মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার অভিযোগ

বরগুনার তালতলীতে দোয়েল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রসূতিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় নাবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধা ৭ টার দিকে উপজেলার হাসপাতালে পূর্ব পাশে দোয়েল ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
নবজাতকের বাবা ইব্রাহিম খলিল জানান, স্ত্রীর প্রসববেদনা ওঠায় দোয়েল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার কিছু টেষ্ট দেয়। টেস্ট রির্পোট পেয়ে ক্লিনিকে কর্তৃপক্ষ বলেন দ্রুত সিজার করাতে হবে। নাহলে বাচ্চা বাঁচানো যায়বে না। পরে দোয়েল ক্লিনিকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৮ হাজার টাকায় চুক্তি করেন যে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনকে দিয়ে করাবেন। সেই অনুয়ায়ী ক্লিনিকের সকল নিয়ম মেনে তার স্ত্রীকে ভর্তি করানো হয়। পরে সন্ধা সাড়ে ৬ টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে কর্তবরত চিকিৎস রুনা রহমান সিজার করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা অপারেশন থিয়েটারে রেখে সিজার করা হয়। এ সময় নাবজাতকের পিঠ কেটে ফেলেন ঐ ডাক্তার। এর কিছুক্ষন পরে নাবজাতককে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে পিঠ কেটে ফেলার বিষয়ে কাউকে কিছু বলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তার। দীর্ঘক্ষন নাবজাতকের কান্নাকাটি করার এক পর্যায় দেখে পিঠ কেটে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার তেমন গুরুত্ব দেয়নি। বিষয়টি জানাজানি ঘটনাস্থালে পুলিশ যায়। এই ক্লিনিকে আগেও একটি বাচ্চা অপারেশনের সময়ে মারা গেছে। এছাড়াও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এর আগের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
প্রসূতির স্বামী ইব্রাহিম খলিলের অভিযোগ তার স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে প্রায় দেড় ঘন্টা রেখে সিজার করেন ও মেয়ে সন্তান জন্ম হয়। তবে ডাক্তারের ভুলে আমার মেয়ের পিঠ কেটে ফেলে আমাদের কাছে দেয়। তবে আমাদের কাছে কিছু বলেনি যে এই পিঠ কেটে ফেলেছে । বাচ্চার কান্নাকাটি করার পরে দেখি পিঠের ওখানে অনেকখানি কেটে গেছে। বাচ্চা বেডে দেওয়ার সময় কেউ কিছু বলেনি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।
 এ বিষয়ে জানতে দোয়েল ক্লিনিকের মালিক রাসেল মিয়াফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোন ধরেনি।  এছাড়াও চিকিৎসক রুনা রহমানের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।  তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প.প কর্মকর্তা ড. সুমন পোদ্দার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনার সিভিল সার্জন মোঃ ফজলুল হক বলেন, নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার খবর পাওয়ার পর আমি সরেজমিন তদন্তে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা এবং আরএমও কে নির্দেশ দিয়েছি। ওই চিকিৎসকের গাফেলতি ছিলো কিনা, তাঁর চিকিৎসার অনুমতিসহ কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা বা ক্লিনিকটি বৈধ কিনা সব যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 তালতলী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ক্লিনিকে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ গা ঢাকা দিয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪
বরগুনার তালতলীতে দোয়েল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রসূতিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় নাবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধা ৭ টার দিকে উপজেলার হাসপাতালে পূর্ব পাশে দোয়েল ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।
নবজাতকের বাবা ইব্রাহিম খলিল জানান, স্ত্রীর প্রসববেদনা ওঠায় দোয়েল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার কিছু টেষ্ট দেয়। টেস্ট রির্পোট পেয়ে ক্লিনিকে কর্তৃপক্ষ বলেন দ্রুত সিজার করাতে হবে। নাহলে বাচ্চা বাঁচানো যায়বে না। পরে দোয়েল ক্লিনিকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৮ হাজার টাকায় চুক্তি করেন যে একজন বিশেষজ্ঞ সার্জনকে দিয়ে করাবেন। সেই অনুয়ায়ী ক্লিনিকের সকল নিয়ম মেনে তার স্ত্রীকে ভর্তি করানো হয়। পরে সন্ধা সাড়ে ৬ টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলে কর্তবরত চিকিৎস রুনা রহমান সিজার করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা অপারেশন থিয়েটারে রেখে সিজার করা হয়। এ সময় নাবজাতকের পিঠ কেটে ফেলেন ঐ ডাক্তার। এর কিছুক্ষন পরে নাবজাতককে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে পিঠ কেটে ফেলার বিষয়ে কাউকে কিছু বলেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা ডাক্তার। দীর্ঘক্ষন নাবজাতকের কান্নাকাটি করার এক পর্যায় দেখে পিঠ কেটে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার তেমন গুরুত্ব দেয়নি। বিষয়টি জানাজানি ঘটনাস্থালে পুলিশ যায়। এই ক্লিনিকে আগেও একটি বাচ্চা অপারেশনের সময়ে মারা গেছে। এছাড়াও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এর আগের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
প্রসূতির স্বামী ইব্রাহিম খলিলের অভিযোগ তার স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে প্রায় দেড় ঘন্টা রেখে সিজার করেন ও মেয়ে সন্তান জন্ম হয়। তবে ডাক্তারের ভুলে আমার মেয়ের পিঠ কেটে ফেলে আমাদের কাছে দেয়। তবে আমাদের কাছে কিছু বলেনি যে এই পিঠ কেটে ফেলেছে । বাচ্চার কান্নাকাটি করার পরে দেখি পিঠের ওখানে অনেকখানি কেটে গেছে। বাচ্চা বেডে দেওয়ার সময় কেউ কিছু বলেনি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই।
 এ বিষয়ে জানতে দোয়েল ক্লিনিকের মালিক রাসেল মিয়াফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোন ধরেনি।  এছাড়াও চিকিৎসক রুনা রহমানের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।  তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প.প কর্মকর্তা ড. সুমন পোদ্দার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনার সিভিল সার্জন মোঃ ফজলুল হক বলেন, নবজাতকের পিঠ কেটে ফেলার খবর পাওয়ার পর আমি সরেজমিন তদন্তে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা এবং আরএমও কে নির্দেশ দিয়েছি। ওই চিকিৎসকের গাফেলতি ছিলো কিনা, তাঁর চিকিৎসার অনুমতিসহ কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা বা ক্লিনিকটি বৈধ কিনা সব যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 তালতলী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ক্লিনিকে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ গা ঢাকা দিয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেয়া হবে।