মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে দুদক

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন।

দুদক সচিব বলেন, ‘পত্রিকা এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় যেভাবে প্রচারিত হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সেসব তথ্য সঠিক হয়েছে কি না, আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যবিধিতে পড়ে এ ধরনের অনুসন্ধান চালানো। সে জন্য ঈদুল ফিতরের পরপরই যখন আমাদের কমিশন সভা ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়, উক্ত সভায় সেসব তথ্য বিবেচনায় নিয়ে- ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমাদের অনুসন্ধানী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

বেনজীরকে বা তার পরিবারের সদস্যদেরে ডাকা বা তলবে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না- জানতে চাইলে খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, ‘আমাদের কমিশন সভায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে তদারকি করার জন্য একজন তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চলাকালে অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় যা যা প্রয়োজন সব কিছু বিধি মোতাবেক করা হবে।’

দুদকের এই কার্যক্রম আইওয়াশ কি না, অনুসন্ধান করে তাকে ক্লিন সার্টিফিকেটও দেওয়া হতে পারে- এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের কথা কখনোই সত্য নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন যে মোটো নিয়ে কাজ করে, সেটির টোটালটাই বলবৎ থাকবে।’

এর আগে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকে আবেদন করেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই আবেদন করেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান বরাবর করা আবেদনে ব্যারিস্টার সুমন গত ৩১ মার্চ একটি দৈনিকে প্রকাশিত বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদের কথা উল্লেখ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে সাবেক মহাপরিদর্শক তার স্ত্রী, দুই মেয়ের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৬টি কোম্পানি, রাজধানীর উচ্চবিত্ত এলাকায় দামি ফ্ল্যাট ও বাড়ি, বেস্ট হোল্ডিংয়ে শেয়ার, ফাইভ স্টার হোটেল- লা মেরিডিয়ান ঢাকা-এর শেয়ার, গোপালগঞ্জের ‘সাভানা ইকো রিসোর্ট’, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৪১৮ ডিসিমালের বিশাল জমি। এসব সম্পদ বেনজীর, তার স্ত্রী এবং কন্যাদের বৈধ আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানের আবেদন জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে দুদক

প্রকাশের সময় : ০৬:২১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন।

দুদক সচিব বলেন, ‘পত্রিকা এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় যেভাবে প্রচারিত হয়েছে এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সেসব তথ্য সঠিক হয়েছে কি না, আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যবিধিতে পড়ে এ ধরনের অনুসন্ধান চালানো। সে জন্য ঈদুল ফিতরের পরপরই যখন আমাদের কমিশন সভা ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়, উক্ত সভায় সেসব তথ্য বিবেচনায় নিয়ে- ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে আমাদের অনুসন্ধানী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

বেনজীরকে বা তার পরিবারের সদস্যদেরে ডাকা বা তলবে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না- জানতে চাইলে খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, ‘আমাদের কমিশন সভায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে তদারকি করার জন্য একজন তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চলাকালে অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় যা যা প্রয়োজন সব কিছু বিধি মোতাবেক করা হবে।’

দুদকের এই কার্যক্রম আইওয়াশ কি না, অনুসন্ধান করে তাকে ক্লিন সার্টিফিকেটও দেওয়া হতে পারে- এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ধরনের কথা কখনোই সত্য নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন যে মোটো নিয়ে কাজ করে, সেটির টোটালটাই বলবৎ থাকবে।’

এর আগে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকে আবেদন করেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই আবেদন করেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান বরাবর করা আবেদনে ব্যারিস্টার সুমন গত ৩১ মার্চ একটি দৈনিকে প্রকাশিত বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদের কথা উল্লেখ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে সাবেক মহাপরিদর্শক তার স্ত্রী, দুই মেয়ের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ৬টি কোম্পানি, রাজধানীর উচ্চবিত্ত এলাকায় দামি ফ্ল্যাট ও বাড়ি, বেস্ট হোল্ডিংয়ে শেয়ার, ফাইভ স্টার হোটেল- লা মেরিডিয়ান ঢাকা-এর শেয়ার, গোপালগঞ্জের ‘সাভানা ইকো রিসোর্ট’, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৪১৮ ডিসিমালের বিশাল জমি। এসব সম্পদ বেনজীর, তার স্ত্রী এবং কন্যাদের বৈধ আয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানের আবেদন জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।