠার চাপ না নিয়ে মুহূর্তগুলোকে আনন্দের সঙ্গে বাঁচুন। নতুন জীবন শুরু করবেন তার জন্য আনন্দে, হাসি খুশিতে থাকুন তাহলেই তার ছাপ ত্বকে পড়তে বাধ্য। আর তার সঙ্গে থাকুক বাড়তি যত্নের যুগলবন্দি।

গরমকালে রূপ চর্চা করবেন কিভাবে ?

প্রকাশের সময় : ০৯:১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

গরমকালে যাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন, তাঁদের দরকার অনেক বেশি যত্নের। তবেই বিশেষ দিনে আপনার ক্যামেরার ঝলকানির সামনে আপনার ত্বক থাকবে ত্বক থাকবে সুস্থ।

বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে বহু হৃদয় বিবাহ বন্ধনে বাধা পড়তে চলেছে। আর বিবাহ মানেই সেই বিশেষ দিনে নিজেকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা। তবে আমাদের সমস্যা হল, আমাদের ব্যস্তজীবনে সম্যের বড় অভাব। তাই একদিনের মেক আপে তো ম্যজিক হয় না। সুন্দর হয়ে ওঠা একটা প্রক্রিয়া। ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই নিজেদের সেই বিশেষ দিনটার জন্য নিজেকেই একটু না হয় সময় দিলেন।

প্রতিদিনের যত্ন

যতই ব্যস্ত থাকুন এই সময়ে সিটিএম রুটিনে ফাঁকি দেওয়া কিন্তু যাবে না। প্রতিদিন চেষ্টা করুন ডাবল ক্লেনজ়ারের মাধ্যমে ত্বকের ইমপিয়োরিটি, ময়লা দূর করতে। এইসময় খুব বেশি ঘাম হওয়ায় পোরস বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে সেখান থেকে অ্যাকনের সমস্যা হয়। তাই দিনে অন্তত দু’বার ডাবল ক্লেনজ়িং ব্যবহার করুন। সেক্ষেত্রে একটা ওয়াটারবেসড ক্লেনজ়িং ও একটা অয়েল বেসড ক্লেনজ়িং ব্যবহার করুন। এইসময় ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে বাঁচানোর জন্য কিন্তু শুধু মাত্র সানসস্ক্রিন-ই কিন্তু যথেষ্ট নয়। টুপি, ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করুন। সূর্যের অতিরিক্ত তাপে এই সময় ত্বকে ট্যান পড়ে যায়। তাই প্রতিদিন এক্সফোলিয়েট করাও জরুরি। সেক্ষেত্রে বাজারে অনেক ধরনের এক্সফোলিয়েশন ব্যবহার করতে পারেন। তবে চেষ্টা করুন, ঘরেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তা বানাতে। সেক্ষেত্রে অ্যালোভেরা জেল, গুড়ো চিনি ও মধু মিশিয়ে নিন কিছুক্ষণ মুখে স্ক্রাবিং করে ধুয়ে ফেলুন। তবে যদি ত্বকে অতিরিক্ত অয়েলি হয় তাহলে কিন্তু এটি অ্যাভয়েড করুন। তার পরিবর্তে মুলতানি মাটি ও গ্রেট করা শশা মিশিয়ে মুখে মেখে নিন।

হোমমেড মাস্ক: এই সময়ে আরও একটু বাড়তি যত্নের জন্য সপ্তাহে অন্তত দু’বার হোমমেড ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।

মুলতানি ও শশার প্যাক: যাঁদের খুব বেশি ব্ল্যাকহেডের সমস্যা, ত্বক অত্যন্ত অয়েলি তাঁদের জন্য এই ফেসপ্যাক আদর্শ। দুই টেবলচামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে শশার গ্রেট করে মিশিয়ে দিন। গোলাপ জলও দিতে পারেন। একসঙ্গে উপকরণগুলো মিশিয়ে নিয়ে মুখে অ্যাপ্লাই করুন। মুলতানি অয়েল সিক্রেশনকে নিয়ন্ত্রণ করে। শশা ত্বকে হাইড্রেট করে।

 দইয়ের ফেসপ্যাক: একটা বোলে কিছুটা দই নিন। তারপর ১ টেবলচামচ মধু ও কিছুটা গোলাপ জল দিন। আপনার রিফ্রেশিং ফেসমাস্ক রেডি। মধু শুধু ত্বকে হাইড্রেশনই প্রদান করে না। ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে।

