মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আইনগত সহায়তা সংস্থায় আমার কোনো রোল নেই: প্রধান বিচারপতি

ছবি-সংগৃহীত

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালনা বোর্ডে যারা আছেন তাদের বেশির ভাগই আমলা। এর সভাপতি মন্ত্রী। এই পরিচালনা বোর্ডে প্রধান বিচারপতির কোনো প্রতিনিধি নেই। আইনি সেবার মতো জাতীয় এই সংস্থায় প্রধান বিচারপতির কোনো ভূমিকা নেই।

মঙ্গলবার (১৪ মে) জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ‘স্মার্ট লিগ্যাল এইড, স্মার্ট দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এবং ‘উচ্চ আদালতে স্মার্ট আইনি সেবার প্রসার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে লিগ্যাল এইড কমিটি রয়েছে। এই কমিটির যিনি সভাপতি হন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি। কমিটিতে কারা কারা থাকবেন তাও বলা আছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সেখানে মেম্বার আছেন, পদাধিকার বলে। আমার দেওয়া না দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। সচিবরা আছেন। দুজনকে মনোনয়ন দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। লিগ্যাল এইড, আইনি সেবা, সেখানে প্রধান বিচারপতির রোল নেই? সুপ্রিম কোর্টের যে কমিটি আছে সেটি কার অধীন? কার সঙ্গে কাজ করবে? কমিটির চেয়ারম্যান কার কাছে দায়বদ্ধ? প্রধান বিচারপতির কাছে না-কি জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার কাছে?’

তিনি বলেন, ‘ভারতেও লিগ্যাল এইড সংস্থা আছে। ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটি। যিনি ওই সংস্থার প্রধান হন, তিনি একজন সিনিয়র জেলা জজ। তাকে মনোনয়ন দেন সে দেশের প্রধান বিচারপতি। পর্যাপ্ত বাজেটও আসে সে দেশের সরকার থেকে। ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে বিচার বিভাগের প্রাধান্য রয়েছে। অথচ আমাদের এখানে বাজেট অপ্রতুল। এখানে কমিটির বেশির ভাগই আমলা। এরা অমুক মন্ত্রণালয়, তমুক মন্ত্রণালয়ের সচিব। এ জন্য বলছি, ওই দেশের চিন্তার সঙ্গে আমাদের চিন্তার পার্থক্য দেখুন। আমরা মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করলাম। আগে কমিশনের চেয়ারম্যান হতেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি। আর এখন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কারা হন, এগুলো নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘লিগ্যাল এইডকে স্মার্ট করতে গেলে যারা লিগ্যাল এইড দেবেন অর্থাৎ আইনজীবীরা তাদেরকে আগে স্মার্ট হতে হবে। এই স্মার্টনেস শুধু পোশাক-আশাকে নয়, এই স্মার্টনেস হচ্ছে আপনাকে আইন জানতে হবে। দুস্থ বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।’

আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘শুধু স্মার্ট স্লোগান দিলেই হবে না, সঠিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে দুস্থ বিচারপ্রার্থীদের যথাযথ আইনি সেবা দিতে হবে। হাইকোর্ট বিভাগের যত বেঞ্চ রয়েছে, এসব বেঞ্চ যদি প্রতি মাসে একটি এবং আপিল বিভাগ দুটি করে লিগ্যাল এইডের মামলা নিষ্পত্তি করেন তাহলে বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হবেন। দ্রুত মামলাগুলো নিষ্পত্তি হবে।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।

সূত্র-খবরের কাগজ

আইনগত সহায়তা সংস্থায় আমার কোনো রোল নেই: প্রধান বিচারপতি

প্রকাশের সময় : ০১:৫২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪

প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালনা বোর্ডে যারা আছেন তাদের বেশির ভাগই আমলা। এর সভাপতি মন্ত্রী। এই পরিচালনা বোর্ডে প্রধান বিচারপতির কোনো প্রতিনিধি নেই। আইনি সেবার মতো জাতীয় এই সংস্থায় প্রধান বিচারপতির কোনো ভূমিকা নেই।

মঙ্গলবার (১৪ মে) জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ‘স্মার্ট লিগ্যাল এইড, স্মার্ট দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এবং ‘উচ্চ আদালতে স্মার্ট আইনি সেবার প্রসার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে লিগ্যাল এইড কমিটি রয়েছে। এই কমিটির যিনি সভাপতি হন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি। কমিটিতে কারা কারা থাকবেন তাও বলা আছে। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সেখানে মেম্বার আছেন, পদাধিকার বলে। আমার দেওয়া না দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। সচিবরা আছেন। দুজনকে মনোনয়ন দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। লিগ্যাল এইড, আইনি সেবা, সেখানে প্রধান বিচারপতির রোল নেই? সুপ্রিম কোর্টের যে কমিটি আছে সেটি কার অধীন? কার সঙ্গে কাজ করবে? কমিটির চেয়ারম্যান কার কাছে দায়বদ্ধ? প্রধান বিচারপতির কাছে না-কি জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার কাছে?’

তিনি বলেন, ‘ভারতেও লিগ্যাল এইড সংস্থা আছে। ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটি। যিনি ওই সংস্থার প্রধান হন, তিনি একজন সিনিয়র জেলা জজ। তাকে মনোনয়ন দেন সে দেশের প্রধান বিচারপতি। পর্যাপ্ত বাজেটও আসে সে দেশের সরকার থেকে। ১০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেখানে বিচার বিভাগের প্রাধান্য রয়েছে। অথচ আমাদের এখানে বাজেট অপ্রতুল। এখানে কমিটির বেশির ভাগই আমলা। এরা অমুক মন্ত্রণালয়, তমুক মন্ত্রণালয়ের সচিব। এ জন্য বলছি, ওই দেশের চিন্তার সঙ্গে আমাদের চিন্তার পার্থক্য দেখুন। আমরা মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করলাম। আগে কমিশনের চেয়ারম্যান হতেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি। আর এখন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কারা হন, এগুলো নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘লিগ্যাল এইডকে স্মার্ট করতে গেলে যারা লিগ্যাল এইড দেবেন অর্থাৎ আইনজীবীরা তাদেরকে আগে স্মার্ট হতে হবে। এই স্মার্টনেস শুধু পোশাক-আশাকে নয়, এই স্মার্টনেস হচ্ছে আপনাকে আইন জানতে হবে। দুস্থ বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।’

আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘শুধু স্মার্ট স্লোগান দিলেই হবে না, সঠিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে দুস্থ বিচারপ্রার্থীদের যথাযথ আইনি সেবা দিতে হবে। হাইকোর্ট বিভাগের যত বেঞ্চ রয়েছে, এসব বেঞ্চ যদি প্রতি মাসে একটি এবং আপিল বিভাগ দুটি করে লিগ্যাল এইডের মামলা নিষ্পত্তি করেন তাহলে বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হবেন। দ্রুত মামলাগুলো নিষ্পত্তি হবে।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক প্রমুখ।

সূত্র-খবরের কাগজ