পেঁপে ও কলার প্যাক: এখন আমরা অনেকেই বুঝতে পারছি আবহাওয়ার চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। আগের মতো গরমে প্যাচপ্যাচে অবস্থা নেই। বরং গ্রীষ্ম এখন অনেক বেশি শুষ্ক। এই প্যাক ত্বকের আর্দ্রতাকে ধরে রাখে। এই সময় অনেকের স্কিনে এখন ড্রাই প্যাচের সমস্যা দেখা যায়। সেক্ষেত্রেও এই প্যাক কিন্তু অসাধারণ। এই প্যাকের সঙ্গে মধু বা অ্যালোভেরাও মেশাতে পারেন। এতে ত্বকে কুলিং এফেক্ট ও উজ্জ্বলতা আসবে।

আমন্ড ফেসপ্যাক: স্কিনকে হাইড্রেট করতে এর জুড়ি মেলা ভার। সারারাত আমন্ড ভিজিয়ে রাখুন। তারপর গ্রাইন্ডারে আমন্ড গ্রাইন্ড করে নিন। এবার নিজের স্কিন বুঝে তাতে উপকরণ মেশান। যদি ত্বক কিছুটা শুষ্ক প্রকৃতির হয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে মধু মেশিয়ে নিন। তবে অতিরিক্ত তৈলাক্ত হলে মধুর বদলে মুলতানি মাটি ব্যবহার করুন।

রাইস ওয়াটার: বর্তমানে স্কিনকেয়ারে কোরিয়ান প্রীতির কথা আমরা কম বেশি সকলেই জানি। তাদের মতো গ্লাস স্কিনের সৌন্দর্য আমরা কে না চাই। প্রথমে কিছুটা চাল সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সেই চাল ভেজানো জল একটা স্প্রে বোতলে রেখে দু থেকে তিন দিন রেফ্রিজারেটরে রেখে দিন। দিনে তিনবার মুখে স্প্রে করতে পারেন।

চন্দন ও গোলাপজল: তবে আমাদের দেশেও রূপচর্চা কিন্তু খুব কম হত না। প্রত্যেক রাজবাড়ির অন্দরে ঘুরলে এমন কত রূপকথার গল্প শোনা যায়। সেখানে সবচেয়ে যার ব্যবহার হত, তা হল চন্দন ও গোলাপ জল। চন্দন ও গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়েও মুখে মাখতে পারেন। যদি স্কিনে ট্যান হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে খুব কম পরিমাণে হলুদও ব্যবহার করতে পারেন।

প্রফেশনাল সাহায্য: এখন সময় নিজেকে খানিক নিজেকে খানিক প্যামপারিং করা, একটু বেশি যত্ন করা। তার জন্য হবু কনেদের সালতে যাওয়া তো এখন মাস্ট। তবে অনেকেই বড্ডো দেরিতে আসেন। খেয়াল রাখবেন তিনমাস আগে থেকেই কিন্তু এই শুরুটা হয়ে যাওয়া উচিত। তিনমাস আগে না পারলে অন্তত একমাস আগে যান।

 ফেশিয়াল: অনেকেই নিজের স্কিনের প্রকৃতি বুঝতে পারেন না। কোনও ভাল বিউটিশিয়নের কাছে গেলে তিনি আপনাকে আপনার ত্বক বুঝে, কী ফেশিয়াল করতে হবে তা বলে দেবেন। এখন অনেক ফ্রুট ফেশিয়াল আছে, সেগুলোও কিন্তু সামার ব্রাইডের জন্য অত্যন্ত ভাল। এছাড়াও অনেক উন্নত প্রযুক্তিও এসে গেছে। কিন্তু ওই আবার ‘শিরে সংক্রান্তি’ করে আসবেন না। নিজের ত্বককেও তো একটু নতুন রকম জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে সময় দিতে হবে।

স্পা: বিয়ের সময় যত এগিয়ে আসে কনেদের মধ্যে থিঙ্কিং অভারথিঙ্কিংয়ের পাহাড় জমতে থাকে। বিশেষ দিনটাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে নানারকম টেনশন দেখা যায়। যার ফল পড়ে ত্বকে। হঠাত করেই কোনও নাছোড়বান্দা অ্যাকনে ত্বকে উদ্ভূত হয়। সেই জন্য এই সময় হবু কনেদের প্রথম দরকার মানসিক চাপ মুক্ত হওয়া। অ্যারোমাথেরাপি কিন্তু সেই জন্য আদর্শ। এছাড়াও আরও একটু বাড়তি যত্নের জন্য নানা ধরনের স্পায়ের সাহায্য নিতেই পারেন।

বডিকেয়ার, পেডিকিয়র ম্যানিকিয়র:  সমস্যা হল আমরা যত বেশি মুখের যত্ন নি, সেই মতো পিঠ, ঘাড়ের যত্ন নেওয়া হয় না। আর পা তো বেচারা এই সকল প্রকার যত্ন থেকে সবসময়তেই ব্রাত্য। কিন্তু হবু কনেদের তো শুধু মুখ না নিজেকে সবটুকুর যত্ন নিতে হবে। সে জন্য বডি স্ক্রাব করতে পারেন। উবটন, মুলতানি মাটি, ব্যাসন, চন্দন নানা কিছুর মাধ্যমে বডি স্ক্রাবিং, বডি পলিশিং করানো হয়ে থাকে। এছাড়া আরও একটু যত্নের জন্য বডি স্পাও করা যেতে পারে। হাত ও পায়ের যত্নে পেডিকিয়র ও ম্যনিকিয়র করা তো মাস্ট। এতে হাত-পায়ের সঙ্গে নখও সুন্দর হয়ে ওঠে।

চুলের যত্নে: এই সময় চুলে এমনিতেই ঘাম জমে যায়। ফলে বাইরের ধুলো-বালিও চুলে এসে লাগে। তাই ছোট চুল হলে প্রতিদিন ও বড় চুলের ক্ষেত্রে একদিন অন্তর শ্যাম্পু করে নিন। স্কাল্পে আলাদা আলাদা করে খুব বেশি তেল দেবেন না। এই সময় স্ক্যাল্প খুব বেশি অয়েলি হয়ে যায়। এরপর আরও বেশি তেল দিলে স্ক্যাল্পের রোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ড্যানড্রফ, হেয়ারফলের মতো সমস্যা হতে পারে। তাই নারকেল তেলের বদলে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করুন। তাও স্ক্যাল্পে নয় হেয়ারে হালকা হাতে মাসাজ করুন। একটু বাড়তি যত্নে জন্য হেয়ার স্পাও করাতে পারে।

বাড়তি প্রসাধনি নয়: এই ঋতুর এক বড় সমস্যা হল অত্যাধিক ঘাম হওয়া। ফলে খুব বেশি মেক আপ ব্যবহার করলে তা গরমে গলে গিয়ে ত্বকের রোম ছিদ্রে জমা হয়। আর স্কিন পোরস বন্ধ হলে তা থেকে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয়ে যে স্কিন র‍্যাশ বা অ্যাকনের সমস্যা হতে পারে, সে তো আর নতুন করে বলার নেই। তাই চেষ্টা করুন স্কিনকে ব্রিদ করাতে। বিশেষ দিনটি তো আপনার জন্যই। সেখানে তো বাড়তি সুন্দর হয়ে উঠতে মেক আপ ব্যবহার হবেই। তাই তার আগে বাড়তি প্রসাধনীতে রাশ টানুন।

ভাল খাবার

সুন্দর হওয়ার জন্য সুস্থ হওয়া খুব জরুরি। তাই জন্য দরকার সঠিক ডায়েট। এইসময় ট্যান পড়ার কারণে ত্বকের সতেজতা নষ্ট হয়। এই জন্য খাদ্যতালিকায় এমন ফল রাখুন, যা শরীর হাইড্রেট করবে। প্রথমেই কিন্তু এই সময় জলপানের পরিমাণ অনেকটাই বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ জল  ডায়েটে রাখলে তা শরীরের সঙ্গে সঙ্গে ত্বককেও সুন্দর করে। এই সময় এমন ধরনের ফল বা শাকসবজি খান যাতে, জলের পরিমাণ বেশি। সেক্ষেত্রে পেঁপে তরমুজ, ডাবের জল, শশা খুবই উপকারি। এই সময় চেষ্টা ইনফিউসড ওয়াটার সঙ্গে রাখতে। সেখানে পেঁপে, শসা, পুদিনা পাতা, পাতি লেবু বা আরও কিছু পছন্দের সবজি রেখে দিন। এতে জলের স্বাদ যেমন বাড়বে, ত্বকের  জেল্লাও বৃদ্ধি করবে। বাড়িতে তৈরি করা ভেজিটেবল জুসও খেতে পারেন। কিন্তু বাইরের কেনা ফ্রুট জুস কিন্তু খাবেন না। ড্রাই ফ্রুটস বা সিডসও খাদ্যতালিকায় রাখুন। মাথায় রাখুন কোনও অবস্থাতেই কিন্তু শরীরচর্চা বাদ দেওয়া ‘নইব নইব চ’। আর তার সঙ্গে চাই লম্বা ঘুম। রাতে নিশ্চিন্তে ৬-৭ ঘণ্টা ঘুমোন। তাতে মানসিক চাপও যেমন কমবে, ত্বকে উজ্জ্বলতা আসবে। ডার্ক সার্কেলের সমস্যা আসবে না।

সব শেষে সেই দিনটা আপনার। সেই দিনে ক্যামেরা বেস্ট দেখার চাপ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং হয়ে ওঠার চাপ না নিয়ে মুহূর্তগুলোকে আনন্দের সঙ্গে বাঁচুন। নতুন জীবন শুরু করবেন তার জন্য আনন্দে, হাসি খুশিতে থাকুন তাহলেই তার ছাপ ত্বকে পড়তে বাধ্য। আর তার সঙ্গে থাকুক বাড়তি যত্নের যুগলবন্দি।